২৯ অক্টোবর ২০২০

টানা দ্বিতীয় দিনেও খুলনার সব রুটে বাস ধর্মঘট অব্যাহত


নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে খুলনায় দ্বিতীয় দিনের মতো বাস চালক-শ্রমিকদের কর্মবিরতি চলছে। খুলনা থেকে রাজধানী ঢাকাসহ অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে মানুষের কষ্টের যেন সীমা নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। এ সুযোগে মাহেন্দ্র, মিনি পিকআপ, মাইক্রোবাসসহ ছোট গাড়িগুলোতে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে যাত্রীদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে হচ্ছে। ওদিকে, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় খুলনা রেল স্টেশনে যাত্রীদের তীব্র চাপ বেড়েছে। অনেকে টিকিট না পেলেও জোর করে ট্রেনে উঠছেন।

মঙ্গলবার সকালে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে ও রয়্যালের মোড়ে ঢাকা এবং চট্রগ্রামে চলাচলকারী বাসগুলোকে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেক মানুষ এসে বাস চলাচল সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। কিন্তু বাস চলাচল কখন শুরু হবে, কেউ তা বলতে পারছেন না।

খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম বেবী বলেন, শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছে। আইন সংশোধন না করা পর্যন্ত শ্রমিকরা ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন।

সোমবার রাতে কিছু গাড়ি খুলনা থেকে ছেড়ে গেছে আবার খুলনায় এসেছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে বেবী বলেন, সোমবার ৯০ ভাগ বাস চলাচল বন্ধ ছিলো। কিন্তু আজকে (মঙ্গলবার) শতভাগ বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

খুলনা জেলা বাস-মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: আনোয়ার হোসেন সোনা বলেন, খুলনা থেকে কোনো রুটেই বাস চলাচল করছে না। সকল রুটেই বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনার এক পরিবহন মালিক বলেন, শ্রমিকদের এ ধর্মঘটের সঙ্গে আমরা শতভাগ একাত্মতা প্রকাশ করছি। কেননা কোন চালক ‘ইচ্ছা করে’ দুর্ঘটনা ঘটায় না। দুর্ঘটনা ঘটলে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। এত জরিমানা দেয়ার মতো টাকা ‘কোনো চালকের’ নেই।

খুলনা রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় যাত্রীদের প্রচন্ড ভীড়। অনেক যাত্রী টিকিট না পেলেও ট্রেনে উঠে পড়ছেন। ট্রেনের একজন টিসি বলেন, যাত্রীদের কাছে টিকিট না থাকলেও ভীড়ের কারণে আমাদের কিছুই করার উপায় নেই। অবশ্য বিনা টিকিটের যাত্রী ট্রেনে বেশী হলে ট্রেনের কিছু কর্মচারী খুশীই হন।


আরো সংবাদ