৩০ মার্চ ২০২০

করোনায় ফল বিক্রি কমেছে ৭৫ শতাংশ

শুল্ক ও পোর্ট ডেমারেজ মওকুফ দাবি
-

করোনাভাইরাস আতঙ্কে রাজধানীর বাদামতলী পাইকারি ফলের মার্কেটে দেশী-বিদেশী ফল বিক্রিতে ধস নেমেছে। ইতোমধ্যেই বিক্রি কমেছে ৭৫ শতাংশ। এ কারণে আমদানিকারকরা বন্দর থেকে তাজা ফল শুল্কায়ন করে ডেলিভারি নিতে পারছেন না। ফলে দিন দিন চট্টগ্রাম বন্দরে তাজা ফলবাহী হিমায়িত কনটেইনারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এতে করে বন্দরে কনটেইনার জটের পাশাপাশি সব ধরনের ডেমারেজ চার্জ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাজা ফলের মান কমছে এবং পচন ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যে কারণে এ সেক্টরে বর্তমানে আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা কয়েক হাজার কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। এ ব্যাপারে আমদানিকারকরা ফলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ২ মাসের সম্পূরক শুল্ক (২০%) প্রত্যাহার এবং পোর্ট ডেমারেজ মওকুফের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাদামতলী পাইকারি ফলের বাজার এবং ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা ফল সাজিয়ে বসে আছেন কিন্তু ক্রেতা নেই। তারা জানান, ১০ দিন আগেও ফলের বিক্রি বেশ ভালো ছিল কিন্তু এখন বিক্রি একেবারে কমে যাওয়ায় তারা লোকসানে পড়েছেন। করোনা আতঙ্কে মানুষ এখন নিত্যপণ্য কেনাকাটায় ভিড় করলেও ফল কিনতে আসছেন না। এক সপ্তাহ আগে পাইকারি বাজারে চায়না হানি ফুজি আপেলের ২০ কেজির কার্টন বিক্রি হচ্ছিল ১ হাজার ৪৫০ টাকা দরে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। খুচরা বাজারে এ ফল প্রতি কেজি বিক্রি করা হতো ১৩০-১৪০ টাকায়, কিন্তু বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়। পাইকারি বাজারে ক্রাউন আপেলের ২০ কেজির কার্টন বিক্রি হতো ১ হাজার ৪৫০ টাকায়। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়। গালা আপেল ২০ কেজির কার্টন বিক্রি হতো ২ হাজার ১০০ টাকায়, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়। ছোট চায়না কমলার ১০ কেজির কার্টন বিক্রি হতো ৮০০ টাকায়, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। নাশপাতি ৯ কেজির কার্টন বিক্রি হতো ৯০০ টাকায়, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়।
বাদামতলীর তাজা ফল আমদানিকারক সৈয়দ জাফর হোসেন সোহান নয়া দিগন্তকে জানান, তারা চীন, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, চিলি, মিসর ও নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তাজা ফল আমদানি করেন। কিন্তু করোনাভাইরাস আক্রমণের ভয়ে ক্রেতারা ফল কিনছেন না। তাই ফল বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে গড়ে ৭৫ শতাংশ কমে গেছে। বিক্রি কমে যাওয়ায় ফলে পচন ধরে প্রতিদিনই নষ্ট হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো: সিরাজুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘ফলের ব্যবসা নিয়ে আমরা এখন খুবই চিন্তিত ও আতঙ্কিত। ফল যেহেতু পচনশীল দ্রব্য, এটি তো ধরে রাখতে পারব না। করোনার কারণে ফলের বাজার খুবই খারাপ যাচ্ছে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের আতঙ্কে সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বেশি বেশি করে ক্রয় করছে। ফলমূলের বেচাকেনা নেই বললেই চলে। রমজান মাসের ইফতারিতে সবাই তাজা ফল ও খেজুর খেয়ে থাকেন, আসন্ন রমজান সামনে রেখে তাজা ফল আমদানিকারকরা ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, চিলি, মরক্কো, মিসর, নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তাজা ফল আমদানি করেছে, যা ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস আতঙ্কে, তাজা ফলমূল বিক্রি কমে যাওয়ায় আমদানিকারকরা বন্দর থেকে তাজা ফল শুল্কায়ন করে ডেলিভারি নিতে পারছেন না। ফলে দিন দিন চট্টগ্রাম বন্দরে তাজা ফলবাহী হিমায়িত কনটেইনার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এতে বন্দরে কনটেইনার জটের পাশাপাশি সব ধরনের ডেমারেজ চার্জ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাজা ফলের মান কমছে এবং পচন ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যে কারণে এ সেক্টরে বর্তমানে আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
তাজা ফল আমদানিতে তাদের ৮৯.৩২ শতাংশ ডিউটি প্রদান করতে হয়। এর মধ্যে সম্পূরক শুল্ক রয়েছে ২০ শতাংশ। আগামী ২ মাসের জন্য এই সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার ও পোর্ট ডেমারেজ মওকুফ করা হলে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে এবং রমজান মাসে তাজা ফলের দাম নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তসহ সব মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে।


আরো সংবাদ