০৪ এপ্রিল ২০২০

করোনা রোগী : বেনাপোলে সেদিন যা ঘটেছিল

করোনা রোগী : বেনাপোলে সেদিন যা ঘটেছিল - সংগৃহীত

কোলকাতা-ঢাকা গামী বন্ধন ট্রেনে বাংলাদেশী যুবক জহিরুলকে করোনা রোগী বলে কোলকাতা রেলের টিটিই বিনা টিকিটে গার্ডের হাতে তুলে দেন। লিখিত বিবৃতিতে এমনটিই বলেছেন গত ২০ ফেব্রুয়ারি কোলকাতা থেকে খুলনাগামী বন্ধন ট্রেনের সিনিয়র গার্ড কৃষ্ণেন্দু বোস। কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে যাত্রী তালিকা দেয়ার সময় এমনটি জানান। জহিরুল দীর্ঘ সময় ট্রেনে লুকিয়ে থাকায় সন্দেহ ঘনীভূত হয় ও সম্ভাব্য পলায়ন ঠেকানো জরুরী হয়ে পড়ে।

কস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, গত ২৯ জানুয়ারির সেমিনারে প্রশিক্ষণে করোনা বিষয়ক স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশনার আলোকে কাস্টমস কর্মকর্তারা সতর্কতার সাথে করোনা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে খুঁজতে থাকেন। ট্রেনের নির্ধারিত বগির যে সিটে সে বসে এসেছিলেন সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। ভারতীয় গার্ডও তাকে চিহ্নিত করতে পারছিলেন না। অনুসন্ধানকারীদের মধ্য এসময় আতংক বিরাজ করছিল।

তাৎক্ষণিক স্টেশনে কর্তব্যরত ডাক্তারকে খবর দেয়া হয়। পরবর্তীকালে শার্শা থেকে আরো একটি মেডিকেল টিম যোগ দেন। তারা জীবাণু নিবারণী পোশাক পরে দীর্ঘক্ষণ খুঁজে সবাই মিলে একজনকে সন্দেহ করেন। তার পাসপোর্ট দেখে গার্ডের দেয়া তথ্যের সাথে নামের মিল পেয়ে ওই যাত্রীকে বের করে নিয়ে আসেন। তার শরীরের তাপমাত্রা মেপে প্রাথমিকভাবে তার মধ্য লক্ষণ দেখে করোনারোগী বলেই সন্দেহ করেন বলে কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা কামরুল ইসলামকে জানান চিকিৎসকরা।

এসব জানার পর বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী দশ হাজার যাত্রী, বেনাপোলে বসবাসকারী হাজার হাজার সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য কাস্টমসের পক্ষ থেকে সতর্ক করে স্যোসাল মিডিয়ায় একটা স্টাটাস দেন। পরবর্তীতে ডাক্তাররা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে সে করোনায় আক্রান্ত রোগী নয়। ‘পরক্ষনেই করোনা ভাইরাস নেই’ মর্মে চিকিৎসকের সনদ পাওয়ার পর পরই পোস্টটি ডিলিট করে দেয়া হয়।

কাস্টসম সুত্র জানায়, কাস্টমস কর্মকর্তারা পলাতক যাত্রীর সম্ভাব্য পলায়ন ঠেকাতে ও বাড়তি সতর্কতার জন্য স্যোসাল মিডিয়ায় প্রচারের উদ্যোগ নেন। কাস্টমস কর্মকর্তাদের ভাস্যমতে, চেকপোষ্টে কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের সতর্কতার জন্য যাত্রীর ছবি ও পাসপোর্টের ছবি স্যোসাল মিডিয়ায় দেয়া হয়।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, বিষয়টি চিকিৎসকের সনদের ভিত্তিতে সুরাহা হওয়ার পর সোস্যাল মিডিয়ায় আর একটি পোষ্ট দেয়া হয়। সেখানে ভারতীয় রেলগার্ডের বিবৃতি সংযুক্ত করে বলেন তিনি (ভারতীয় গার্ড) বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছেন ভারতীয় বন্ধন ট্রেনের টিটি তাকে এই যাত্রীকে টিকেট ছাড়া হস্তান্তর করেছেন।

ভারতীয় রেলগার্ড কর্তৃক যাত্রী তালিকা হস্তান্তরের সময় নাম বলে করোনা রোগী হিসেবে পরিচয় করা। ভারতীয় রেলওয়ে চিকিৎসক টীমের মৌখিক উদ্ধৃতি, একইভাবে ভারতের টিটিই কর্তৃক করোনা ভাইরাসের রোগী পরিচয়ে ট্রেনে হস্তান্তর। বিনাটিকিটে যাত্রীকে ট্রেনে তুলে দেয়া। স্টেশন থেকে চিকিৎসকদল ও বিএসএফ কর্তৃক পুশব্যাক। পাসপোর্টে ভারতে এন্ট্রিরেস্ট্রিকটেড সীল প্রদত্ত। বেনাপোল পৌঁছে ট্রেনে লুকিয়ে থাকা ও পাসপোর্টে চীনের ভিসা ও সম্প্রতি চীন ফেরত এসব পারিপার্শ্বিকতায় যে কেউ ঐ যাত্রীকে করোনায় আক্রান্ত ভাবতেই পারে।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে যশোর সিভিল সার্জন, কাস্টম কমিশনারের স্ট্যাটাস নিয়ে সাংবাদিক সন্মেলন করা ও নানামুখি প্রচারণায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। যশোর সিভিল সার্জনের শক্তিশালী টিম নেই ভারত প্রত্যাগত যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিরিক্ষা করার। কাস্টমস কর্মকর্তাদের সন্দেহ সৃষ্টিরই কথা। কারণ ভারতীয় গার্ড বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছেন ভারতীয় টিটি এ যাত্রীকে হস্তান্তর করেছেন। মূলত বিভ্রান্তি ওখান থেকেই সৃষ্টি।


আরো সংবাদ