১৩ জুন ২০২১
`

লিচু পাড়তে না দেয়ায় খুন হলেন মামা

বোন ও ভাগ্নের হামলায় মামা খুন - ফাইল ছবি

বসতভিটার বিরোধপূর্ণ জমির লিচু পাড়তে না দেয়ায় বোন ও ভাগ্নের হাতে হামলার শিকার হন মামা কুদ্দুস মোল্যা (৬০)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার রায়পুর গ্রামে। মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবার নিশ্চিত করেছেন। কুদ্দুস মোল্যা ওই গ্রামের মৃত ছাত্তার মোল্যার ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে কুদ্দুস মোল্যা ও সিদ্দিকুর রহমান সরল প্রকৃতির মানুষ। ভাই ইদ্রিস মোল্যা ও তিন বোনের স্বামীরা প্রভাবশালী। তারা অনেক দিন থেকেই ওই দুই ভাইকে ভিটেছাড়া করতে চেষ্টা করে আসছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া আদালতে একাধিক মামলাও হয়েছে। পরে কুদ্দুস মোল্যা একই গ্রামে জমি কিনে বাড়ি করে বাস করছেন।

নিহতের ভাতিজা জুয়েল রানা বলেন, শুক্রবার দুপুরে ভিটে বাড়ির গাছের লিচু পাড়তে যান খুন হওয়া কুদ্দুস মোল্যার বোন কমেলা খাতুন। তাকে কুদ্দুস মোল্যা ও তার পরিবারের লোকজন বাধা দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয় বোন-ভাগ্নেরা। পরে তারা ১৫ থেকে ২০ জন সংঘবদ্ধ হয়ে বিকেলে কুদ্দুস মোল্যার বাড়িতে গিয়ে তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। বাঁচাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় কুদ্দুস মোল্যাকে প্রথমে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে শনিবার দুপুরে তার মৃত্যুর খবর আসে।

আহত সুইটি সুলতানা (২৬), নাদিমা (৩৫) ও জুয়েল রানাকে (৩৫) মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুদ্দুস মোল্যার নিহতের খবরে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। শিশু ও মহিলারা বাড়ি পাহারা দিচ্ছেন।

মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারক বিশ্বাস বলেন, মৃত্যুর সংবাদ শুনেছি। এখনো কোনো মামলা হয়নি। মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



আরো সংবাদ