১৯ অক্টোবর ২০২১, ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

ভারতে পাচার হওয়া ৩৭ বাংলাদেশী ৩ বছর পর দেশে ফিরেছেন


বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন ভারতে পাচার হওয়া ৩৭ বাংলাদেশী নারী-পুরুষ এবং কিশোর-কিশোরী। তিন বছর আগে দালালের মাধ্যমে অবৈধ পথে এসব নারী-পুরুষ এবং কিশোর-কিশোরী বিভিন্ন সময়ে ভারতে গিয়েছিলেন।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করেন।

জানা যায়, এসব নারী-পুরুষ ও শিশুর বাড়ি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। তাদের সবার বয়স ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। প্রায় তিন বছর আগে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে তাদের ভারতে পাচার করা হয়েছিল।

দেশে ফিরে আসা নারী-পুরুষ ও শিশুরা হলেন, কুমিল্লার সাহান হাওলাদার, খুলনার আনন্দ মণ্ডল, মুস্তাফিজুর রহমান, শিমুল শেখ, আবুল হাসান ও মোস্তফা গাজী, যশোরের আয়শা শেখ, জেসমিন বিবি, রুহুল হোসেন, রাকিব শেখ, শাকিল শেখ ও শাকিব হাসান, গোপালগঞ্জের জোবায়ের সরদার, বাগেরহাটের লাবনি আক্তার, রহিমা খান, রাকিব, শাহিল ফারাজি, আবু সালে শেখ, শহিদুল, রাকিব হাওলাদার, মুন্সিগঞ্জের আরিন বাইদা, সাতক্ষীরার মাজেদা খাতুন, সুশান্ত মন্ডল, হালিমা খাতুন, ঠাকুরগাঁওয়ের নিত্যনন্দ রায়, রাজবাড়ির প্রিয় বালা, সুনামগঞ্জের আমেনা খাতুন, পিরোজপুরের মুক্তা আক্তার, নড়াইলের নিশা আক্তার, আবু বক্কর, বিদি খাতুন, রাজশাহীর রোমী খাতুন, ফরিদপুরের নারগিস খাতুন, বরিশালের জুয়েল সরদার ও কুড়িগ্রামের শাহজালাল।

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের প্রোগ্রাম কর্মকর্তা মুহিত হোসেন জানান, সংসারে অভাব অনটনের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় ভালো কাজের কথা বলে এসব নারী-পুরুষ ও শিশুকে ভারতে পাচার করে দালালরা। পরে তাদের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হয়।

ভারতীয় পুলিশ পাচারকারীদের কাছ থেকে তাদের উদ্ধার করে আদালতে পাঠায়। সেখান থেকে তাদের আশ্রয় হয় ভারতীয় এনজিও সংস্থার শেল্টার হোমে। পরে উদ্ধার হওয়ারা বাংলাদেশী কি না তা যাচাই করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারত সরকারের দেয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে এসব নারী-পুরুষ ও শিশুরা আজ দেশে ফিরেছেন।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবিব জানান, সীমান্ত পথে বিভিন্ন সময়ে ভারতে পাচার হওয়া ৩৭ জন নারী, পুরুষ ও শিশুরা ভারত সরকারের দেয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে আজ দেশে ফিরে এসেছে। ইমিগেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পোট থানায় সোপর্দ করা হবে। সেখান থেকে তাদেরকে তিনটি বেসরকারি এনজিওর হাতে তুলে দেয়া হবে।



আরো সংবাদ