০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`
জানে না কর্তৃপক্ষ

চুয়াডাঙ্গায় আইসোলেশন থেকে ভারত ফেরত ৩ রোগীকে রেফার্ড

কোভিড-১৯ প্রতিরোধে গঠিত জেলা পর্যায়ের কমিটির সভা - ছবি : নয়া দিগন্ত

কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটের আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে ভারত ফেরত তিনজন করোনা আক্রান্ত রোগীকে রেফার্ড করা হয়েছে। আইসোলেশন মেয়াদ পূর্ণ না করেই ওই রোগীরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

গত বুধবার বিকেলে ৫টার দিকে করোনা ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসাধীন ডা: মার্ভিন আনিক চৌধুরী ওই তিনজন রোগীকে রেফার্ড করেন।

ভারত ফেরত করোনা আক্রান্ত রোগীদেরকে রেফার্ড করার পূর্বে জেলা সিভিল সার্জন, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ও কোভিড-১৯ জেলা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কমিটির সভাপতিকে জানিয়ে রেফার্ড করার কথা থাকলেও কাউকেই কিছু জানাননি তিনি। ওইদিন বিকেলেই রেফার্ডকৃতরা নিজ নিজ উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কোভিড-১৯ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত জেলা পর্যায়ের কমিটির করণীয় সম্পর্কিত সভায় সদর হাসপাতালে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা: ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন এসব তথ্য জানান।

সদর হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, রেফার্ডকৃতরা হলেন মেহেরপুর পৌর এলাকার স্টেডিয়ামপাড়ার গিয়াস উদ্দিন (৩০)। তিনি ১৫ জানুয়ারি দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ।

রেফার্ডকৃত অন্য দু’জন হলেন রাজশাহী জেলার মতিহার গ্রামের পশ্চিমপাড়ার দেলোয়ার হোসেন (৩৩) ও একই জেলার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের তুরজিনা বেগম (৫৪)। দু’জনই গত বুধবার সকালে একই চেকপোস্ট দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন।

তাদের শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ায় তিনজনকেই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেয়া হয়।

ডা: ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যার পরে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে ভারত ফেরত তিনজন রোগীকে রেফার্ড করা হয়েছে বলে জানতে পারি। এ সময় ওই ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসকের নিকট বিষয়টি জানতে চাইলে তখন তিনি আমাকে রেফার্ডের বিষয়ে জানান। যেহেতু করোনা আক্রান্ত রোগীদেরকে অন্য সাধারণ রোগীর মত রেফার্ড করা যায় না। তাদেরকে সম্পূর্ণ আলাদা অ্যাম্বুলেন্স এবং রেফার্ডকৃত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনকে জানাতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলা সিভিল সার্জন করোনা আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। একটি ট্রেনিংয়ের জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন হাপসাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও)। ওই তিনজন রোগীকে রেফার্ড করার পূর্বে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে আমাকে অথবা ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনকে জানানো উচিত ছিল।’

এ বিষয়ে ঘটনার দিন করোনা ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসাধীন ডা: মার্ভিন আনিক চৌধুরী বলেন, ‘যে তিনজন রোগীকে রেফার্ড করা হয়েছে প্রত্যেকেই চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে তুরজিনা বেগমের চোখে সমস্যা ছিল। ভারতের চিকিৎসক তাকে দেশে ফিরে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে বলেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। নাক-কান গলার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সদর হাসপাতালে না থাকায় দেলোয়ার হোসেনকেও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। ব্যাক পেইনের সমস্যাজনিত চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরেছেন গিয়াস উদ্দিন। প্রতিদিন ফিজিওথেরাপি দেয়ার পরামর্শ থাকায় এবং এখানে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা না থাকায় তার নিজ জেলা মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, ‘সকল নিয়মনীতি মেনেই ওই তিন রোগীতে রেফার্ড করেছি। হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: ফাতেহ আকরামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে ওই তিন রোগীকে রেফার্ডের জন্য আমাকে নির্দেশ দেন। আমি তার কথামতোই নিয়মনীতি মেনে এবং রেফার্ড করার আগে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন ও ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন সিনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা: ওয়ালিউর রহমান নয়ন স্যারকে মোবাইলের মাধ্যমে জানিয়েছি। রোগীরা প্রত্যেকে প্রাইভেট কার ভাড়া নিয়ে গেছেন।’

চুয়াডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন সিনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা: ওয়ালিউর রহমান নয়ন বলেন, ‘সন্ধ্যা ৭টার দিকে করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: মার্ভিন অনিক চৌধুরী ভারত ফেরত তিনজন রোগীকে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার স্বার্থে রেফার্ড করার বিষয়ে জানান। তবে ওই তিন রোগীকে কখন রেফার্ড করা হয়েছে সে সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না।’


আরো সংবাদ


premium cement