৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা আটক

নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা আটক - ফাইল ছবি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামে নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুল খালেক (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী।

কয়েকদিন আগে নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সোমবার সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হলে ওই ব্যক্তিকে বাড়িতে আটক করে উত্তম-মধ্যম দেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে উত্তেজিত জনতার কবল থেকে হেফাজতে নিলে পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা থানায় একটি মামলা করেছেন।

থানায় লিখিত অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামের আব্দুল খালেক তার সহজ সরল পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়েকে দীর্ঘ দিন ধরে যৌন হয়রানি করে আসছিল। আব্দুল খালেক তার ছোট মেয়েকে গত এক বছর ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌন হয়রানির একপর্যায়ে একাধিকবার ধর্ষণও করেন।

ভুক্তভোগীর মা পাপিয়া খাতুন বলেন, আমার স্বামী আব্দুল খালেক আমি বাড়িতে না থাকার সুযোগে আমার মেয়েকে যৌন হয়রানি করে আসার ঘটনাটি জানার পর আমি প্রতিবাদ করলে মা-মেয়ে দু’জনকেই গলা কেটে হত্যার হুমকি দেয়। আমি সব কিছু চিন্তা করে মুখ বুজে সহ্য করতে থাকি। কিন্তু আমার স্বামী খালেকের চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয় না। সে নানাভাবে মেয়েকে যৌন হয়রানি করা অব্যাহত রাখে। আমি অনেক সময় অনেক ঘটনা দেখেও কিছু বললে সে আমাকে কি করছি, কি হয়েছে বলে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেয়। এর মধ্যে দু’দিন আমার মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। সর্বশেষ ৭ অক্টোবর সকালে আমি মেয়েকে বাড়িতে রেখে আমার বোনের বাড়ি মহেশপুরের ঘুগরি পান্তাপাড়ায় যাই। ওইদিন রাতে সুযোগ পেয়ে আমার স্বামী আবারো মেয়েকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। আমি বাড়িতে এসে ঘটনার কথা শুনে অবাক হয়ে যাই। কিন্তু ভয়ে কিছু বলতে না পেরে সুযোগ খুঁজি কবে খালেক বাড়ি থেকে অন্য কোথায় যায়। এ অবস্থায় আমার স্বামী খালেক বাড়ি থেকে কুষ্টিয়া গেলে আমি গত তিন দিন আগে বাবার বাড়ি মিনহাজপুর গিয়ে ঘটনার কথা বললে লোকজন আমার স্বামীকে বাড়িতে আটকিয়ে মারধর করে।

ধর্ষণের শিকার ছাত্রী জানায়, তার বাবা এ পর্যন্ত তাকে তিন দিন ধর্ষণ করেছে। তার বাবা তাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিল। ঘটনার কথা বললে দা দেখিয়ে কেটে ফেলবে বলে হুমকি দেয়ায় আমি পাড়ার কারো সাথে ঘটনার কথা বলেনি। তবে চাচাতো ভাবী ও মায়ের সাথে বলেছি।

বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার খায়রুল ইসলাম বলেন, মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনা অবাক করার মতো। ঘটনাটি যদি সত্যিই হয়, তবে নরপিশাচ বাবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। যা শুনেছি তাতে সত্যি বলেই মনে হয়েছে। মেয়েটি সহজ-সরল প্রকৃতির হওয়ার সুযোগে নরপিশাচ বাবা এই জঘন্য ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল খালেক বলেন, আব্দুল খালেককে গ্রামবাসী আটকিয়ে রাখার কথা শুনে পুলিশ সেখান থেকে তাকে আটক করেন। ঘটনাটি একটি স্পর্শকাতর ঘটনা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আটক বাবা আব্দুল খালেককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য দিকে ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ড ও তার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।



আরো সংবাদ