০২ অক্টোবর ২০২০

সরকারকে বন্ধুরাষ্ট্র ও অংশীজনের সাথে এক সাথে কাজ করার আহ্বান ডিসিসিআইর

-

করোনাভাইরাসের মারাত্মক প্রভাব থেকে জনগণ ও অর্থনীতিকে মুক্ত করতে সরকারকে তার আন্তর্জাতিক বন্ধুরাষ্ট্র ও অংশীজনের সাথে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সেই সাথে অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবেলায় বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিসিসিআই জানায়, এ মুহূর্তে বিশ্বের অর্থনীতিতে ও মানবজীবনে করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এ মহামারী বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা, শিল্পোৎপাদন, আন্তর্জাতিক পণ্যের সাপ্লাই চেইন, বেসামরিক বিমান পরিবহন, পর্যটন ব্যবসা, খুচরা ও পাইকারি ক্রয়-বিক্রয়, আমদানি, রফতানি, পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহ হ্রাসসহ বেকারত্ব বাড়িয়ে অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
আঙ্কটাডের হিসাব মতে, ২০২০ সালে সারা বিশ্বে করোনার প্রভাবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ১.৫ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা- এর মতে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বে আনুমানিক ২.৫ কোটি লোক তাদের চাকরি হারাতে পারে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ইতোমধ্যে প্রাক্কলন করেছে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের কারণে প্রবৃদ্ধি পায় ১.১ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে এবং প্রায় ৮ লাখ ৯৪ হাজার ৯৩০ জন কর্মজীবী মানুষ তাদের চাকরি হারাতে পারে।
করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই তৈরী পোশাক শিল্প, চামড়া, ওষুধ, পর্যটন, যোগাযোগ ও পরিবহন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন খাত হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে বৈশ্বিক মন্দার মুখে বাংলাদেশের প্রধান বাজার যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং কানাডাতে বাংলাদেশী পণ্যের রফতানি সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অনেক দেশই লকডাউন ঘোষণা করায় বড় বড় বিপণিবিতান ও অনলাইন বাণিজ্য নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে। এতে করে বাংলাদেশের সামগ্রিক রফতানি প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসছে। ফলে আন্তর্জাতিক সীমান্ত বাণিজ্য, আমদানি, রফতানি সঙ্কুচিত হয়ে আসায় স্থানীয় ও রফতানিমুখী শিল্প কল-কারখানাগুলো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের মধ্যে সর্ববৃহৎ রফতানিকৃত পণ্য তৈরী পোশাক শিল্প প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ফার্মাসিউটিক্যাল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিজাতপণ্যসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় রফতানি খাত।
এমন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রাণ সঞ্চারি বেসরকারি খাতকে অর্থনীতির স্বার্থেই সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন।
এ পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ডিসিসিআই কিছু সময়োপযোগী ও সহায়ক পরিকল্পনা ও নীতিসংশ্লিষ্ট সুপারিশ প্রস্তাব করছে। এগুলো হচ্ছে- শিল্প-কারখানায় যাতে যথাসময়ে শ্রমিকদের বেতন, ভাতা প্রদান করা যায় সে জন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে কাজে লাগিয়ে ১ শতাংশ সুদে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প-কারখানাগুলোকে ঋণ প্রদানের লক্ষ্যে একটি বিশেষ তহবিল গঠন করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে ডিসিসিআই। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত রফতানিমুখী উৎপাদন খাতকে আগামী ১ বছরের জন্য ঋণের সুদ মওকুফ করতে ডিসিসিআই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানায়।
এ ছাড়া অন্যান্য সম্ভাবনাময় রফতানি খাতকেও রফতানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) স্কিমের আওতায় আনা যেতে পারে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে যাতে তারল্য সঙ্কট দেখা না দেয়, সে জন্য আগামী ১ বছরের জন্য ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) এর ন্যূনতম মাত্রা কিছুটা শিথিল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি ঢাকা চেম্বার আহ্বান জানিয়েছে।
ডিসিসিআই মনে করে, বেসরকারি খাতের আর্থিক ব্যয়ভার লাঘবে আমদানি, খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহৃত জিনিসপত্রাদি, মেডিক্যাল সরঞ্জাম এবং রফতানিমুখী উৎপাদনশীল শিল্পের ওপর থেকে আগামী ১ বছরের জন্য অগ্রিম কর (এটি) এবং ভ্যাট মওকুফ করতে পারে। পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ব্যক্তিশ্রেণীর কর আদায়ে ও কর্পোরেট কর হারে কিছুটা ছাড় প্রদানের বিষয়টি ভাবতে পারে।
করোনাভাইরাসের মারাত্মক প্রভাব থেকে জনগণ ও অর্থনীতিকে মুক্ত করতে ডিসিসিআই সরকারকে তার আন্তর্জাতিক বন্ধুরাষ্ট্র ও অংশীদারদের সাথে একযোগে কাজ করার জন্য আহ্বান জানায়। অর্থনৈতিক মন্দা যাতে আমাদের কোনো ক্ষতি করতে না পারে সে জন্য সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং বিশ্ব ব্যাংকের কাছে বিশেষ জরুরি অর্থায়ন সুবিধার জন্য আবেদন জানাতে পারে, যা আমাদের দুর্বল রাজস্ব আহরণের তুলনায় অর্থপ্রবাহ বাড়াতে পারবে। পাশাপাশি, সব রাষ্ট্রীয় ঋণ পরিশোধের কিস্তি আগামী ১ বছরের জন্য স্থগিত করতে সরকার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের প্রস্তাব দিতে পারে। আর্থসামাজিক ভারসাম্য রক্ষার্থে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বলয় বৃদ্ধি করে এর মধ্যে অসহায়, প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষ, শ্রমজীবী, চাকরি হারানো মানুষ, অতি ক্ষুদ্র ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত যা এসএমই খাতের জন্য প্রধান সাপ্লাইচেইন হিসেবে কাজ করে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানায়।


আরো সংবাদ