০৫ এপ্রিল ২০২০

মক্কায় হজযাত্রীদের স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগে সাড়া মিলছে না গত বছর আবেদন পড়ে মাত্র ২৬টি

-

হজযাত্রীদের সেবায় মক্কায় প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্য থেকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের জন্য তিন বছর ধরে আহ্বান জানিয়ে এলেও সাড়া মিলছে না। গত বছর ২৬ জন আবেদন করলেও স্বেচ্ছাসেবকদের হজ করার সুবিধা নেই জানার পর আর কেউ সাড়া দেয়নি। এ বছরও কমিউনিটি নেতাদের সহযোগিতায় চেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ মিশন।
বাংলাদেশ হজ মিশনের কাউন্সিলর মাকসুদর রহমান জানান, ভারত, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও হজযাত্রীদের জন্য মক্কায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের জন্য ২০১৭ ও ২০১৮ সালে উদ্যোগ নেয়; কিন্তু তাতে কোনো সাড়া মেলেনি।
তিনি বলেন, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ এবং জেদ্দা কনসুলেট থেকে জোর চেষ্টা নিয়ে দরখাস্ত পাওয়া যায় মাত্র ২৬টি। তবে যখন শুনছেন সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো দেশের ভলান্টিয়ারদের হজ করার অনুমতি দেয় না, তখন তারা পিছিয়ে যান। এবারো উদ্যোগ নেয়া হবে। গত বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ২৫২ জন হজ পালন করেন। এ বছর হজযাত্রীর কোটা এক লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জন।
মাকসুদুর রহমান জানান, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হজ গাইডরা হাজীদের হজ পালনের ব্যাপারে সহযোগিতা করেন; কিন্তু হারিয়ে যাওয়া হজাত্রীদেরা পথ দেখানো এবং অসুস্থ হাজীদের সেবাসহ হজের দিনগুলোতে হজযাত্রীদের সেবার জন্য ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা স্বেচ্ছায় বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করে আসছেন। সৌদি আরবে প্রবাসীদের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় বা চতুর্থ অবস্থানে। মক্কা, মদিনা, জেদ্দা, রিয়াদসহ সৌদি আরবে বাংলাদেশী কমিউনিটি রয়েছে। কমিউনিটির মাধ্যমে এই স্বেচ্ছাসেবার সুযোগ রয়েছে; কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কমিউনিটি অন্যান্য দেশের মতো এমন ফ্রন্ট খুলতে পারেনি। তিনি জানান, এবার আগে থেকেই কমিউনিটি নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের চেষ্টা চালানো হবে।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে ভারতীয় হাজীদের জন্য পুরো সৌদি আরবে প্রায় ৪০০০ এবং ২০১৯ সালে ৫০০০ প্রবাসী ভারতীয় স্বেচ্ছাসেবা দিয়েছে। ইন্ডিয়া ফ্যাটেনারি ফোরামের (আইএফএফ) ব্যানারে ভারতীয় প্রবাসীরা প্রায় ১০ বছর আগে এই বিনাপারিশ্রমিক সেবাকার্যক্রম শুরু করেন। গত বছর ভারত থেকে প্রায় দুই লাখ মুসলমান হজ পালন করে।
এ দিকে পাকিস্তান হজ ভলান্টিয়ারস গ্রুপের (পিইভিজি) ব্যানারে ২০১১ সালে ৮৫ জন নিয়ে হাজীকে স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রম শুরু করে। সংগঠনটির ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, সৌদি আরবে দেশটির দূতাবাস, হজ মিশনের সহায়তায় পুরো সৌদি আরব থেকে এই স্বেচ্ছাসেবকদের সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী নিয়োগ দেয়া হয়। ২০১৯ সালে ২৪০০ প্রবাসী পাকিস্তানি দেশটির হজযাত্রীদের মক্কায় সেবা দিয়েছেন। ১৬ বছরের ওপরে যেকোনো প্রবাসী নাগরিক পিইভিজির সদস্য হয়ে হজযাত্রীদের সেবার জন্য তালিকাভুক্ত হতে পারেন।
বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ পালন করতে যাওয়া কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে জেদ্দা হজ মিশনে মতবিনিময়কালে কাউন্সিলর মাকসুদুর রহমান বলেন, হজের মূল কাজ সম্পন্ন হয় সৌদি আরবে। বাংলাদেশী হজযাত্রীদের মধ্যে গ্রামাঞ্চলের হজযাত্রী এবং তুলনামূলক বয়স্ক হজযাত্রী বেশি। ফলে মক্কায় হজের দিনগুলোতে বিশেষ করে মিনা মুজদালিফা, আরাফাতের ময়দানে অবস্থানসহ হজের কার্যক্রম সম্পাদনের সময় বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়েন। এ জন্য হজযাত্রীদের সেবায় অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশী স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পরিকল্পনা নেয়া হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেকে হজ পালনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাশ্রম দিতে আগ্রহী হন; কিন্তু সৌদি সরকারের নিয়ম অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবকদের হজ পালনের অনুমতি নেই। তিনি বলেন, গত বছর রিয়াদে দূতাবাসের সহায়তায় কিছুটা সাড়া পাওয়া যায়; কিন্তু তারা হজ পালন করা যাবে না জেনে পরে আর আসেননি। এ বছর আগে থেকেই কমিউনিটি নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ বছর থেকে স্বচ্ছ সংখ্যা দিয়ে হলেও স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ দিকে জেদ্দায় বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতা সৌদি আরব পশ্চিম আওয়ামী পরিষদের সভাপতি কাজী নওফেল জানান, এ বছর থেকে হজে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের উদ্যোগে জেদ্দা কনসুলেট ও হজ মিশনকে কমিউনিটির পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। তিনি বলেন, সৌদি আরবে প্রবাসীদের অবস্থানের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং চাকরিজীবী হওয়ার কারণে অনেকের ছুটি নিতে সমস্যা হয়। তারপরও যাদের পক্ষে সম্ভব হয় তারা যেন হাজীদের সেবায় নিয়োজিত হন সে দিকে জোর দেয়া হবে।
জানতে চাইলে মদিনা বাংলাদেশী কমিউনিটি নেতা মদিনা আওয়ামী পরিষদের সভাপতি মূসা আব্দুল জলিলও এ বছর থেকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগে হজ মিশনকে সহযোগিতা প্রদানের কথা জানান।

 


আরো সংবাদ