০৯ আগস্ট ২০২০

‘লাভ-লোকসান না, ভাবছি কীভাবে গরুগুলো বিক্রি করা যায়’

কোরবানি পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় জীবননগরের আড়াই হাজার খামারি - ছবি : নয়া দিগন্ত
24tkt

করোনা পরিস্থিতির কারণে সারাদেশের মত চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গরু খামারিরাও বিপাকে পড়েছেন। পশু হাটগুলোতে বেপারিদের নেই তেমন আনাগোনা। আগের মত রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন পশু হাটসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ হাটগুলোতে কড়াকড়ি আরোপের কারণে গরু কেনাবেচা না হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন উপজেলার প্রায় আড়াই হাজার কোরবানি পশু মোটা তাঁজাকরণ খামারি ও মৌসুমী গরু ব্যবসায়ীরা।

জীবননগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের সূত্র জানায়, অন্যান্য বছরের মত এবারো জীবননগর উপজেলায় প্রায় আড়াই হাজার খামারে ৭ হাজার ৬৩৫টি গরু, বসতবাড়ি ও খামারে ৩৮ হাজার ১৬৪টি ছাগল, ২৩টি মহিষ ও ৯২টি ভেড়াসহ মোট ৪৫৯১৪টি পশু বাণিজ্যিকভাবে মোটা তাঁজাকরণ করা হয়েছে কোরবানি পশু হাটে বিক্রির জন্য। কিন্তু অন্য বছর কোরবানির এক মাস আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গরু ব্যবসায়ীরা খামারি কিংবা গরু পালনকারিদের বাড়ি বাড়ি আসতেন আর দর কষাকষি করতেন। কিন্তু এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। ক্রেতা নেই বললেই চলে। ফলে বড় বিপাকে পড়েছেন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে তোলা গরু খামারিরা।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের বড় বড় শহরের পশু হাটে গরু রফতানিকারক ব্যবসায়রা এক রকম ঘরবন্দী থাকায় আঞ্চলিক পশু হাটগুলোতে স্থানীয় বেপারিরা গরু-ছাগল কেনাকাটা শুরু করলেও তাতে তেমন সারা মিলছে না। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম পশুহাট জীবননগরের শিয়ালমারী। এ হাটে কোরবানির এক মাস আগে থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেপারিদের আনাগোনা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এবার এলাকার বেপারিদেরও কোনো তৎপরতা তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না।

উপজেলার লক্ষীপুরের গরু মোটা তাঁজাকরণ খামারি আবুল বাসার বলেন, অন্য বছর ঈদের মাসখানেক আগেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আমার গরু কেনার জন্য নানানভাবে যোগাযোগ করত। কিন্তু এবার তেমন কেউই গরু কেনার জন্য যোগাযোগ করছে না। আবার নিজে যোগাযোগ করলে অনেকেই করোনাভাইরাসের কারণে আসতে রাজি হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতে আমি বড় বিপদে আছি। আমার খামারে এবার ৯৬টি কোরবানি পশু বিক্রির জন্য প্রস্তত করেছি। প্রতিটি গরু ৬-৭ মণ করে ওজন হবে। গরু বিক্রি না হওয়ায় অনেক খামারি ১৬ হাজার টাকা মণ মাংস হিসাব করে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।

উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের বিশিষ্ট গরু ব্যবসায়ী রাজা মিয়া বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক গরু ব্যবসায়ী এবার গরু কিনতে আসছে না। আবার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এখনো অনেক হাট বন্ধ আছে। অন্যদিকে সামাজিক নানা অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ থাকায় গরু কেনাবেচা একেবারেই কম৷ এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে মানুষের টাকা পয়সা না থাকায় মানুষ কোরবানিও কম করবে বলে মনে হচ্ছে। আর এ কারণে আমরাও বিপদে আছি।

উপজেলার পিয়ারাতলার গরু খামারি শাহজান মিয়া বলেন, করোনার কারণে কোরবানি হাটগুলোতে বেপারিও নেই, আবার দামও নেই। এবার লাভ-লোকসানের কথা ভাবছি না, ভাবছি কীভাবে গরুগুলো বিক্রি করা যায়। কারণ গো-খাদ্যের যে দাম তাতে গরু পালন করা কঠিন!

সরজমিনে এলাকার একাধিক গরু খামারি-ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা গরু-ছাগল বিক্রি করতে না পারলে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির শিকার হবেন। তাই সরকারিভাবে খামারিদের গরু-ছাগল বিক্রির জন্য বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুর আলম বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার পশুহাটের প্রতি সরকারের বিধি নিষেধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। তারপরও আমরা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও খামারিদের জন্য নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। অনলাইনের মাধ্যমে গরু-ছাগল বিক্রির ব্যাপারে আমরা নানাভাবে সহযোগিতা করছি। করোনার কারণে এবার খামারিরা লোকসানের শিকার হতে পারেন।


আরো সংবাদ