১১ এপ্রিল ২০২০
তথ্যমন্ত্রীর আশা

বিএনপি নেতিবাচক রাজনীতি ছেড়ে সরকারের সাথে কাজ করবে

-

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রীর এই উদারতা ও মহানুভবতার কারণে বিএনপি নেতিবাচক এবং ধ্বংসাত্মক রাজনীতি থেকে ফিরে আসবে এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের সাথে, আওয়ামী লীগের সাথে একযোগে জনগণের পাশে দাঁড়াবে।
গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সচিবালয় বিটের সাংবাদিক প্রতিনিধিদের কাছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সামগ্রী হিসেবে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার হস্তান্তরকালে তিনি একথা বলেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎ করে আবেদন জানানো হয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার উপধারা ১ অনুসারে তার ক্ষমতাবলে বেগম জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে তাকে মুক্তি দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমি আশা করব, সরকারের যে মহানুভবতা, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতায় বেগম জিয়ার সাজা স্থগিত করে ও তার বয়স বিবেচনা এবং তার পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। আমি মনে করি এর ফলে দেশে তারা যে নেতিবাচক রাজনীতি এবং সবকিছুতে না বলার যে সংস্কৃতি তারা লালন করে আসছিলেন এবং ‘পলিটিকস অব ডিনায়াল’ এবং ‘পলিটিকস অব কনফ্রন্টেশনের যে রাজনীতি তারা করে আসছিলেন, সেটির অবসান করবেন।
বৈশ্বিক দুর্যোগ এই করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে তাদের (বিএনপি) পক্ষ থেকে অনেক ধরনের নেতিবাচক এমনকি বিদ্বেষভাবাপন্ন কথাবার্তাও বলা হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করব যে, বেগম জিয়ার মুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে এখন করোনাভাইরাস মোকাবেলায় তারা সরকারের সাথে, আওয়ামী লীগের সাথে একযোগে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কাজ করবেন।
এ সময় সাংবাদিকরা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য ‘খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়েছেন, এখন করোনা থেকে দেশ মুক্তি পাবে’ এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেটি বলেছেন কি না আমি জানি না। যদিও আমি দেখেছি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, অনলাইন মিডিয়াতে, বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে মির্জা ফখরুল সাহেবের বরাত দিয়ে এ ধরনের একটি বক্তব্য ছাপানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রকৃতপক্ষে করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক দুর্যোগ, এটির সাথে খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই। মির্জা ফখরুল সাহেব যদি এটি বলে থাকেন, তাহলে আমি আশা করব, এ ধরনের দায়িত্বহীন কথা আর কেউ বলবেন না।
‘বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল সাহেব সরকারকে ধন্যবাদ দিয়েছেন কি না’- সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেব তাৎক্ষণিকভাবে সাধুবাদ না জানালেও বিএনপির পক্ষ থেকে কিন্তু পরবর্তীতে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত এবং সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। বেগম জিয়ার আইনজীবী এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছেন উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সরকারি ছুটি দেয়া হয়েছে এবং যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে, গণপরিবহন বন্ধ করা হয়েছে। এতে মানুষের চলাচল বন্ধ হলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণটা রোধ হয়। অন্যান্য দেশ বিশেষ করে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া তাদের অবস্থা নিয়ে তারা অনেকটা সফল হয়েছে। সেই কারণেই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আমরা আশা করি, আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই মহাদুর্যোগ থেকে আমাদের দেশকে, বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করতে পারব।
‘আগামী ১০ দিনের সাধারণ ছুটিতে সাংবাদিকতার কাজে আলাদা কোনো কার্ড বা পরিচয়পত্র প্রয়োজন হবে কি না’- সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সাংবাদিকদের যে কার্ড আছে, সেটিই যথেষ্ট। যদি সাংবাদিকদের মিডিয়া হাউজ থেকে বলে দেয়া হয় তিনি অন-ডিউটি, তাহলে সেটিই যথেষ্ট। এর জন্য আলাদা কার্ডের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ একজন সাংবাদিক যখন অন-ডিউটিতে থাকে তখন তাকে সহায়তা করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

 


আরো সংবাদ