০৫ এপ্রিল ২০২০

লোকারণ্য মেলায় ক্রেতা কম

আরএফএল-এর ৬৮’র বাংলা কর্মসূচি উদ্বোধন হনয়া দিগন্ত -

মাঝ মাসে লোকারণ্য গ্রন্থমেলায় বিক্রি কম বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা। তাদের দাবি বইয়ে ভরপুর মেলা মানুষের মনকে আর ধাক্কা দিতে পারছে না। বিক্রেতারা বলেন, মাসের মধ্যভাগে মেলায় প্রতিদিন অনেক মানুষ আসেন। কিন্তু এত লোকের ভিড়েও ক্রেতা কম। কারণ আগতদের মধ্যে ক্রেতা ১ শতাংশের মতো। বাকিদের সবাই দর্শনার্থী। তারা মেলা চত্বরে হাঁটাহাঁটি আর আড্ডা দিয়েই সময় অতিবাহিত করেন। তবে অল্প সংখ্যক যারা ক্রেতা আসেন তাদের অনেকেও আবার পছন্দের বই না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার মেলায় লোকসমাগম চোখে পড়ার মতো হলেও স্টলগুলো ছিল প্রায় ফাঁকা। দুই একটি প্যাভিলিয়নে কিছু ক্রেতা থাকলেও বেশির ভাগ স্টল ছিল একেবারেই ক্রেতাশূন্য। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের লেকের পাড়ে ছিল লোকসমাগম সবচেয়ে বেশি। সেখানে দলবেঁধে আড্ডা দিচ্ছিলেন নানান বয়সের মানুষ। তবে তাদের মধ্যে শিক্ষার্থী তরুণ-তরুণীর সংখ্যাই ছিল বেশি। তাদের অনেকেই জানান বই কিনতে নয়, স্রেফ আড্ডা দিতেই তারা এসেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন অড্ডার ফাঁকে বিভিন্ন স্টলে ঘুরেছেন। কিন্তু পছন্দের বই না পেয়ে কিনেননি। কেমন বই চেয়েছিলেন এমন প্রশ্নে তারা জানান, কবিতা, উপন্যাস ও শেকড় সন্ধানী বই তাদের বেশি পছন্দ। কিন্তু মেলায় আসা নতুন বইয়ের মধ্যে সে রকম ভালো লেখকের বই তারা পাননি।
ধানমন্ডি থেকে এসেছেন বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রী নুসরাত। তার মতে, মেলায় বইয়ের মান আরো উন্নত করা উচিত। তিনি বলেন, বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশকদের সংখ্যাই বলে দেয় বাংলাদেশের প্রকাশনা জগৎ আজ প্রাণবন্ত। কিন্তু মানহীন বইয়ের কারণে আমরা বই কিনতে পারছি না। এখনকার লেখকরা সাধনা করেন না অভিযোগ করে তিনি বলেন, বইয়ের মান নির্ভর করে সাহিত্য-দর্শনের ওপর। একটা সাহিত্যে ইতিহাস থাকে, জীবন দর্শন থাকে। এর জন্য লেখককে সাধনা করতে হয়।
সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেয়া সানাউল। তিনি কবিতাও লিখেন। কিন্তু বইমেলা নিয়ে তার অসন্তুষ্টির কারণ জানাতে গিয়ে বললেন, ‘ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। ছেলেমেয়েরা দলবেঁধে আসছে। কিন্তু কয়জন বই বা বইয়ের ভাষা ধারণ করে মেলায় যাচ্ছে? তার মতে, বই প্রকাশকে কেন্দ্র করেই যে মেলা সেখানে বইয়ের যে অবস্থান তা ক্রমাগতভাবে সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, অমর একুশে বইমেলা বাঙালির বিশেষ আবেগেরও প্রকাশ। এতে নানা পক্ষ সম্পৃক্ত। রাষ্ট্রও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু এখানে জ্ঞানের চর্চা না থাকলে সাহিত্যমান বাড়বে কী করে?
গতকাল মেলায় স্থাপনা ধারণা প্রতিযোগিতার আয়োজন ছিল উল্লেখযোগ্য সংযোজন। প্রতিযোগীদের উপস্থাপনকৃত স্থাপনাকর্ম নিয়ে গ্রন্থমেলায় একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট স্থপতি অধ্যাপক সামসুল ওয়ারেস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী এবং স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর।
মেলায় গতকাল নতুন বই এসেছে ১৪৭টি। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মিনার মনসুর ও দিলওয়ার চৌধুরী সম্পাদিত শেখ মুজিব একটি লাল গোলাপ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আমিনুর রহমান সুলতান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাহিদুল হক, জাফর ওয়াজেদ এবং আসলাম সানী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সম্পদ বড়–য়া। আজ লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন শামীম আজাদ, মলয় বালা, আফসানা বেগম এবং অরবিন্দ চক্রবর্তী।
কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি জাহিদুল হক, বিমল গুহ এবং দুলাল সরকার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী আঞ্জুমান আরা, ফয়সল আহমেদ ও মৃন্ময় মিজান। গতকাল ছিল এ কে আজাদের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আনন্দন’-এর পরিবেশনা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন বুলবুল ইসলাম, শাহনাজ নাসরিন ইলা, অসীম দত্ত, মীর মণ্ডল, স্বপ্নীল সজীব, পূরবী বিশ্বাস। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন মো: সিরাজুল হক (তবলা), রবিনস্ চৌধুরী (কীবোর্ড), অসিত বিশ্বাস (এসরাজ) এবং বিশ্বজিৎ সেন (মন্দিরা)।
সংবাদ সম্মেলন : সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে অমর একুশে গ্রন্থমেলা বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী গ্রন্থমেলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত সচিব ও পরিচালক অপরেশ কুমার ব্যানার্জি, অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০-এর সদস্যসচিব ড. জালাল আহমেদ ও স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর।
আজ বুধবার মেলা চলবে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে জালাল ফিরোজ রচিত বঙ্গবন্ধু গণপরিষদ সংবিধান শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মুজতবা আহমেদ মুরশেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ডালেম চন্দ্র বর্মণ, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং সাব্বীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মেলায় এসেছে মোহাম্মদ হাসান শরীফের বই ‘হাউ টু ডেভেলপ অ্যা সুপার-পাওয়ার মেমরি’। সাংবাদিক রেজানুর রহমানের ‘আবাসভূমি’। ‘দ্য লজ অব হিউম্যান নেচার’। ইমরুল কায়েসের এ বইটি প্রকাশনায় রয়েছে দ্য ইউনিভার্সেল একাডেমি। ‘আত্মহত্যা’ বইটির লেখক এ এন এম নূরুল হক। প্রকাশ করেছে ‘ঐতিহ্য’। ‘দাঁড়াও পথিক’ সাদেক আহমেদের লেখা বইটির প্রকাশক ‘বাসিয়া প্রকাশনী’। এন সাইক্লোপিডিয়া অব দ্য ওয়ার্ল্ড টু আস্ক মি এনিথিং’ এর লেখক এ এস এম শিহাব উদ্দীন ভূঁইয়া। প্রকাশনায় দ্য ইউনিভার্সেল একাডেমি। ‘নিষ্কৃতি’ বইটির লেখক রেজাউল ইসলাম আজিম। 

 


আরো সংবাদ

মানিকগঞ্জে এক ব্যক্তির করোনা শনাক্ত, এলাকা লকডাউন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজে যা রয়েছে সেই গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে ছেঁটে ফেললেন ট্রাম্প অযথা ঘুরাঘুরি করায় অর্থদণ্ড করোনার ভয়ঙ্কর পরিস্থিতে নিজের জাত চেনালেন বলিউড বাদশাহ বগুড়ায় এক ব্যক্তির শরীরে করোনা শনাক্ত চাঁদপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে নারীর মৃত্যুর পর জেলা প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা করোনা নির্ণয়ের চৌকস প্রযুক্তির উন্মোচন করল ইরান করোনা মোকাবিলায় ৬৭,৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিলেন ট্রুডো ট্রলারে ঝুঁকিতে পদ্মা-যমুনা পাড়ি শ্রমিকদের

সকল