০৬ এপ্রিল ২০২০

ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের মুনাফা আবার ১১.২৮ শতাংশ হচ্ছে

২ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে টিআইএন লাগবে
-

ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে এই সুদের হার হঠাৎ করে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এখন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, অটোমেশনের শর্তে ১৭ মার্চের মধ্যে ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার আগের মতো ১১ দশমিক ২৮-এ ফিরে যাবে। এ সিদ্ধান্ত প্রথম পর্যায়ে বাস্তবায়ন হবে জেলা পর্যায়ে, এরপর উপজেলা পর্যায়ে। তবে দুই লাখ টাকার বেশি যারা বিনিয়োগ করবেন তাদের অবশ্যই কর শনাক্ত নম্বর (টিআইন) থাকতে হবে। গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদেরও সমালোচনা করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়পত্রের অর্ধেক আমরা অটোমেশন করে ফেলেছি। সঞ্চয়পত্র ব্যাংক ও পোস্ট অফিস থেকে পাওয়া যায়। ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে পুরোটাই অটোমেশন হয়েছে। অপব্যবহার রোধ করতেই অটোমেশন করা হয়েছে। অটোমেশন করা না হলে এ স্কিমটা যে যাদের জন্য করা হয়েছিল তারা পাচ্ছিল না। যাদের পাওয়ার কথা ছিল না তারা এ সুবিধা নিয়ে নিচ্ছিল। এতে আমাদের উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছিল না।
তিনি বলেন, ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগ সীমাও রয়েছে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত। যারা গ্রামের মানুষ শহরে আসতে পারে না, তাদের জন্য এটা যথেষ্ট। সেখানে সুদের হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ রাখা হয়েছে।
ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদহার কমনোর কারণ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন দেখলাম সবাই চলে যাচ্ছে পোস্ট অফিসে, বন্ধ করব কিভাবে, বন্ধ করতে হলে বলতে হবে ইন্টারেস্ট নাই। যদি একবার কিনে ফেলে তাহলে তো করার কিছু নাই।
তিনি বলেন, অটোমেশন শেষ হলে এটার জন্য যা প্রয়োজ্য তা পাবেন। উদ্দেশ্য হচ্ছে ৩০ লাখ, যা ৩০ লাখই থাকবে এবং ওখানে যদি ইন্টারেস্ট ১১ পার্সেন্ট থাকে এখানে ১১ পার্সেন্ট থাকবে না কেন। এরা কম পাবে কেন? আমি তো অটোমেশন করতে পারছি না সবাই ওখানে দৌড়াচ্ছে। ১৭ মার্চ অটোমেশন শেষ হলে আগের সুদের হারে চলে যাবে। এ বিষয়ে টক শোতে তার সমালোচনা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী। ডাকঘর অটোমেশন হওয়ার পর গ্রাহকদের টিআইএন ও আইডি নম্বর নেয়া হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানতে চাই কারা কিনে যাতে করে অপব্যবহার না হয়। পোস্ট অফিসে যে ৩০ লাখ আছে সেখানে লাগবে। তবে প্রথম দুই লাখ পর্যন্ত আমরা কিছু চাইব না, তাদেরকে টিআইএন জমা দিতে হবে না। কিন্তু ইন্টারেস্ট ১১ শতাংশ পাবে। ২ লাখ পর্যন্ত অনেকে আছে তারা সই করতে পারে না এতটুকু তাদের দিয়ে হবে।’
করতে চাই এক, প্রচার হয় আরেক : অর্থমন্ত্রী
খেলাপি ঋণ আদায়ে কোনো করপোরেশন করা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা করব বলে বাজেটে বলা হয়েছে। বাজেটে যেসব আইন করব বলেছি সে আইনগুলো করা হবে। কিন্তু আমরা এক রকম বলি, আপনারা এক রকম বলেন, এতে আমার মনে হয় অনেকেই হাতাশাগ্রস্ত হয়ে যায়।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমার মনে হয় আমাদের আরো চিন্তা করে মতামতগুলো প্রচার করা উচিত। কারণ আপনারা যা প্রকাশ করেন সেগুলো জনগণের নিকট চলে যাচ্ছে। জনগণ যদি সঠিক তথ্য না জানে সেটা সরকারের জন্য সমস্যা, দেশের মানুষের জন্য সমস্যা।
তিনি বলেন, আমি বাজেটে বলেছি এমন কিছু করব না যাতে বাড়তি কারো ওপর চাপ পড়বে। আমি এও বলেছিলাম যদি সম্ভব হয় ট্যাক্সের আওতা বাড়াবো কিন্তু ট্যাক্সের হার কমাবো। যদি হার কমাতে না পারি তাহলে বাড়াবো না অন্তত।
ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের প্রতিবাদে বাম দলগুলো গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে বামদল যাবে, বামদলের তো টাকা পয়সার দারকার নেই। কি মুশকিল ওরা ওখানে যাবে কেন? তারা তো ক্যাপিটালিস্ট ইকোনমিতে বিশ্বাস করে না।

 


আরো সংবাদ