০৮ আগস্ট ২০২০

করোনা রোগীদের চিকিৎসায় সরকারের কাছে খুলনা মহানগর বিএনপির ১০ দাবি

-
24tkt

খুলনায় করোনার ব্যাপক বিস্তারের প্রেক্ষাপটে করোনা রোগীদের কার্যকর চিকিৎসায় ১০ দফা দাবি জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের কাছে এসব দাবি তুলে ধরে একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, খুলনা শহরে দ্রুত সংক্রমণের মাধ্যমে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসাসেবা খুবই নাজুক। পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষায় ঘোষিত রোগীর সংখ্যা আড়াই হাজার। উপসর্গ নিয়ে ল্যাবে পরীক্ষার অপেক্ষায় হাজার হাজার মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল একটি, বেড ৮৫টি, ৯৫ভাগ রোগী বাড়িতে অবস্থান করে নিজেদের মত করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জটিল রোগীর জন্য মাত্র ১০টি আইসিইউ। হাসপাতালে কার্যকর চিকিৎসা হচ্ছে না। পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা রিপোর্ট পেতে ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগছে। কিটের অভাবে পরীক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পরীক্ষার অপেক্ষায় ১৫ থেকে ১৬শ’ রোগী। ফলোআপ টেষ্ট বন্ধ হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হচ্ছে। করোনা হাসপাতালের (খুলনা ডায়াবেটিকস হাসপাতাল) অভ্যন্তরীন ব্যবস্থাপনা খুবই খারাপ।

এসব বিবেচনায় খুলনা মহানগর বিএনপি করোনার দ্রুত কার্যকারী চিকিৎসার জন্য নিম্ন লিখিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে। দাবির মধ্যে রয়েছে, অল্প সময়ে অধিক পরীক্ষার জন্য আরো কমপক্ষে দু’টি পিসিআর মেশিন ও ল্যাব স্থাপন, একই সাথে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব চালু, আরো একাধিক হাসপাতাল ও আইসোলেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা, পিসিআরে পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত কিট সরবরাহ, হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার রির্পোট দ্রুত দেয়ার ব্যবস্থা করা, ফলোআপ টেষ্ট পুনরায় চালু করা, পর্যাপ্ত আইসিইউ স্থাপন করা, করোনা হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূর করা, জেলা করোনা ম্যানেজমেন্ট কমিটি সমন্বয়হীনতা দূর করা এবং গরীব মানুষের জন্য বিনামূল্যে করোনা টেষ্টের ব্যবস্থা করা।

স্মারকলিপিতে খুলনা মহানগর বিএনপি দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণার পর দল যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়। তারা খুলনা শহরে ২৫ হাজার নিম্ন আয়ের মানুষকে খাদ্য সামগ্রী সহায়তা দিয়েছে। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং চিকিৎসা সেবা অপ্রতুল হওয়ায় খুলনা মহানগর বিএনপির কল সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবিক চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে। করোনা আক্রান্ত রোগী ও তার পরিবারকে ডাক্তারী পরামর্শ, বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা, প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ও ওষুধ সরবারাহ, অ্যাম্বুলেন্স সহায়তা প্রদান এই কর্মসূচীর মধ্যেই থাকছে। একই সাথে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের দাফন ও সৎকারের ব্যাপারে প্রস্তুতি চলছে।

স্মারকলিপিতে প্রদানকালে মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, স ম আব্দুর রহমান, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, সিরাজুল হক নান্নু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, মেহেদী হাসান দিপু, অ্যাডভোকেট গোলাম মওলা উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপির একটি কপি জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো: সুজাত আহমেদকেও দেয়া হয়।


আরো সংবাদ