০১ ডিসেম্বর ২০২০

চৌগাছায় আমন ক্ষেতে ইঁদুরের উৎপাতে দিশেহারা কৃষক


যশোরের চৌগাছায় আমন ক্ষেতে ইঁদুরের উৎপাতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকেরা। ধান উৎপাদনে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইঁদুর। বিভিন্ন কোম্পানীর ঔষধ ব্যবহার আর ফাঁদ পেতেও ইঁদুর দূর করতে না পারায় কৃষকের মাঝে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় আগাম জাতের বিনা-৭, বিনা-১৭, ব্রি-৫১, ব্রি-৭১, ব্রি-৭৫, ব্রি-৮০, ব্রি-৮৭ রোপা আমন চাষ হয়েছে দুই হাজার তিন শ’ ৭০ হেক্টর জমিতে। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটলেও সেই হাসি কেড়ে নিচ্ছে সর্বনাশা ইঁদুর। এরা উপজেলায় ফসল উৎপাদন ও গুদামজাত শস্য সংরক্ষণে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ইঁদুরের উৎপাতে বছরে এক হাজার দুই শ’ ৯০ টন ফসল নষ্ট হয়। উপজেলার ফুলসারা, পাতিবিলা, নারায়নপুর, স্বরুপদহ, সুখপুকুরিয়া, চৌগাছা সদর ও পৌর এলাকায় ইঁদুর ক্ষতি করলেও সিংহঝুলী, পাশাপোল, ধুলিয়ানী, জগদিশপুর ও হাকিমপুর ইঁদুরের উৎপাত বেশি হয়ে থাকে। এসব এলাকায় ধান ও গমের চাষ বেশি হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৭৫ ভাগ জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ কৃষকের জমিতে ইঁদুর কাঁচা ধান কেটেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ইঁদুর প্রতি বছরে উৎপাদিত গম, ধানসহ অনেক ফসল ব্যাপক হারে নষ্ট করে। শাকসবজি ও ফলমূল জাতীয় ফসলের পাশাপাশি বাসা-বাড়ী, গোলা ও গুদামঘরে সংরক্ষিত ফসলেরও মারাত্মক ক্ষতি করছে।

আবার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ইঁদুরের কারণে খামারজাত উৎপাদনের বছরে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। ইঁদুর হাঁস-মুরগির খামারে গর্ত করে। মুরগির খাবার, ডিম ও ছোট মুরগি খেয়ে বছরে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি করে। এছাড়াও অন্যান্য গবাদিপশুর খাবার বিচালী, খড় নষ্ট করে বড় অঙ্কের ক্ষতি করে ইঁদুর।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম মিল্টন বলেন, ইঁদুর সমস্যার একমাত্র সমাধান দমন ব্যবস্থাপনা পদ্বতি। এ পদ্ধতিতে কাজ করছে পেশাদার ইঁদুর শিকারি, কৃষি বিভাগের আইএফএমসি, আইপিএম ও ক্লাবের সদস্যরা। দমন পদ্ধতিগুলোকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। পরিবেশ সম্মত দমন ও বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে দমন বা রাসায়নিক পদ্ধতিতে দমন। পেঁচা, গুইসাপ, বেজি, শিয়াল, বিড়াল এসব প্রাণীর প্রধান খাদ্য ইঁদুর। কিন্তু দিনে দিনে এ প্রাণীগুলো বিলুপ্ত হওয়ায় ইঁদুরের প্রকোপ বেড়েছে। প্রাণীগুলোকে সংরক্ষণ করলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ ইঁদুর সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলার আন্দাকোটা গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ বলেন, চলতি মৌসুমে অন্যের তিন বিঘা জমি বর্গায় আমন চাষ করেছি। এ ধান ক্ষেতে ইঁদুর প্রায় পাঁচ শতক জমির কাঁচা ধান কেটে ফেলেছে। রাতে ক্ষেতের পাশে পুরনো টায়ার পোড়ানো, পটকা ফোঁটানো, বিষ টোপ ব্যবহার করেও ইঁদুর দমন করা যাচ্ছে না।

উপজেলার গরীবপুর গ্রামের কৃষক হুমায়ন কবির বলেন, এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়েও ইঁদুর দমন করতে পারছি না। এবার আমন ধান লাগিয়েছি মোট আড়াই বিঘা। কিন্তু ইঁদুর খেয়ে অনেক ধান নষ্ট করেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দীন বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকেরা ইঁদুর কিভাবে দমন করতে হয় সেটা জানেন। মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকের সঙ্গে কাজ করছেন। সারাবছরই আমরা ইঁদুর নিধনের বিষয়ে কৃষকদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। ইঁদুর নিধন কার্যক্রমে আমরা সার্বিকভাবে মাঠে আছি।


আরো সংবাদ