৩০ মার্চ ২০২০

কাজ না থাকলে কারখানা বন্ধ রাখার পরামর্শ বিকেএমইএর

-

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট অচলাবস্থায় দেশ, জাতি ও মানুষের বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে বিকেএমইএ আওতাভুক্ত কারখানাগুলো কাজ না থাকলে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে কোনো রকম শ্রমিক অসন্তোষ যেন না হয় সে জন্য শ্রমিকের বেতনভাতাদি যথাসময়ে পরিশোধের পরামর্শ দেয়া হয়েছে কারখানা মালিকদের। গতকাল বুধবার বিকেএমইএর এক সাধারণ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিকেএমইর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রফতানি কার্যাদেশ বা এ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম না থাকলে ফ্যাক্টরি চালানোর কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ জনসমাগম যত কম হবে, ততই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমবে। অপ্রয়োজনে কারখানায় শ্রমিক এনে হাজিরা নেয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ একজন শ্রমিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে, পুরো প্রতিষ্ঠানকে এমনকি আশেপাশের ফ্যাক্টরিসমূহ তথা পুরো এলাকাকে লকডাউন করে দেয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমরা আরো বেশি বিপদগ্রস্ত হবো। একই সাথে কারখানা ছুটিকালীন কারখানার শ্রমিকরা যে যেখানে অবস্থান করছে সে যেন সেখানেই অবস্থান করে তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে বুঝাতে হবে, এটা কোনো ঈদ বা উৎসবের ছুটি নয়। তাই যে যেখানে অবস্থান করে, তাকে সেখানেই থাকতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের সুবিধার্থে বিশেষ করে তাদের বাজার, ওষুধপত্র ক্রয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজের কারণে আজ ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস সরকারি ছুটি এবং আগামীকাল ২৭ মার্চ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটিতে সম্ভব হলে কারখানা বন্ধ রাখাতে অনুরোধ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, যেহেতু সরকারের চূড়ান্ত নির্দেশনা এখনো আসেনি, সেক্ষেত্রে কেউ নিজ দায়িত্বে কারখানা খোলা রাখতে পারবেন। এতে আরো বলা হয়, পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে কারফিউ এবং লকডাউনের মাধ্যমে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। যেহেতু আমাদের প্রস্তুতকৃত পণ্যটি রফতানিযোগ্য পণ্য এবং বাংলাদেশের মূল বৈদেশিক মুদ্রা আনয়নকারী খাত, সেহেতু আমরা এই মুহূর্তেই পুরো সেক্টর বন্ধ করা হবে কি না, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারছি না। তবে পরিস্থিতি যেভাবে নাজুক হচ্ছে, তাতে যে কোনো মুহূর্তেই বাংলাদেশেও কাউফিউ বা লকডাউন প্রয়োগ হতে পারে। ইতোমধ্যেই দেশে লঞ্চ, ট্রেন ও গণপরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। বিকেএমইএ সব সময় তার সদস্যদের সাথে আছে। যদি ট্রাক চলাচল করে, শিপিং লাইন খোলা থাকে, তবে শিপমেন্ট করার জন্য বিকেএমইএ সব রকমের সহায়তা করবে। তবে কারখানা চলাকালীন সময়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও মালিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার সকল নিয়ম মেনে চলতে হবে। এমনকি আপনি ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ার জন্য প্রয়োজনে ইচ্ছে হলে নিটিং, ডায়িং ক্লোজ করে সীমিতআকারে আপনার ফ্যাক্টরি পরিচালনা করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রেও করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কারখানার যেকোনো সমস্যা শ্রমিকদের সাথে সরাসরি আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। কেননা প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাজও আমাদেরকে বিপদগ্রস্ত করতে পারে। কোনো অবস্থাতেই শ্রমিকদের বেতনভাতাদি বন্ধ করা যাবে না। দেশে কোনো শ্রমিক অসন্তোষ দানা না বাঁধে, সে ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। এ জন্যই শ্রমিকদের বিগত বকেয়াসহ সকল পাওনা (যদি থাকে) ও চলতি মাসের বেতন ব্যাংকের সাথে সমন্বয় করে সময় মতো প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অনুরোধ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না। কেউ করলে এর দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণই তাকে বহন করতে হবে। ইতোমধ্যেই সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সেক্ষেত্রেও কারখানার শ্রমিক-কর্মকর্তার বেতনভাতাদি সময় মতো প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

 


আরো সংবাদ