১৭ জানুয়ারি ২০২১
`

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ তালাবন্দী করে কাজে গেলেন স্বামী!

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ তালাবন্দী করে কাজে গেলেন স্বামী! - প্রতীকী

সাতক্ষীরায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ ঘরে তালাবন্দী করে ইটভাটার কাজে চলে যান ঘাতক স্বামী। বুধবার ভোরে সাতক্ষীরা সদরের লাবসা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামে ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী নিহতের স্বামী আব্দুল খালেককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। পরকীয়ার জেরে ওই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। নিহতের নাম পারভিন আক্তার (২৪)। তিনি সাতক্ষীরা সদরের রাজনগর গ্রামের আব্দুর রহিম ওরফে বাবুর মেয়ে।

রাজনগর জামাইপাড়ার ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম ও ইটভাটা শ্রমিক তরিকুল ইসলাম জানান, তাদের বোন পারভিন আক্তারের সাথে হাজীপুর গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে ভাটা শ্রমিক আব্দুল খালেকের সাথে আট বছর আগে বিয়ে হয়। বর্তমানে ফারজানা নামে তাদের একটি মেয়ে আছে। তাদের বোন পারভিন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সম্প্রতি খালেক একই এলাকার এক নারীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

এ নিয়ে এক সপ্তাহ যাবৎ খালেকের সাথে পারভিনের বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে বুধবার ভোরে পারভিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার শরীরে কাঁথা চাপা দিয়ে বাইরের দিক থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে ইটভাটায় কাজ করতে চলে যান।

রাজনগর জামাইপাড়ার ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম ও রাজনগর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে খালেক তার স্ত্রী পারভিনকে মারপিট করেন। বুধবার সকালে তাদের মেয়ে ফারজানার কান্না শুনে তারা ঘরের তালা ভেঙে ঘরে ঢোকেন। এ সময় সবাই পারভিনকে কাঁথা মোড়া অবস্থায় দেখতে পান। নিহতের গলায় দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করার মতো দাগ দেখতে পান। এরপর তারা ভাটপাড়া হাবিবুর রহমানের ভাটা থেকে খালেককে ধরে এনে পুলিশে সোপর্দ করে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বুধবার দুপুরে পারভীন আক্তারের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী আব্দুল খালেককে আটক করা হয়েছে।



আরো সংবাদ