২৯ মার্চ ২০২০

করোনার থাবা উন্নয়ন প্রকল্পে

-

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম থেমে যাচ্ছে। অর্থায়ন ও প্রকল্পের জন্য যন্ত্রপাতি আমদানি করা নিয়ে আশঙ্কা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে সংশ্লিষ্ট বিদেশী বিশেষ করে চীনের জনবল দেশে চলে যাওয়ায় পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পসহ অনেক প্রকল্পই নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না। এমনকি চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছর যেসব প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য নির্ধারিত ছিল সেগুলোর মধ্যে বেশ কিছুর কাজ শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। ৩৫৫টি প্রকল্প চলতি বছরই শেষ করার তালিকায় ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এখন সেখান থেকে ৩৮টি বাদ দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় তাদের দু’টি প্রকল্প এ বছর সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত তালিকা থেকে বাদ দিতে পরিকল্পনা কমিশনকে অনুরোধ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের প্রকল্প বাদ দেয়ার জন্য গত ১৯ মার্চ পরিকল্পনা কমিশনে চিঠি দিয়েছে। সিনিয়র সহকারী সচিবের লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ৯৬টি প্রকল্প আছে। যার মধ্যে ১৬টি প্রকল্প চলতি অর্থবছর শেষ করার তালিকায় আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর চীনের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেশ কিছু প্রকল্পের মালামাল সংগ্রহ ও কারিগরি সহায়তা প্রাপ্তিতে সমস্যা হচ্ছে। এ জন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে বি-আর পাওয়ারজেন বাস্তবায়নাধীন মিরসরাই ১৫০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড বাস্তবায়নাধীন টেকনিক্যাল অ্যাসিসট্যান্স প্রজেক্ট ফর ইনস্টিটিউটশনাল স্ট্রেংদেনিং অব রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন প্রোগ্রাম শীর্ষক প্রকল্প দু’টি এ বছর শেষ করা সম্ভব হবে না। তাই সম্ভাব্য সমাপ্তির তালিকা থেকে প্রকল্প দুটো বাদ দেয়া প্রয়োজন।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, চীনের অর্থায়নে ২৭টি প্রকল্প আছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে এ পর্যন্ত পদ্মা বহুমুখী সেতুতে রেল সংযোগ, কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণ, মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত জ্বালানি তেলের পাইপলাইন ও ‘মুরিং’ স্থাপন, জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে তৃতীয় ধাপের উন্নয়ন এবং টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক উন্নয়নÑ এ পাঁচটি প্রকল্পের জন্য ৪২৬ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর মধ্যে চীন এখন পর্যন্ত দিয়েছে ৯৬ কোটি ডলার। এর মধ্যে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগে ৫৩ কোটি ডলার, কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণে ১৯ কোটি ডলার, জ্বালানি তেলের পাইপলাইন নির্মাণে ৮ কোটি ডলার, তথ্যপ্রযুক্তির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে তৃতীয় ধাপের উন্নয়নে ১২ কোটি ডলার ও টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক উন্নয়নে চার কোটি ডলার দেয়া হয়েছে।
এ দিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ১৪টি প্রকল্প চলতি বছর সম্ভাব্য সমাপ্তির তালিকায় ছিল। কিন্তু এখন এসব প্রকল্পের সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো হলো-২০০৯ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া আমার বাড়ি আমার খামার (৩য় সংশোধিত), ২০১০ সালের মার্চে শুরু হওয়া উত্তরাঞ্চলের দরিদ্রদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ কর্মসূচি (২য় পর্যায়), অংশীদারিত্বমূলক পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-৩য় পর্যায়, ২০১৮ সালের জুনে সমাপ্ত হওয়ার কথা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধাসংবলিত সমবায়ভিত্তিক বহুতল ভবন বিশিষ্ট পল্লী জনপদ নির্মাণ প্রকল্প, রংপুরে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি স্থাপন প্রকল্প, জামালপুরে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠা প্রকল্প, বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলার চরাঞ্চলের অধিবাসীদের দারিদ্র্য থেকে উন্নয়ন প্রকল্প, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত ও চর এলাকায় সৌরশক্তি উন্নয়ন প্রকল্প, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ঘাটে গুঁড়ো দুধ কারখানা স্থাপন প্রকল্প এবং দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের পটিয়ায় দুগ্ধ কারখানা স্থাপন প্রকল্প। স্থানীয় সরকার বিভাগের এসব প্রকল্পের কোনো কোনোটির দুই বছর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। আবার কোনো কোনোটির আবেদন প্রক্রিয়াধীন আছে।
ইআরডি সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ চীনে মারাত্মক আকার ধারণ করায় এবং বাংলাদেশও আক্রান্ত হওয়ায় এ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও। মেগা প্রকল্প ছাড়াও সরাসরি চীনা ঋণ, চীনা ঠিকাদারি ও সে দেশের লোকবল কাজ করছে এ রকম সব প্রকল্পেই এ স্থবিরতা চলছে।


আরো সংবাদ