১১ এপ্রিল ২০২০

চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রাচীন নিদর্শন কোতোয়ালি দরজা

অনন্য স্থাপত্য
-

কোতোয়ালি দরজা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার একটি সুপ্রাচীন নিদর্শন। কোতোয়ালী দরজাকে গৌড়ের সিংহদ্বার বলা হয়। প্রাচীন গৌড়ের উপনগরী হতে মূল রাজধানীতে প্রবেশের একমাত্র মূল ফটক ছিল এটি। নগর পুলিশের ফারসি প্রতিশব্দ ‘কোতওয়াল’-এর অনুকরণে নামকরণ করা হয়েছে। এখানে নগর পুলিশ (কোতওয়াল) গৌড় নগরীর দক্ষিণ দেয়াল রক্ষা করার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। বালিয়াদীঘি ডানে রেখে সোজা উত্তর পশ্চিমে ভারত সীমানার মধ্যে অবস্থিত কোতোয়ালি দরজা। এটি সীমান্তের জিরোলাইন থেকে দেখা যায়।
এর ৩০ ফুট উঁচু ও ১৬ ফুট ৯ ইঞ্চি প্রশস্ত একটি খিলান পথ ছিল। শত্রুর ওপর কামানের গোলা নিক্ষেপের জন্য ফটকটির পূর্ব ও পশ্চিমে বেশ কিছু ছিদ্র ছিল। কোতোয়ালি দরজার মধ্যবর্তী রাস্তা ১৭ ফুট প্রশস্ত। বর্তমানে খিলান ভেঙে পড়েছে। এটি সম্পূর্ণরূপে গৌড়িয়া ইটের তৈরি। নগর রক্ষা দুর্গের ফটকগুলোর স্থাপত্য রীতির চেয়ে এ ফটকটির স্থাপত্য রীতি অনেক আগের। ভেতরে ও বাইরে প্রতিটি সম্মুখভাগে ছয় ফুট ব্যাস বিশিষ্ট দু’টি করে মোট চারটি অর্ধবৃত্তাকার বুরুজ রয়েছে। বুরুজগুলোর প্রতি পার্শ্বে অলকৃত স্তম্ভের ওপর স্থাপিত সুচাল খিলানযুক্ত গভীর কুলাঙ্গী রয়েছে। এ তোরণ অভ্যন্তরে সশস্ত্র প্রহরীদের আবাস কক্ষগুলো বিভিন্ন প্রকার নকশাযুক্ত কারুকাজ ও পোড়া মাটির অলঙ্করণে সুসজ্জিত। এখানে কোনো শিলালিপি না থাকায় কোতোয়ালি দরজা নির্মাণের উদ্দেশ সম্পর্কে বেশ কিছু মত প্রচলিত আছে। নিম্নে তিনটি মত দেয়া হলো।
জেনারেল ক্যানিং হ্যামের মতে, এটি সুলতান আলাউদ্দীন খলজীর মৃত্যুর পর গৌড় লখনৌতিতে দিল্লির আধিপত্য কায়েমের সময় নগর রক্ষা প্রাচীর অভ্যন্তরে এ বিশালাকার তোরণটি নির্মিত হয়। এ মত সমর্থন করলে তোরণটি সম্ভবত ১২২৯ খ্রি: ৬২৭ হিজরি সনের কিছু পর নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
ড. দানির মতে বাংলার সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলের প্রথমার্ধে পাণ্ডুয়া হতে গৌড়ে রাজধানী স্থানান্তর হওয়ার পর রাজধানীর নগর দ্বার হিসেবে এটি নির্মিত হয়। এম আবিদ আলী খানের মতে, ফটকটি সুলতান ইলতুতমিশ ও মুহাম্মদ আলাউদ্দীন খলজীর মৃত্যুর (১৩১৫ খ্রি:) মধ্যবর্তী কোনো সময়কার।

 


আরো সংবাদ