০৮ এপ্রিল ২০২০

করোনা মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সহায়তা চাইলেন অর্থমন্ত্রী

-

করোনার কারণে জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) এক দশমিক ১ শতাংশ ক্ষতি হবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এই ক্ষতি মোকাবেলায় তিনি বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
করোনা পরিস্থিতি এবং সহযোগিতা নিয়ে তিনি গতকাল বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সদর দফতরের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে এসব কথা বলেন। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ ভিডিও কনফারেন্সে এ সময় উপস্থিত ছিলেনÑ এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো: রহমাতুল মুনিম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো: আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির নিজ দফতর থেকে এ কনফারেন্সে যুক্ত হয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভিডিও কনফারেন্সে অর্থমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যেমন, বিগত তিন বছর ধরে ধারাবাহিক ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারাবাহিকতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। আমরা এ বছর ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আশা করছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের এই ঈর্ষণীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রধান চালিকা শক্তি হচ্ছে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সহায়ক রাজস্ব ও মুদ্রানীতি। দুর্ভাগ্যক্রমে, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশের ক্ষতি জিডিপির ১ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের বিশ্লেষণে এ আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে। যখন আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির লক্ষ্যগুলো অর্জনসহ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার অপেক্ষায় আছি এমন একটি সময়ে বাংলাদেশসহ, বিশ্ব-অর্থনীতি করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন।
বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা সবাই অবগত আছেন, এই মারাত্মক ভাইরাসের সংক্রমণ অতি দ্রুত ছড়ায়। করোনা সংক্রমণ রোধে মরিয়া পদক্ষেপ হচ্ছে লকডাউন, শাটডাউন এবং যোগাযোগ ব্যাহতকরণ, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিবার্যভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বিশ্ব শেয়ারবাজার ইতোমধ্যে ২৮-৩৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই মন্দা দীর্ঘকাল স্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১.৫ শতাংশে নেমে যেতে পারে। বাংলাদেশও এর প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছে।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সঙ্কটটি আমাদের অর্থনীতিকে বহুমাত্রিক দিক থেকে আঘাত করতে পারে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শাট ডাউনের কারণে আমাদের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরী পোশাকের চাহিদা হ্রাসে এ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। করোনার প্রভাবে অবকাঠামো খাতের প্রকল্পগুলোতে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতিকে অনেকটা চাঙ্গা রেখেছে। কিন্তু আমরা উদ্বিগ্ন যে এই করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী বিদেশ থেকে ফিরে এসেছেন। এ জন্য রেমিট্যান্সের ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন।
কোনো দেশের একার পক্ষে এ রকম একটি দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাই এই সঙ্কটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য আমরা আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপকে আমাদের পাশে থাকার অনুরোধ করব। বিশ্বব্যাংক গ্রুপ এবং আইএমএফকে অনুরোধ করব যাতে তারা বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তাদের বৃহত্তর সহযোগিতা নিশ্চিত করে।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংক ১৪ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক তহবিল গঠন করেছে। পাশাপাশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশগুলোর সহায়তার জন্য ৫০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে আইএমএফ। এই অর্থের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলার পাবে স্বল্প আয়ের দেশগুলো। সামনের দিনগুলোতে অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ থেকে একটি বড় সহযোগিতা আশা করছে।


আরো সংবাদ

সেই প্রিয়া সাহা করোনায় আক্রান্ত! (৫০৮৩৩)নিজ এলাকায় ত্রাণ দিয়ে ঢাকায় ফিরে করোনায় মৃত্যু, আতঙ্কে স্থানীয়রা (৪৪৬১১)বেওয়ারিশের মতো সারা রাত সঙ্গীতশিল্পীর লাশ পড়েছিল রাস্তায় (২৬৭২১)দীর্ঘদিন জেলখাটা আসামিদের মুক্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর (২০২৫৬)করোনা ছড়ানোয় চীনকে যে ভয়ঙ্কর শাস্তি দেয়ার দাবি উঠল জাতিসংঘে (১৬৩৮৯)কাশ্মিরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নিহত ভারতীয় দুর্ধর্ষ কমান্ডো দলের সব সদস্য (১৫৫২৩)রোজার ঈদের ছুটি পর্যন্ত বন্ধ হচ্ছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (১৩০৭৯)করোনার লক্ষণ নিয়ে নিজের বাড়িতে মরে পড়ে আছে ব্যবসায়ী, এগিয়ে আসছে না কেউ (১২৮০৫)ঢাকায় নতুন করে ৯টি এলাকা লকডাউন (১০৬৪৩)সবচেয়ে ভয়াবহ দিন আজ : মৃত্যু ৫, আক্রান্ত ৪১ (১০০৬১)