২২ জানুয়ারি ২০২১
`

অনলাইন সফটওয়্যার ব্যবহার পিছিয়ে যাচ্ছে প্রাথমিকে বদলি তদবির ও দুর্নীতি প্রতিরোধ

-

পয়লা জানুয়ারি ২০২০ থেকে শুরু হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি কার্যক্রম। গত কয়েক বছর ধরে বদলি নিয়ে প্রভাবশালী মহল থেকে তদবির ও নানা বাণিজ্য আর বিতর্কের প্রেক্ষাপটে একমাত্র অনলাইনেই এ আবেদন গ্রহণ করার কথা থাকলেও আগামীতে বদলি হবে আগের নিয়মেই। দু’মাসের মধ্যে নতুন সফটওয়ার তৈরির কথা থাকলেও এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। এ সংক্রান্ত কমিটি এখন পর্যন্ত নতুন সফটওয়ায়ে কি কি বিষয় থাকবে, তাই চূড়ান্ত করতে পারেনি। নির্ধারিত হয়নি অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে নীতিমালার কোন কোন বিষয় পরিবর্তন বা সংশোধনী আনা হবে। অভিযোগ উঠেছে, অনলাইনে আবেদন হলে, তদবির ও বদলি বাণিজ্যের সুযোগ বন্ধ হবে, তাই পরিকল্পিতভাবেই এটিতে বিলম্ব করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মো: বদরুল হাসান বাবুল গতকাল সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তকে বলেন, নতুন সফটওয়ারে বদলির আবেদনের জন্য কি কি বিষয় যুক্ত করা হবে, তার যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এবারো পুরানো নীতিমালার আলোকেই বদলি করা হবে। ২০২১ সাল থেকে অনলাইনে আবেদন নেয়া হবে। দু’মাসের মধ্যেই কমিটির প্রতিবেদন ও সফটওয়ার তৈরির বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বলেন, কোনো সময়সীমা আসলে ছিল না। কমিটি যখনই সফটওয়ার চূড়ান্ত করবে তখনই তা বাস্তবায়ন শুরু হবে। আগামী বছরের মে-জুন মাসে হয়তোবা এটি চালু করা যাবে।
উল্লেখ্য গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (বিদ্যালয়) প্রধান করে চার সদস্যের গঠিত কমিটিকে বদলি নীতিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং নতুন সফটওয়ার তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। দু’মাসের মধ্যে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দেয়ার কথা থাকলেও কমিটি এ পর্যন্ত মাত্র তিনটি বৈঠক করেছে। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়নি। এমনকি সফটওয়্যার কাকে দিয়ে তৈরি করা হবে, তাও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে,শিক্ষাবর্ষের প্রথম তিন মাস (জানুয়ারি-মার্চ) প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলি কার্যক্রম চলে। বছরের অন্য সময় বা মাসে বদলির কোনো সুযোগ নেই। বদলি নীতিমালায় এ ধরনের নির্দেশনা বিগত বেশ কয়েক বছর থেকেই চলে আসছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্বল্পতা,পাঠদানে বিশৃঙ্খলা বা ছেদ না পড়ার জন্য এ ধরনের বাধ্যবাধকতা চলে আসছিল। গত কয়েক বছরে প্রাথমিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক সহকারী শিক্ষক। আগামী মাসের মধ্যেই আরো প্রায় ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পাচ্ছে। ফলে শিক্ষকস্বল্পতা আগের মতো আর নেই বা থাকবে না। এমন যুক্তিতেই বদলি নীতিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন বিশেষ করে বছরজুড়েই যেন বদলি করা যায় এমন বিধান রাখার যৌক্তিকতা দেখিয়ে নীতিমালায় সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু গত প্রায় তিন মাসে তার কিছুই হয়নি।
মন্ত্রণালয় ও ডিপিই সূত্র জানায়, নানা অনিয়ম, বদলি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বদলি নিয়ে। গত জানুয়ারি-মার্চে ১৯ কি লঙ্কাকাণ্ডই না ঘটেছিল। বিশেষ করে মার্চের ৩১ তারিখে শিক্ষকরা যেন ডিপিইকে ঘেরাও করে ফেলেছিল। অফিস শেষে ডিপিইর মহাপরিচালক (ডিজি) অফিস থেকে বের হতেই পারেননি। পরে আবেদনকারীদের ডিপিইর সম্মেলন কক্ষে ডেকে এনে সান্ত্বনা দিতে হয়েছিল ডিজিকে। এ ডিজি আগামী ২৭ ডিসেম্বর অবসরকালীন ছুটিতে যাচ্ছেন। ফলে বদলির নীতিমালা সংশোধন আবার ঝুলে যাবে।
সূত্র জানায়, নির্ধারিত তিন মাস শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু থাকায় রাজনৈতিক চাপ ও তদবির বেশি হচ্ছে। এসব কারণে বদলি কার্যক্রম বছরজুড়ে করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়। এরই সুযোগে মন্ত্রণালয় ও ডিপিইতে এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলি বাণিজ্যে নেমেছেন। দু’বছর আগে মন্ত্রীর দফতরের এক কর্মকর্তার (যিনি এখনো প্রতিমন্ত্রীর দফতরে বহাল তবিয়তেই রয়েছেন) বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের সিন্ডিকেটও গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। বদলি বাণিজ্যে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বদলি কার্যক্রম অনলাইন করতে নতুন সফটওয়্যার তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। এর মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। দুই মাসের মধ্যে সফটওয়্যার তৈরি কাজ শেষ করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু এখনো তা হয়নি। বদলি নীতিমালা সংশোধনী সম্পর্কে মন্ত্রণালয় সূত্র জানান, কমিটিকে বছরে তিন মাস নয়, বছরজুড়ে শিক্ষক বদলি করার বিধান রেখে নীতিমালা করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। শিক্ষকরা প্রয়োজনে বছরজুড়েই বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বদলি কার্যক্রম আরো সহজীকরণ ও ভোগান্তিমুক্ত করতে অনলাইন আবেদন ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে এ বছর সে সুযোগ পাচ্ছেন না শিক্ষকরা।



আরো সংবাদ