২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

দাফনের ৫ মাস পর পুলিশের হাতে আটক

-

বিষখালী নদীতে জেলেদের জালে হাত-পা বাঁধা মাথাবিহীন লাশ উদ্ধারের পর, দেবরের লাশ দাবি করে নিজ গ্রামে দাফন করেছিলেন রেহেনা বেগম। চলতি বছরের ৩০ জুলাই পাথরঘাটা থানার ফারুক আকন নিখোঁজ মর্মে একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন তার ভাবি রেহেনা। দাফনের পাঁচ মাস পর থানায় ডায়েরির ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে গত ২ ডিসেম্বর পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ফারুক আকন। বরগুনার পাথরঘাটা থানার ওসি মো: শাহবুদ্দিন গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃত ফারুক আকন পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের জালিয়াঘাটা গ্রামের মৃত হাতেম আলী আকনের ছেলে।
অন্য দিকে মস্তকবিহীন সেই লাশ দাফনের ১৫ দিন পর বরগুনার সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের আ: রহিম খানের ছেলে মো: সোহেল খানের লাশ দাবি করেন মা লাইলি বেগম। লাশের সাথে থাকা সাইকেলের চাবি ও জামা দেখে ছেলের লাশ শনাক্ত করলেন, পরে ডিএনএ টেস্টে এর প্রমাণ মিললে আদালতের মাধ্যমে লাশ উত্তোলন করে সোহেলের নিজ বাড়িতে নিয়ে পুনরায় স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করে তার পরিবার।
পাথরঘাটা থানা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে ফারুক আকনের সাথে প্রতিবেশী বাচ্চু হাওলাদারের জমিজমা নিয়ে বিরোধ থাকায় ওই জমির কাগজপত্র নিয়ে ফারুক উকিলের পরামর্শ নিতে পাথরঘাটা আসেন। পাথরঘাটা আসার পর থেকে ফারুকের সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় তার ভাইয়ের স্ত্রী রেহানা বেগম পাথরঘাটা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। থানায় অভিযোগের ১০ দিন পর বিষখালী নদীতে একটি মস্তকবিহীন লাশ পাওয়ার পর তার স্বজনেরা ওই লাশটি ফারুক আকনের বলে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে ওই একই লাশ বরগুনার সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের আ: রহিম খানের ছেলে মো: সোহেল খানের লাশ নিশ্চিত হওয়ায় পুলিশের সন্দেহ বেড়ে যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় পাঁচ মাস পর মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে রাজধানীর ভাটারা থানা পুলিশের সহযোগিতায় ফারুক আকনকে জীবিত অবস্থায় আটক করা হয়।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার পুলিশ পরিদর্শক মো: সাইদ আহমেদ বলেন, সোহেল হত্যার সাথে ফারুক আকনের কোন সম্পৃক্ততা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আটক ফারুক আকনকে আদালতে হাজির করা হলে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।


আরো সংবাদ