১৩ আগস্ট ২০২২
`

মাগুরায় বাবুল-মিতুর শিশুসন্তানদের জবানবন্দি গ্রহণকালে হাইকোর্টের আদেশ ভঙের অভিযোগ

মাগুরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে বাবুল-মিতু দম্পতির দুই সন্তানের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। - ছবি : নয়া দিগন্ত

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার ও মাহমুদা খানম মিতু দম্পতির দুই শিশুসন্তানের জবানবন্দি গ্রহণকালে তদন্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মো: ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আদেশ ভঙের অভিযোগ তুলেছেন বাবুল আকতারের ছোট ভাই অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান।

সোমবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় মাগুরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে হাজির হয়ে শিশুদের দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে জবানবন্দি গ্রহণ করেন আবু জাফর মো: ওমর ফারুক।

জবানবন্দি গ্রহণ শেষে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় এ অভিযোগ আনেন অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান।

তিনি জানান, গত ২৩ জুন ২০২১ তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল নম্বর ০৭, শিশু আদালত চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ ফেরদৌস আরা মাগুরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে এসে আইন মেনে বাবুল আক্তারের দুই শিশুসন্তানের জবানবন্দি গ্রহণের নির্দেশ দেন।

তিনি দাবি করেন, এক বছর আগে আদালতের নির্দেশনা থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা না এসে শিশুদের চট্টগ্রামে হাজির করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। এ বিষয়ে তিনি হাইকোর্টে রিভিশন করেন। হাইকোর্ট ৮ জুন ২০২২ তারিখে আবারো তদন্ত কর্মকর্তাকে বাবুল আক্তারের শিশুপুত্র ও কন্যাকে মাগুরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে এসে জবানবন্দি গ্রহণের নির্দেশ দেন বলে জানান হাবিবুর রহমান।

অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বলেন, হাইকোর্টের আদেশ ছিল ভয়-ভীতিহীন পরিবেশে বাচ্চাদের জবানবন্দি গ্রহণ করতে হবে। জবানবন্দি গ্রহণকালে তদন্ত কর্মকর্তা হাইকোর্টের আদেশের বাইরে অতিরিক্ত একজন লোক নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন। জবানবন্দি গ্রহণকালীন সময় তদন্ত কর্মকর্তা কক্ষের বাইরে এসে ঊর্ধ্বতন একজনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলতে সমাজসেবা কার্যালয়ের ছাদে চলে যান। এছাড়া ঝিনাইদহ থেকেও পিবিআই’র একটি টিম সকালে এসে সমাজসেবা কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। এর মাধ্যমে শিশুরা মানসিকভাবে চাপে পড়ে। তিনি বলেন, এটি আদালতের আদেশের সুস্পষ্ট লংঘন। এ ব্যাপারে আমরা মহামান্য আদালতকে অবহিত করবো।

তিনি আরো জানান, এর আগেও বাবুল আক্তারের শিশুসন্তান আক্তার মাহমুদ মাহিরের জবানবন্দি গ্রহণ করেছিলেন সিএমপি মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের তদন্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার কামরুজ্জামান। এই তদন্ত কর্মকর্তা মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন, মিতুর মা শাহিদা মোশারফ, মিতুর বোন শায়লা মোশারফ, কাজের মেয়ে ফাতেমা বেগম ওরফে বাপ্পি মনোয়ারা ও সিকিউরিটি গার্ড আব্দুস সাত্তারের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বলেন, এখন নতুন করে আবার তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হচ্ছে। তদন্ত সংস্থা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাবুল আকতারকে ফাঁসানোর জন্য এটি করছে। এ ছাড়া তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে আমরা দেখেছি এহতেশামুল হক ভোলা নামের একজনকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এতে প্রমাণ হয় বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ সাজানো ও বানোয়াট। ঊর্ধ্বতন এক পিবিআই কর্মকর্তার নির্দেশে বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে এসব করা হচ্ছে। গত দেড় বছর যাবৎ অন্যায়ভাবে তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আনতে পারেনি। আমরা বাবুলের মুক্তি দাবি করছি এবং সম্পূর্ণ নতুন তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি দবি করছি। এই মামলার মূল পরিকল্পনাকারী কামরুল শিকদার মুছাকে পুলিশ গ্রেফতার না করে আড়াল করে রেখেছে। আমরা সরকারের কাছে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

বাবুল আক্তারের বাবা অবসরপ্রাপ্ত উপ-পুলিশ পরির্দশক আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া জানান, শিশুদের বিরতিহীনভাবে তিন ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালে ওয়াসরুমে যাওয়ার কথা বলে বাইরে চলে আসে। এবং ১০ মিনিট পর মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রুমে প্রবেশ করে আবার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। মহামান্য হাইকোর্ট জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা, একজন মহিলা পুলিশ অফিসার মাগুরা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা ও শিশু দুটির দাদাকে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা সেখানে অতিরিক্ত হিসেবে পুলিশ সদস্য চট্টগ্রাম পিবিআই’র এএসআই রাজিবকে সাথে রাখেন। এছাড়া মেজবাহ নামে পিবিআই চট্টগ্রামের একজন পরিদর্শক সকাল সাড়ে ৯টায় সমাজসেবা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শিশুদের সাথে আসা চাচি-ফুফিদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। এ ব্যাপারে প্রবেশন কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগে জানানো হয়েছে।

মিতু হত্যা মামলার পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মো: ওমর ফারুক জানান, ‘মাহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে আমার মাগুরা জেলা সমাজসেবা কার্যলয়ে এসেছি মিতু হত্যা মামলায় তার শিশুসন্তানদের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য। আমাদের যতটুকু প্রয়োজন আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।’

আক্তার মাহমুদ মাহিরের এর আগেও জবানবন্দি গ্রহণ করেছিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে একাধিকবার সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ জুন শিশু ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে জিইসি মোড়ে নির্মমভাবে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। ওই সময় ছেলে আক্তার মাহমুদ মাহিরের বয়স ছিল ছয় বছর এবং কন্যা তাবাচ্ছুমের বয়স ছিল চার বছর।


আরো সংবাদ


premium cement