০৭ জুলাই ২০২০

খুলনায় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ফুট পানি বৃদ্ধি

খুলনায় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ফুট পানি বৃদ্ধি - ছবি : সংগৃহীত

খুলনার উপকূল জুড়ে কিছুক্ষণ পর পর ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সুন্দরবন উপকূলের নদ-নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে দুর্বল বেড়িবাঁধ।

উপকূল সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল চার উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আমফানে কারণে খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপকূলীয় চার উপজেলার জন্য ১৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জানান, আমফানের প্রভাবে গত মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে খুলনায় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মাঝেমধ্যে বইছে দমকাসহ ঝড়ো বাতাস। সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩- থেকে সাড়ে ৩ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০-১৫ ফুট অধিক উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাসে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত খুলনায় ৫০ মি.মিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এদিকে, উপকূলীয় দাকোপ ও কয়রা উপজেলার মানুষ বেড়িবাঁধ ভাঙ্গনের আশঙ্কায় রয়েছেন। অনেক জায়গায় মানুষ নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের ফাঁটল মেরামত করছে।

স্থানীয়রা জানান, কয়রা উপজেলার কয়রা সদর ইউনিয়ন, দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়ন ও মহারাজপুর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদ ও শাকবাড়িয়া নদীর প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এরমধ্যে কপোতাক্ষ নদের গোলখালী থেকে দশালিয়া পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার ও শাকবাড়িয়া নদীর আংটিহারা থেকে মহরারাজপুর ইউনিয়নের পোবনা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া দাকোপ উপজেলার তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের ঢাকী নদীর বটবুনিয়া বাজার সংলগ্ন ৪০০ মিটার ও কামিনীবাসিয়া গাইনবাড়ি সংলগ্ন ৭০ মিটার বেড়িবাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙ্গে গেলে ব্যাপক ফসলহানিসহ লবণ পানিতে প্লাবিত হবে জনপদ।

দাকোপ উপজেলার পানখালী ২নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিউল আজম সেলিম জানান, পানখালী ইউনিয়নের পশুর নদীর খলিশা এলাকায় ১০০-১৫০গজ বেড়িবাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙ্গে ব্যাপক এলাকা লবণ পানিতে প্লাবিত হতে পারে।

সুন্দরবন সংলগ্ন ছুতারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির জানান, তার ইউনিয়নে ২৭টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। সকালে কিছু কিছু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আসলেও আবহাওয়া ভালো দেখে তারা আবার বাড়ি চলে যায়। তবে, দুপুরের পর থেকে তারা আবার আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছে।

কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির জানান, কয়রা সদর ইউনিয়নে ২৪টি স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। বেলা ১২টার পর থেকে মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে আসা শুরু করেছে। বিকাল ৪টার মধ্যে সব মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসে।

খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দার জানান, ঘূর্ণিঝড় আমফান উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপকূলীয় চার উপজেলার জন্য ১৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে দাকোপ উপজেলার জন্য ৫০ মেট্রিক টন, কয়রা উপজেলার জন্য ৫০ মেট্রিক টন, পাইকগাছা উপজেলার জন্য ২৫ মেট্রিক টন ও বটিয়াঘাটা উপজেলার জন্য ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে খুলনার লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। তাদের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।


আরো সংবাদ