১২ আগস্ট ২০২০

‘অসময়ের তরমুজ’ চাষে হাসি ফুটলো কৃষকের মুখে

তরমুজ চাষী হাবিবুর রহমান - ছবি : নয়া দিগন্ত
24tkt

চাষী হাবিবুর রহমান। ১০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপার নবগ্রাম গ্রামে গড়ে তুলেছেন কৃষি খামার। বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও ফসলের চাষ করেন তিনি। রোদ বৃষ্টি ঝড়ে ২০ শতক জমিতে অসময়ে চাষ করেছেন গ্রীষ্মকালীন তরমুজ।  কিন্তু আমফান ঝড়ে প্রথম আসা ফুল ও কুড়ি নষ্ট হয়ে যায়। তাতে অবশ্য তেমন ক্ষতির মুখে পড়বেন না তিনি। কারণ এখনো মাচায় ঝুলছে কয়েক শ’ তরমুজ। তার মুখে হাসি ফোটাতে যা যথেষ্ট।

হাবিবুর রহমান জানালেন অসময়ের এই তরমুজ চাষের শুরুর দিকের গল্প।

অন্যের জমি লিজ নিয়ে ১০ বিঘা জমির উপর দুই বছর আগে একটি সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তোলেন এই তরমুজ চাষী। আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদের জন্য তিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে থাকেন। তরমুজ সাধারণত শীতকালে বীজ রোপন করে বৃষ্টি মৌসুমের আগেই তা শেষ হয়। কিন্ত কৃষি অফিস গত এপ্রিল মাসে তাকে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষের জন্য উৎসাহিত করেন। তার পরামর্শ অনুযায়ী ২০ শতক জমি তিনি প্রস্তুত করেন। সেখানে পাঁচটি বেড তৈরি করে মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে রেখে মাটির সঠিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে। এরপর এপ্রিলের ২২ তারিখে তিনি হাইব্রীড সোহেলী জাতের তরমুজ বীজ রোপন করেন। রোপনের ৩০/৩৫ দিনের মধ্যে মাচায় উঠে যাওয়া গাছে ব্যাপাকভাবে ফুল ও কুড়ি চলে আসে। কিন্ত আমফানে অনেকটাই তা নষ্ট হয়ে যায়। তারপরও মাচার ডোগায় ডোগায় ঝুলে আছে ছোট বড় কয়েক শ’ তরমুজ। স্বাদও অতুলনীয়। অসময়ের এ তরমুজের ব্যাপক চাহিদা। তিনি প্রতিটা তরমুজ ৫০/৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। আমফানের ক্ষতির পরও তিনি ১৫ শতক জমি থেকে ২০/২৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন। তার দেখাদেখি ওই এলাকার অনেকেই এ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। রোপনের পর ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে তরমুজ বেচাকেনা শেষ হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

ব্যাতিক্রমী এ তরমুজ চাষ নিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন তুহিন জানান, আগামী বছর এ এলাকায় কৃষকেরা এই তরমুজ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে তারা সব ধরণের পরামর্শ প্রদান করবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার কুন্ডু বলেন, শৈলকুপায় হাবিবুর রহমান নামের এক কৃষক মাচায় অসময়ে তরমুজ চাষ করেছে। আমার চাকরি জীবনে অসময়ে এ তরমুজ চাষ প্রথম। তরমুজ সাধারণত শীতকালে বীজ রোপন করে বৃষ্টি মৌসুমের আগেই তা শেষ হয়। কিন্ত কৃষক হাবিব বৃষ্টি মৌসুমের মধ্যে মাচা করে তরমুজ চাষ করেছেন। আমি কয়েকবার অসময়ের তরমুজের এ খামার পরিদর্শন করেছি। আমফানে ক্ষতি না হলে বাম্পার ফলন হতো তার। কারণ অসময়ে কোনো ফল হলে তার প্রতি ক্রেতাদের বেশি আগ্রহ থাকে। গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে একজন চাষী দুই মাসে সমস্ত খরচ বাদে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করতে পারে বলে তিনি জানান।


আরো সংবাদ