২৭ নভেম্বর ২০২০
আ’লীগ-মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াই উদ্বোধন

মহম্মদপুরে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ফের উদ্বোধনের দাবি

মহম্মদপুরে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ফের উদ্বোধনের দাবি - নয়া দিগন্ত

মাগুরার মহম্মদপুরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি চত্বর ও চত্বরের বঙ্গবন্ধু ম্যুরালটি আবার উদ্বোধনের দাবি উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় এ দাবি তোলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

জনপ্রতিনিধি ও মুক্তিযোদ্ধারা জানান, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধকরে দেশকে স্বাধীন করেছেন যে মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ছাড়াই তার ম্যুরাল ও স্মৃতি চত্বর উদ্বোধন করা হয়েছে যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট উপজেলা পরিষদ চত্বরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি চত্বর ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় এমপি, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ রেখেই তৎকালিন ইউএনও মিজানুর রহমান মাগুরা জেলা প্রশাসক ড. মো. আশরাফুল আলমকে দিয়ে উদ্বোধন করান। ফলে উপজেলা আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধারাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে ওই ইউএনও’র বদলী ও নতুন ইউএনও’র যোগদানের প্রথম মাসিক সমন্বয় সভায় ফের উদ্বোধনের দাবি তোলা হয়।

উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান (প্যানেল চেয়ারম্যান) বেবী নাজনীন জানান, ‘গত ১৫ আগস্ট স্থানীয় এমপি, আট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের নেতারাসহ মুক্তিযোদ্ধাদের আমন্ত্রণ ছিল না। আমরা জানতাম সেখানে জেলা প্রশাসক মহোদয়, উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব ও ইউএনও সাহেব উপস্থিত থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন। পরে দেখলাম সেখানে একটি উদ্বোধনের মাইলফলক লাগানো। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরাসহ আমরা মাসিক সমন্বয় সভায় স্থানীয় এমপি ড. শ্রী বীরেন শিকদারসহ আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ফের উদ্বোধনের দাবি জানিয়েছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘উদ্বোধনের আগে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমানকে বলেছিলাম বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল আওয়ামী লীগের সম্পদ বললে ভুল হবে না যদিও জাতীয় সম্পদ। সেহেতু আপনি এমপির সাথে কথা বলে ম্যুরাল উদ্বোধনের সময় দেন আমরা থাকব। উনি (সাবেক ইউএনও) উত্তর দিলেন, ‘এমপি তো কোনো অর্থনৈতিক সাহায্য করে নাই। ডিসি সাহেব
আমাকে অর্থ দিয়েছে তাকে দিয়ে করাব।’ তাছাড়া তিনি উদ্বোধনের সময়ও কোনো দাওয়াত দেননি।

সাবেক ইউএনও মিজানুর রহমানের সাথে মোবাইলে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল জানান, বঙ্গবন্ধু তো কারো একার জিনিস না। একবার উদ্বোধন হয়েছে। আবার উদ্বোধনের জন্য মাসিক সমন্বয় সভায় উঠেছে। পরিষদের জায়গা, পরিষদের অর্থ। পরিষদ সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ ব্যাপারে মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শ্রী বীরেন শিকদার বলেন, বাংলাদেশের সমস্ত উপজেলায় সরকারি টাকায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ হয়েছে। এটা সরকারি বরাদ্দের টাকা। এটা তো কারো ব্যক্তিগত টাকার ব্যাপার না। ব্যক্তিগত টাকা লাগেও নাই।


আরো সংবাদ