২৮ অক্টোবর ২০২০

খুলনায় স্কুলছাত্র বাপ্পী হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন

-

খুলনায় আলোচিত স্কুলছাত্র মফিজুল ইসলাম বাপ্পী (১৬) হত্যা মামলায় রকি নামে একজনের মৃত্যুদণ্ড ও আরো পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। বুধবার খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এস এম আশিকুর রহমান মামলার এ রায় ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১০ বছর পর ঘোষিত রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রকিকে একই সাথে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি খুলনা মহানগরীর খালিশপুর এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে।

এছাড়া একই এলাকার আবু সাঈদের ছেলে আল-আমিন, আব্দুল মান্নানের ছেলে নজরুল, মোমরেজের ছেলে রবিউল, আনছার আলীর ছেলে মিলন ও আজিজুর রহমান হাওলাদারের ছেলে মুজিবর হাওলাদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রবিউল, মিলন ও মুজিবর হাওলাদার পলাতক রয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় হাসান ও ইব্রাহিম নামে অপর দুজনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় খুলনা মহানগরীর খালিশপুরের প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের স্কুল মাঠে বাপ্পী ও তার বন্ধু রাজু একসাথে বসে গল্প করছিলেন। তখন পূর্বশত্রুতার জের ধরে দণ্ডপ্রাপ্তরা হকিস্টিক ও লোহার রড নিয়ে রাজুকে মারতে আসেন। বাপ্পী ঠেকাতে গেলে তারা হকিস্টিক দিয়ে বাপ্পীর মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এই ফাঁকে রাজু পালিয়ে যান।

স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো: ইসমাইল শেখ ও ডা: সহদেব কুমার দাসের কাছে মৃত্যুকালীন জবানবন্দী দেয় বাপ্পী। রাত ১১টা ৫ মিনিটে বাপ্পী মারা যায়। এ ঘটনার পরদিন নিহতের বড় ভাই হাফিজুর রহমান খালিশপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০১২ সালের ৩১ মার্চ পুলিশ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ২০১৪ সালের ২ জানুয়ারি মামলার চার্জ গঠন করা হয়। মামলার দীর্ঘ শুনানির পর ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করে আদালত।


আরো সংবাদ