০৩ এপ্রিল ২০২০
দক্ষিণ সিটির ৫৬ নং ওয়ার্ড

বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীর বাড়ি ও ক্যাম্পে আ’লীগ প্রার্থীর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ

-

রাজধানীর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৬ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর বাড়ি ও নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় আওয়ামী লীগের কামরাঙ্গিরচর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমানের ৭ থেকে ৮ জন সমর্থককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে কামরাঙ্গিরচর থানা এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে লালবাগ বিভাগের ডিসি মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হোসেন এবং একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রতনের সমর্থকের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দুই পক্ষকে মীমাংসার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর গতকাল ফের দুই গ্রুপ মুখোমুখি হয়।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় কারো পক্ষ থেকে থানায় লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যার বিরুদ্ধে দোষ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে কামরাঙ্গিরচর এলাকায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের একটি জনসভা ছিল। রাত সাড়ে ১১টায় কামরাঙ্গির ঘাটাইল এলাকায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঠেলাগাড়ি প্রতীক নিয়ে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা সাইদুর রহমান রতনের সমর্থকরা তার পোস্টার লাগাতে যায়। এ সময় বর্তমান কাউন্সিলর হোসেনের ( ঘুড়ি প্রতীক) লোকজন বিদ্রোহী প্রার্থী রতনের লোকজনকে মারধর করে। খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাতভর দ্ইু পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। সংঘর্ঘে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড় দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। রাতের এ সংঘর্ষের জেরে গতকাল জুমার নামাজের পর বিকেল ৩টায় রতনের নির্বাচনী অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় হোসেনের সমর্থকরা। এ ঘটনার পর থেকে কামরাঙ্গিরচর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কাউন্সিলর প্রার্থী সাইদুর রহমান রতন জানান, তিনি কামরাঙ্গির চর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। বর্তমান কাউন্সিলর হোসেন এলাকায় বিতর্কিত। কাউন্সিলর হিসেবে সে এলাকায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর ওপর অত্যাচার নির্যাতন করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের আস্থাভাজন লোক হিসেবে এবার তিনি কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন। কিন্তু এলাকার আওয়ামী লীগের বড় অংশ তাকে সমর্থন দেয়ায় তিনি ঠেলাগাড়ি প্রতীক নিয়ে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন। এতে হোসেন ক্ষিপ্ত ছিল।
গত বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় এমপি হোসেনের পক্ষে এলাকায় একটি সমাবেশ করে। ঘাটাইল এলাকায় আমার সমর্থক ১০ থেকে ১২ জন পোস্টার লাগাতে যায়। রতনের নেতৃত্বে ১০০ লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার লোকজনকে ঘেরাও করে বেধম মারধর করে। সে সময় আমি আমার বাসায় অপেক্ষায় ছিলাম। খবর পেয়ে আমি পুলিশকে জানাই। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে হোসেনের লোকজন বেশি দেখে ফিরে আসে। এরপর রাতে হোসেনের নেতৃত্বে আমার বাসা বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। আমি বিষয়টি পুলিশকে জানাই। গতকাল বিকেল ৩টায় হোসেনের নেতৃত্বে আমার নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পুলিশ এসে ঘটনা দেখেছে। কিন্তু তারা কোনো মামলা নিতে চাচ্ছে না।
অভিযোগের বিষয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


আরো সংবাদ