১৯ জুন ২০২১
`

কেশবপুরে আ’লীগের সংঘর্ষে আহত ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু, ব্যাপক ভাঙচুর

কেশবপুরে আ’লীগের সংঘর্ষে আহত ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু, ব্যাপক ভাঙচুর - ফাইল ছবি

যশোরের কেশবপুরে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সরকারি মানবিক সহায়তা দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত উপজেলা ছাত্রলীগ শারাফত হোসেন সোহান (২৫) মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাত ১২টার দিকে তিনি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ খবর এলাকায় জানাজানির পর বৃহস্পতিবার প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।

মৃত ছাত্রলীগ নেতা শারাফত হোসেন সোহান কেশবপুর পৌরসভার ৯ নম্বর বালিয়াডাঙ্গা ওয়ার্ডের আব্দুল হালিমের ছেলে। তার চাচা আবুল কালাম আজাদ কেশবপুর পৌর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক। বিগত পৌর নির্বাচনে পৌরসভার ৯ নম্বর বালিয়াডাঙ্গা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন তিনি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ৭ মে বেলা ১১টার দিকে কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌরসভার ৯ নম্বর বালিয়াডাঙ্গা ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর শেখ এবাদত সিদ্দিক বিপুল এবং পরাজিত কাউন্সিলরপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ গ্রুপের সমর্থকরা কেশবপুর পৌর কারিগরি কলেজ চত্বরে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণের সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দু’পক্ষের ১৬ জন আহত হয়। এর মধ্য আবুল কালাম আজাদের ভাইয়ের ছেলে ও ছাত্রলীগ নেতা সোহান মারাত্মক আহত হন। প্রথমে তাকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে ওই দিনই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন।

এ দিকে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু সংবাদ বৃহস্পতিবার সকালে কেশবপুরে পৌঁছানোর পর উত্তেজিত কিছু যুবক প্রতিপক্ষের সাতটি বাসাবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যপক ভাঙচুর করেছে। এর মধ্যে কাউন্সিলর এবাদত সিদ্দিক বিপুলের বাড়িও রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অরুন কুমার বসু জানান, মারামারির মামলায় ছয়জন আসামি ছিল। ওই মামলাটিতে হত্যা মামলার ধারা ৩০২ যোগ করা হয়েছে। আসামি ওই ছয়জনই। হত্যা মামলায় বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আবু দাউদ গাজীর ছেলে মেহেদী হাসানকে (৩০) পুলিশ ১৩ মে রাতে আটক করেছে।

ভাঙচুরের বিষয়ে অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন কেশবপুর থানার ওসি।



আরো সংবাদ