০৯ জুলাই ২০২০

আবরার হত্যার প্রতিবাদে অ্যাবের মানববন্ধন সরকার রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে মওদুদ

আবরার হত্যার বিচার দাবিতে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) মানববন্ধন হনয়া দিগন্ত -

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যায় প্রমাণ হয় সরকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার বাংলাদেশ (এ্যাব) আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে এ মানববন্ধন হয়। সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি প্রকৌশলী আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেনÑ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, এ্যাবের আশরাফ উদ্দিন বকুল, আসাদুজ্জামান চুন্নু, জহিরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শামীমুর রহমান শামীম, কাদের গণি চৌধুরীসহ অনেকেই।
আবরার হত্যা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আবরার সরকারি চুক্তির বিষয়ে প্রতিবাদ করেছিল; কিন্তু ছাত্রলীগের কর্মীরা যেভাবে তাকে হত্যা করেছে এতে প্রমাণ হয়, এ সরকার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই এই সরকারের এখন উচিত হবে এই মুহূর্তে পদত্যাগ করা। পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে বলেন, প্রতিবারের মতো এবারো আমরা দেখলাম প্রধানমন্ত্রী আমাদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন। আমাদের জন্য কিছু না এনে ভারতের যা প্রয়োজন সেটি তিনি দিয়ে আসছেন। তিনি বক্তব্যে বলেছেন, বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ কোনো দিন তিনি বিসর্জন দেবেন না। মানুষকে এত বোকা ভাবা তো ঠিক নয়। ফেনী নদীতে শুষ্ক মওসুমে এমনিতেই আমাদের দেশে পানির অভাব থাকে। সেখানে প্রতি সেকেন্ডে ৫০ লিটার পানি ভারতে যাবে। অর্থাৎ প্রতিদিন চার লাখ লিটার পানি আমরা ভারতকে দিয়ে দেবো। প্রধানমন্ত্রী বললেন এটা মানবিক কারণে, মানবিক কারণে যদি হয়ে থাকে তাহলে বাংলাদেশের এতগুলো দাবি, তিস্তা নদীর পানিসহ ৫৪টা নদীর পানির হিস্যা আমরা পাই না কেন?
মওদুদ আহমদ আরো বলেন, মংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের জন্য নতুন করে ভারতকে সুযোগ করে দিয়েছেন। উপকূলীয় এলাকায় রাডার বসানোর পরিকল্পনা করছে ভারত। এটা কার স্বার্থে, কাদের স্বার্থে? এটা বুঝতে আমাদের কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
তিনি বলেন, আজকের সম্রাট কিং অব ক্যাসিনো। তাকে ধরা হলো, দুই দিনও জেলে ছিলেন না, তার মধ্যে তাকে আরাম-আয়েশের জন্য হাসপাতালে রাখা হলো। আর আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থ থাকার পরও এক বছর দুই মাস সময় লেগেছে চিকিৎসার ব্যবস্থা করাতে। এতেই প্রমাণ করে এই সম্রাট, খালেদ, শামীম এদের বিচার কোনো দিন বাংলাদেশে হবে না এবং খুব শিগগিরই এরা সরকারের ছত্রছায়ায় তাদের মধ্যে জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসবেন বলে আশঙ্কা হচ্ছে।

 


আরো সংবাদ