০৫ এপ্রিল ২০২০

যুবদলকে সুসংহত করতে তৃণমূল সফরে ১১টিম

-

বিএনপির অন্যতম অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলকে আরো বেশি সুসংহত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রাম সফলের লক্ষ্যে দলের অঙ্গ সংগঠনগুলোকে তৃণমূল পর্যায়ে আরো গতিশীল করার অংশ হিসেবে ছাত্রদলের পর এবার যুবদলের ১১টি সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে গঠিত এসব টিমের নেতারা গত রোববার থেকে সারা দেশের তৃণমূলে সাংগঠনিক সফর শুরু করেছেন। সফরে তারা সাংগঠনিক চারটি স্তরে কাজ করবেন। তারা প্রতিটি অধীনস্ত প্রতিটি জেলা-মহানগর, উপজেলা-পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নেতাদের সাথে মতবিনিময় করবেন। কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি থাকলে স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সাথে বসে নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি করার নির্দেশনাও দেবেন। পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাদের কাছে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দেয়াসহ কেন্দ্রের সাথে তৃণমূলের যোগাযোগ বৃদ্ধিতেও কাজ করবেন। সফর শেষে প্রতিটি জেলার সার্বিক চিত্র তুলে ধরে চলতি মাসের মধ্যে কেন্দ্রের কাছে সাংগঠনিক প্রতিবেদন জমা দেবেন। সে অনুযায়ী কেন্দ্র পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
জানতে চাইলে যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ননয়া দিগন্তকে বলেন, জাতীয়তাবাদী যুবদলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরো শক্তিশালী ও গতিশীল করতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে গঠিত ১১টি সাংগঠনিক টিমের নেতারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। সফরে তারা চারটি স্তরে কাজ করবেন। স্থানীয়ভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে সেসব চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন। অথবা কেন্দ্রকে পরামর্শ দেবেন। সর্বোপরি স্ব স্ব বিভাগের সাংগঠনিক প্রতিবেদন কেন্দ্রের কাছে তুলে ধরবেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি রাতে সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের সুপারফাইভ বা পাঁচ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সময়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের আংশিক কমিটির নেতাদের নামও ঘোষণা করা হয়। এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা দেয়া হলেও তা আর হয়নি। বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ গত ১৬ জানুয়ারি শেষ হয়। দীর্ঘদিন কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হত্তয়ায় ক্ষোভ বাড়ছিল সংগঠনের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে। অতঃপর নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি আবার ১১৪ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি (আংশিক) ঘোষণা করা হয়। ওই দিন যুবদলের দফতর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশক্রমে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কমিটি অনুমোদন করেছেন। আংশিক কমিটিতে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের না রাখায় অনেকেই ক্ষোভ এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কমিটির অবশিষ্ট তালিকা প্রকাশ না করায় ছাত্রদলের সাবেক নেতারা রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নিয়ে এখনো হতাশাগ্রস্ত।
জানা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে ১১টি সাংগঠনিক টিম গঠন করে বিএনপির হাইকমান্ড। একজন কেন্দ্রীয় সহসভাপতির নেতৃত্বে গঠিত প্রায় প্রতিটি টিমে সাতজন করে সদস্য রয়েছেন। টিমে আরো রয়েছেনÑ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সহসভাপতি, একজন যুগ্ম-সম্পাদক, একজন সহ-সাধারণ সম্পাদক, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক, একজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। ঢাকা বিভাগে দু’টি সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে। একটি ঢাকা মহানগরীর ইউনিটগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত। কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম বনিকে এই টিমের প্রধান করা হয়েছে। অন্য টিমটি মহানগরের বাইরে বিভাগের অধীনস্থ জেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত। কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জাকির হোসেন নান্নুকে এই টিমের প্রধান করা হয়েছে।
এ ছাড়া সহসভাপতি আব্দুল খালেক হাওলাদারকে ময়মনসিংহ বিভাগের টিম লিডার, সহ-সভাপতি আলী আকবর চুন্নুকে খুলনা বিভাগ, সহ-সভাপতি গোলাম রাব্বানীকে রাজশাহী বিভাগ, সহসভাপতি রুহুল আমিন আকিলকে রংপুর বিভাগ, সহসভাপতি ইউসুফ বিন জলিল কালুকে চট্টগ্রাম বিভাগ, সহসভাপতি আবু সেলিম চৌধুরীকে ফরিদপুর বিভাগ, সহসভাপতি জাকির হোসেন সিদ্দিকীকে কুমিল্লা বিভাগ, সহসভাপতি কাজী আজিজুল হাকিম আরজুকে বরিশাল বিভাগ এবং সহসভাপতি শহীদুল্লাহ তালুকদার সিলেট বিভাগের টিম লিডার করা হয়েছে।
কয়েকটি সাংগঠনিক টিমের প্রধান জানান, যুবদলের জেলা-মহানগর কমিটিগুলো হলেও দীর্ঘদিন ধরে অধীনস্থ উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন কমিটিগুলো হয় না। তাই তৃণমূলের এসব কমিটি পুনর্গঠনে প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ার পেছনে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতারাই মূলত দায়ী। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বিএনপি নেতারা নিজেদের পকেটের লোক দিয়েই কমিটি করতে চান। বলতে গেলে কমিটি করার ক্ষেত্রে স্থানীয় যুবদলের তেমন কোনো স্বাধীনতাই নেই। এখানেই মূল সমস্যা সৃষ্টি হয়। তৃণমূল পর্যায়ে যুবদলকে সুসংগঠিত, গতিশীল ও শক্তিশালী করতে হলে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা যোগ্যদের দিয়েই কমিটি গঠন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। এই বিষয়গুলো সাংগঠনিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করবেন বলে জানান তিনি।
সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্দেশনা অনুযায়ী তার দলনেতা শহীদুল্লাহ তালুকদারসহ সবাই ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। সিলেট, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলা সফর করে স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিয় করছেন। বেশির ভাগ টিম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্টরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তারা তৃণমূলে কমিটি পুনর্গঠনে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাদের কাছে কেন্দ্রের বার্তাও পৌঁছে দিচ্ছেন। কাজ শেষ করে ঢাকায় ফিরে কেন্দ্রীয় সংসদের কাছে সাংগঠনিক প্রতিবেদন জমা দেবেন। তৃণমূলে এই সফরের ফলে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের কাছে যুবদলের তৃণমূলের জবাবদিহি বৃদ্ধি পাবে বলে তারা মনে করছেন। 

 

 


আরো সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজে যা রয়েছে সেই গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে ছেঁটে ফেললেন ট্রাম্প অযথা ঘুরাঘুরি করায় অর্থদণ্ড করোনার ভয়ঙ্কর পরিস্থিতে নিজের জাত চেনালেন বলিউড বাদশাহ বগুড়ায় এক ব্যক্তির শরীরে করোনা শনাক্ত চাঁদপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে নারীর মৃত্যুর পর জেলা প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা করোনা নির্ণয়ের চৌকস প্রযুক্তির উন্মোচন করল ইরান করোনা মোকাবিলায় ৬৭,৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিলেন ট্রুডো ট্রলারে ঝুঁকিতে পদ্মা-যমুনা পাড়ি শ্রমিকদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দেশের সোয়া চার কোটি মানুষ

সকল