০৩ জুন ২০২০

শরণখোলায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে তিনটি গ্রাম প্লাবিত

শরণখোলায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে তিনটি গ্রাম প্লাবিত - নয়া দিগন্ত

শরণখোলার সাউথখালীতে ঘূর্ণিঝড় আমফানে দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিলিন হয়ে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ উপজেলার চারটি ইউনিয়নে সহস্রাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত এবং অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ৩শ’ একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত ও ৪শ’ ৫০ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। সাউথখালী, রায়েন্দা ও রাজৈর এলাকায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় দুই হাজার পরিবার। বগী-গাবতলা এলাকার বহু মানুষ এখনো আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শ করে দুর্গত মানুষের মাঝে প্রাথমিকভাবে ত্রাণ ও ঢেউটিন বিতরণ করেছেন।

এসময় শরণখোলা ইউএনও সরদার মোস্তফা শাহিন, মোরেলগঞ্জ সার্কেলের এএসপি রিয়াজুল ইসলাম, শরণখোলা থানার ওসি এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন মুক্তা, রায়েন্দা ইউপির চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন ও পিআইও রনজিৎ সরকার উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক সাউথখালীর প্লাবিত হওয়া চারটি গ্রাম বগী, গাবতলা, চালিতাবুনিয়া, দক্ষিণ খুড়িয়াখালীর দুর্গত মানুষের জন্য ২০মেট্রিকটনসহ এ উপজেলায় মোট ৩০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়ার কথা ঘোষনা দেন।

এদিকে সরেজমিন সাউথখালী বাঁধভাঙা বগী ও গাবতলা এলাকা গিয়ে দেখা যায়, দুই কিলোমিটার বেড়ি বাঁধের প্রায় ৯০ ভাগ ভেঙে নদীর সঙ্গে মিশে গেছে। তখনও ভাঙা বাঁধদিয়ে বলেশ্বরের পানি ঢুকছে। চরম দুর্ভোগে রয়েছে পানিবন্দী মানুষ। তাদের বসতঘরের মধ্যে হাঁটু পানি। আশপাশ এলাকায় পানি থৈ থৈ করছে। অনেকের ঘরের টিন উড়ে গেছে। গছ পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে বহু ঘর।

এসময় বগী গ্রামের মজিদ তালুকদারের স্ত্রী আকলিমা বেগম (৪৫) জানান, ঝড়ের দুই দিন আগে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ায় তারা বেঁচে গেছেন। ঘরের যা অবস্থা তাতে বসবাস করার কোনো উপায় নেই। আরো একসপ্তাহ তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে থাকতে হবে।

গাবতলা গ্রামের মো. সোবাহান হাওলাদার, ফুলমিয়া হাওলাদার, কালাম হাওলাদার, বগী গ্রামের আ. সোবাহন জানান, বলেশ্বরের নোনা পানি ঢুকে তাদের তাদের পুকুর, ঘের ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। তাদের একেক জনের ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মাছ ভেসে গেছে। তাদের তিন গ্রামের প্রায় ১ হাজার পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। চার-পাঁচ দিনের আগে কেউ ঘরে ফিরতে পারবে না বলে তারা জানান।

খুঁড়িয়াখালী গ্রামের জালাল মোল্লা জানান, তার ঘেরের প্রায় তিন লাখ টাকা মাছ ভেসে গেছে। এভাবে তাদের এলাকার কমপক্ষে ১০ থেকে ১২টি ঘেরে জোয়ারের নোনা পানি ঢুকে মৎস্য চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, ঘূর্ণিঝড় আমফানে দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধসহ চার ইউনিয়নে প্রায় এক হাজার কাঁচা ঘর, ৪শ’ ৫০টি মাছের ঘের, ৩শ’ একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রাথমিক হিসাব পাওয়া গেছে। অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনের জরিপ চলছে।

ইউএনও আরো জানান, জেলা প্রশাসন থেকে সাউথখালীর বগী, গাবতলা, চালিতাবুনিয় ও দক্ষিণ খুড়িয়াখালী গ্রামের বাঁধভাঙা দুর্গত মানুষের জন্য আলাদাভাবে ২০ মেট্রিকটনসহ উপজেলায় মোট ৩ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।


আরো সংবাদ