০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`

আদিয়ান মার্টের সিইওর বাড়িতে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের তালা

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আদিয়ান মার্টের সিইও জুবায়ের সিদ্দিকীর বাড়িতে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করে গ্রাহকরা - ছবি : নয়া দিগন্ত

নানা অভিযোগে বন্ধ হওয়া চুয়াডাঙ্গার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আদিয়ান মার্টের নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জুবায়ের সিদ্দিকীর বাড়িতে তালাবদ্ধ করেছেন দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আগত প্রায় ১০০ জন প্রতারিত গ্রাহক।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে তারা প্রতিষ্ঠানটি ও সিইও’র বাড়িতে তালা দেন। এর আগে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা প্রতিষ্ঠানটির সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর শুক্রবার রাত ১২টার দিকে খুলনা ও চুয়াডাঙ্গা থেকে আদিয়ান মার্টের সিইও জুবায়ের সিদ্দিকী মানিক, মহা-ব্যবস্থাপক মাহমুদ সিদ্দিকী রতন, উপদেষ্টা আবু বক্কর সিদ্দিকী ও ম্যানেজার মিনারুল ইসলামকে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ মামলায় গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৬)। কয়েকদিন আগে প্রতিষ্ঠানের সিইও জুবায়ের সিদ্দিকী মানিক বাদে সবাই জামিনে জেল থেকে বের হয়েছেন।

গ্রাহকরা বলেন, আমরা মোটরসাইকেল, ফ্রিজসহ বিভিন্ন পণ্য কেনার জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা দিয়েছি। টাকা ফেরত পেতে কয়েক দফায় তাদের সাথে বসেও কোন সুরহা হয়নি। সিইওর বাবা প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা আবু বক্কর সিদ্দিকী টাকার দেয়ার আশ্বাস দিলেও বার বার ঘোরাচ্ছেন। আমরা এখন পথে বসেছি।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের বোয়ালমারি গ্রামের মজিবুল হক নামে এক গ্রাহক বলেন, গত ১ বছর আগে মোটরসাইকেল কেনার জন্য ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা পেমেন্ট করি। এখনো টাকা পাইনি। আমরা মামলা না করলেও অন্য কেউ মামলা করে। এতে সিইওরসহ চারজন গ্রেফতার হয়। তারা কয়েকদিন আগে জেল থেকে জামিনে বের হয়।

তিনি আরো বলেন, জেল থেকে বের হওয়ার পর আমরা তাদের সাথে টাকার কথা বললে কোন সাড়া দেয়নি।

প্রান্ত নামে এক গ্রাহক বলেন, আমি গত বছরের মে মাসে ফ্রিজ, মোটরসাইকেলসহ ৬ লাখ টাকার পণ্য অর্ডার করি। ওই মাসেই টাকা পেমেন্ট করি। এরপর থেকে কোনো পণ্য তো দেয়নি, আবার টাকার কথা বললে দেব-দিচ্ছি বলে ঘুরিয়ে যাচ্ছেন। আমরা বেকার যুবক। ধার-দেনা করে টাকা দিয়েছি। এখন পথে বসেছি।

তিনি আরো বলেন, দু’দিন আগে আমরা কয়েকজন জামিনে পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি মহা-ব্যবস্থাপক মাহমুদ সিদ্দিকী রতন, উপদেষ্টা আবু বক্কর সিদ্দিকী ও ম্যানেজার মিনারুলের কাছে টাকার জন্য বলি। তারা আমাদেরকে ১ মাসের সময়ের কথা বললেও কোনো উল্লেখযোগ্য গ্যারান্টি দেয়নি। এজন্য আমরা আজ আদিয়ান মার্টের প্রতিষ্ঠান ও সিইওর বাড়িতে তালা মেরে দিয়েছি। আমরা যেকোন মূল্যে টাকা চাই।

খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) সুখেন্দু বসু ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের কাছে বিস্তারিত শোনেন ও আইন নিজেদের হাতে তুলে না নেয়ার জন্য আহ্বান করেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের শান্ত করতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।


আরো সংবাদ


premium cement