২২ জুন ২০২১
`

বন্দর এলাকায় ভারতীয় ট্রাকচালকদের ঘোরাঘুরি, ঝুঁকিতে বেনাপোলবাসী

বন্দর এলাকায় ভারতীয় ট্রাকচালকদের ঘোরাঘুরি, ঝুঁকিতে বেনাপোলবাসী - ছবি- নয়া দিগন্ত

ভারত থেকে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকচালকদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা না থাকায় করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট (ধরন) সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বেনাপোল স্থলবন্দরে বাণিজ্যের সাথে জড়িত প্রায় ২০ হাজার মানুষ। ভারতীয় পণ্যবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ট্রাকে জীবাণুনাশক স্প্রে ও ট্রাকচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা হলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের বাদ রেখে অনভিজ্ঞ আনসার সদস্য দিয়ে চলছে ট্রাকচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ।

এ দিকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় সমাজিক দূরত্বের বালাই নেই বন্দর অভ্যন্তরে। স্থানীয়রা বলছেন, ভারত থেকে যে ট্রাকচালকরা বন্দরে আসছেন, তারা ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। বন্দর কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় অবাধে মাস্ক-পিপি ছাড়া যত্রতত্র চলাফেরা করছে চালক ও খালাসিরা। অনেকের কাছে মাস্ক বা পিপি থাকলেও তা ঠিকমতো ব্যবহার করছেন না। কারো মুখে মাস্ক থাকলেও তা ঝুলছে থুতনিতে।

বেনাপোল বন্দর সূত্র জানায়, ভারতে করোনার নতুন সংক্রমণে মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে সরকার বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রীদের যাতায়াত বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু দেশের শিল্প-কলকারখানাগুলোতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বেনাপোল বন্দর লকডাউনের আওতামুক্ত রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবে রেল ও স্থলপথে বেনাপোল-পেট্রাপোল দুই দেশের মধ্যে চলছে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। বন্দরে বাণিজ্য সম্পাদনায় কাজ করছেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকসহ প্রায় ২০ হাজার লোক। কিন্তু বন্দরে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি বেড়েছে। বন্দরে আনসার সদস্যদের যোগসাজশে কিংবা চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা উন্মুক্ত শরীরে রাস্তায় বাধাহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমনকি বাজার ঘাটে কেনাকাটার কাজ করছেন ভারতীয়রা।

ভারত থেকে ফেরত আসা যশোর কোয়ারেন্টিনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে শনিবার ছয়জনের শরীরে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এরা চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। এরপর বন্দরে ভারতীয়দের অবাধে চলাচলে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বন্দর এলাকার মানুষের মাঝে। তাদের দাবি, দ্রুত এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ট্রাকচালকেরা বেনাপোল বন্দরে আসছেন পণ্য নিয়ে। বন্দর ও কাস্টমসকে বলা হয়েছে, যাতে ভারতীয় চালক ও হেলপাররা বন্দরের বাইরে বের হতে না পারে। তাদেরকে সামাজিকভাবে বাধা না দিলে বেনাপোলে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।



আরো সংবাদ