৩০ মার্চ ২০২০

দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেনা টহল শুরু

রাজধানীর গুলশানে সেনাবাহিনীর টহল (বামে), অযথা ঘোরাঘুরি না করতে চট্টগ্রাম নগরীতে মাইকিং : নয়া দিগন্ত -

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসনের সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে টহল শুরু করেছে সেনাবাহিনী।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের সাথে অভিযানে নেমেছে সেনাবাহিনীর ১৭টি টিম। গতকাল সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের ছয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর টিম নগরজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে। নগরীর খুলশী এলাকায় বিদেশী নাগরিকসহ পাঁচজনকে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া একটি কোরিয়ান রেস্টুরেন্ট সিলগালা করা হয়েছে।
জানা গেছে, গতকাল সকাল ৮টার আগেই সেনানিবাস থেকে চট্টগ্রাম নগরী ও উপজেলায় পৌঁছে গেছে সশস্ত্রবাহিনীর ১৭টি টিম। নগরীর খুলশী, আকবর শাহ ও পাহাড়তলী এলাকায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সকাল থেকে অভিযান চলে। সেনা সদস্যরা হ্যান্ডমাইকে লোকজনকে জটলা তৈরি না করার জন্য এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে চলাচলের অনুরোধ করছেন। এর ব্যত্যয় হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দিচ্ছেন সেনাসদস্যরা। এ ছাড়া নগরীর জিইসি এলাকায় সেনা সদস্যরা জটলা পাকানো লোকজনকে বিচ্ছিন্ন এবং ভাসমান দোকান বন্ধ করে দেয়। তারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এভাবে দিনভর অভিযান চালায়। জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার নগরীর খুলশীর ২ নম্বর সড়কে ১২/২ নম্বর ভবনে দক্ষিণ কোরিয়ানদের একটি রেস্টুরেন্ট বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু গতকাল বুধবার সকালে গিয়ে সেটি খোলা দেখা যায় এবং সেখানে দুইজন কোরিয়ান ও তিনজন বাংলাদেশী নাগরিককে পাওয়া যায়। অভিযানকারী দল পাঁচজনকে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়ে রেস্টুরেন্টটি সিলগালা করে দিয়েছে। এ ছাড়া বুধবার সকাল ১০টা থেকে সেনাবাহিনী বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক, বাসা কলোনি পরিদশর্ন করে। এ সময় লাল পতাকা টাঙিয়ে দেয়া হয়।
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহে বুধবার সকাল থেকে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। ময়মনসিংহ সেনানিবাস থেকে সকাল ৮টায় চার প্লাটুন (৮০ জন) সেনা সদস্যের গাড়িবহর বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়কে টহল দেয়। মহানগরীর ব্যস্ততম এলাকা গাঙ্গিনারপাড়, স্টেশনরোড, চরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জটলা করে থাকা লোকজনকে সরিয়ে দেয় সেনাসদস্যরা। এ সময় হ্যান্ডমাইকে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবং অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের না হতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানায় সেনাসদস্যরা। টহল শেষে সার্কিট হাউজ সংলগ্ন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কে অবস্থান নেয় সেনাবাহিনীর। ময়মনসিংহ মহানগর ছাড়াও উপজেলা পর্যায়েও সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে।
এ দিকে সিটি করপোরেশন করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে নগরীজুড়ে মাইকিং করার পাশাপাশি মাস্ক, গ্লাবস, অ্যাফ্রন ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ নিরাপত্তা সামগ্রীও বিতরণ করছে। দিনে ও রাতে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি ছিটাচ্ছে এবং পানি দিয়ে সড়কগুলো ধুয়ে পরিষ্কার করছে। অপর দিকে সংবাদপত্র হকার্স সমিতির সভাপতি জাকির হোসেন জানান, বহুতল ভবনের মালিকদের বাধার কারণে পত্রিকা বিলি করা সম্ভব হচ্ছে না বিধায় বুধবার প্রায় অর্ধশত হকার পত্রিকা বিলি করতে আসেনি। আজ বৃহস্পতিবার থেকে ময়মনসিংহে কোনো হকার পত্রিকা বিলি করবেন না বলেও জানান তিনি।
খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করতে সেনাবাহিনীর ছয় প্লাটুন সদস্য মাঠে নেমেছে। গতকাল বিকেল থেকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীসহ জেলার সড়কগুলোয় টহল শুরু করে সেনা সদস্যরা। খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, প্রয়োজন হলে আরো সেনা সদস্য মাঠে নামানো হবে। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা মাঠে কাজ করছে। এ দিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টিতে খুলনা মহানগরীর ময়লাপোতা, রূপসা স্ট্যান্ড রোড, ডিসি অফিস, ডাকবাংলো মোড়, নিরালা, গল্লামারী এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের হ্যান্ডমাইকে প্রচারণা চালাতে দেখা যায়।


আরো সংবাদ