৩০ মার্চ ২০২০

অবিলম্বে ‘চিকিৎসা জরুরি অবস্থা’ জারি করুন : বিএনপি

-

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় অবিলম্বে বাংলাদেশে ‘চিকিৎসা জরুরি অবস্থা’ জারির আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসের দিন সকালে এক ভিডিও কনফারেন্সে এই দাবি জানিয়ে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে ‘চিকিৎসা জরুরি অবস্থা’ জারির আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, দেশ এখন মহাসঙ্কট অতিক্রম করছে। এটি এখন মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্ন। এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সবাইকে যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের কাছে অবশ্যই বর্তমান সরকারের বৈধতার সঙ্কট রয়েছে। এরপরও দেশের এই সঙ্কট মোকাবেলায় বিএনপি বর্তমান সরকারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত। বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশ ও মানুষের কল্যাণের জন্যই রাজনীতি। কেননা আমরা আজ এমন এক সময়ে আপনাদের সাথে কথা বলছি, যখন গোটা বিশ্ববাসী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়াবহতায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সমগ্র বিশ্ব এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলছে। মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে দেশে দেশে। প্রতি মুহূর্তে নতুন আক্রান্ত আর মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। লকডাউন, আইসোলেশন, সেল্ফ কোয়ারেন্টিনে সম্পূর্ণরূপে থমকে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। প্রতিটি দেশ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে পরিত্রাণ পেতে অন্য দেশ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। ভয়ঙ্কর এক কঠিন পরিস্থিতিতে উপনীত হয়েছি আমরাসহ বিশ^বাসী। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিশ্চিত করার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় টেস্ট কিট, চিকিৎসকদের পিপিই কিংবা হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইসিইউর অভাব। সারা দেশের হাসপাতাল থেকে হাজার হাজার স্যাম্পল আসছে অথচ টেস্ট করতে পারছে মাত্র ৭০-৮০টি। এই অপ্রস্তুত দৃশ্যপটের মধ্যে সামনে আরো কঠিন পরিস্থিতি ধেয়ে আসছে। গোটা দেশবাসী শঙ্কিত-আতঙ্কিত। এই অবস্থার দ্রুত অবসান জরুরি।
রিজভী বলেন, এই ভয়াল দুর্যোগময় সময়ে মহাক্রান্তিকালে দেশবাসী, সরকার, সাধারণ জনগণ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যের প্রতি সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোররাতে লন্ডনে এক ভিডিও বক্তৃতায় করোনাভাইরাস মোকাবেলায় অবিলম্বে দেশে ‘চিকিৎসা জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছেন তা কার্যকর করার জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন রিজভী, যা বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে আছে।
তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে রিজভী বলেন, ডাক্তারসহ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সাথে জড়িত প্রত্যেকের কাজকে অত্যাবশ্যকীয় ঘোষণা এবং বিশেষ বোনাস প্রদান করতে হবে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত মেডিক্যাল সরঞ্জাম, পিপিই, করোনা টেস্ট কিট সরবরাহ করে দেশের প্রতিটি উপজেলায় করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। প্রবীণ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকা নাগরিকদের চিকিৎসা সেবায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ, করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষি শ্রমিক, গার্মেন্ট ও শিল্প কারখানার শ্রমিক এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে আর্থিক সহায়তার উদ্দেশে দ্রুততার সাথে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। আগামী ছয় মাসের জন্য জাতীয় কিংবা স্থানীয় সব নির্বাচন স্থগিত করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। আমরা মনে করি দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রতিটি দাবিই অত্যন্ত যৌক্তিক। আমরা এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার ভিডিও বার্তায় তার মা বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির ঘোষণায় আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘দেশে গণতন্ত্রকামী জনগণের কাছে এটি অবশ্যই আনন্দ ও স্বস্তির খবর। সন্তান হিসেবে এজন্য আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই।’ দেশের চলমান সঙ্কটকে সবার জন্যই মহাবিপদ উল্লেখ করে আতঙ্কিত না হয়ে বরং সাহস ও ধৈর্য নিয়ে এবং নিরাপদ থাকার সব নির্দেশনা অনুসরণ করে পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
রিজভী বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরো বলেছেন, দোষারোপের রাজনীতি আর কথার ফুলঝুরি নয় এই বিপদ মোকাবেলায় প্রতিটি মানুষকে দায়িত্বশীল নাগরিকের ভূমিকা পালন করতে হবে। সবার আগে প্রয়োজন রাষ্ট্র ও সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ। কেননা বর্তমান বিপদ মোকাবেলায় ‘লকডাউন’ ‘কোয়ারেন্টিন’ কিংবা ‘সেলফ আইসোলেশন’ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এমন পরিস্থিতির সাথে দেশের জনগণ ততটা পরিচিত নয়। তাই এসব পদক্ষেপ সফল করতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা প্রয়োজন। যাতে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ সক্রিয়ভাবে ‘লকডাউন’, ‘কোয়ারেন্টিন’ কিংবা ‘সেলফ আইসোলেশন’ প্রক্রিয়ার সফল প্রয়োগ ঘটাতে পারে। তা না হলে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে দেশ ও জনগণকে চড়া মূল্য দিতে হবে। সব ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কঠিন ত্যাগের বিষয়টি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে বলেন, আপনাদের এই ত্যাগ সারাবিশ্ব শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে, করবে। আতঙ্কিত হয়ে বেশি মাত্রায় কেনাকাটা করে ঘরে মজুদ না করার আহ্বান জানান তিনি।
রিজভী জানান, দেশের ৬৮টি কারাগারে লক্ষাধিক বন্দীর মধ্যেও করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিয়েছে, যা উদ্বেগজনক। এমতাবস্থায় একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য হলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কয়েদি বিশেষ করে রাজনৈতিক বিবেচনায় বন্দীদের কারামুক্ত করা কথা বলেছেন তারেক রহমান। কেননা ইতালি, ইরানসহ অনেক দেশই নিজেদের বেঁচে থাকার স্বার্থেই অনেক কয়েদিকে শর্তসাপেক্ষে মুক্ত করে দিয়েছে। সেইসাথে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাঝে করোনা যাতে হানা দিতে না পারে সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। এসব প্রস্তাব কার্যকর হলে ইনশাআল্লাহ করোনা মোকাবেলা সহজসাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।


আরো সংবাদ