১০ জুলাই ২০২০

প্রার্থী হবেন গোলাম পরওয়ার

প্রার্থী হবেন গোলাম পরওয়ার - ছবি : সংগৃহীত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হতে চান। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি চার দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে এমপি নির্বাচিত হন। 
ফুলতলা উপজেলার শিরোমণি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান মিয়া গোলাম পরওয়ার বাণিজ্য বিষয়ে অনার্সসহ মাস্টার্স করেন। ১৯৭৫ সাল থেকে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্নপর্যায়ে নেতৃত্ব দেন।

কর্মজীবনে দুই বছর একটি কলেজে অধ্যাপনা করেন এবং কিছু দিন সাংবাদিকতার সাথেও জড়িত ছিলেন। একই সাথে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাথেও যুক্ত হন। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি দলের খুলনা মহানগর আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর চার বছর দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং তারপর থেকে নায়েবে আমিরের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইতোমধ্যে কয়েকবার তিনি বর্তমান সরকারের নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। ২০১০ সালের ৩০ জুন প্রথম তিনি গ্রেফতান হন। এরপর থেকে কয়েকবার তাকে জেলগেটসহ বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করে কারাগারে আটক রাখা হয়। 

গোলাম পরওয়ার ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে খুলনা-৫ আসনে এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হতে পারেননি তবে ২০০১ সালে জয়ী হন। 

মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, তিনি এমপি থাকার পাঁচ বছরে দুই উপজেলায় ৩২৫ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ হয়। এরমধ্যে ডুমুরিয়ায় ২২০ কোটি টাকা এবং ফুলতলা উপজেলায় ৯৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার কাজ হয়। ইতঃপূর্বে এ এলাকায় এত উন্নয়নকাজ হওয়ার নজির নেই। এসব উন্নয়নকাজের মধ্যে ছিল নতুন পাকা রাস্তা নির্মাণ, ইটের সোলিং বসানো রাস্তা নির্মাণ, ব্রিজ, কালভার্ট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, মসজিদ ও মন্দির নির্মাণ ও সংস্কার, গভীর নলকূপ স্থাপন এবং বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন।

তিনি বলেন, খুলনা থেকে ডুমুরিয়া হয়ে শরাফপুর বাস লাইন চালু, ডুমুরিয়ায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন, রঘুনাথপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও চুকনগর পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, ডুমুরিয়া হেলথ কমপ্লেক্সে নতুন অ্যাম্বুলেন্স প্রদান, ফুলতলা হাসপাতাল ৫০ বেডে উন্নীতকরণ ও সেখানে ৩০০ এমএম এক্সরে মেশিন প্রদান এবং ফুলতলা উপজেলায় এসেনশিয়াল ড্রাগসের একটি ফ্যাক্টরি স্থাপন করা হয়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে তাকে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়েছিল। এ ছাড়া ফুলতলা উপজেলার কৃষকদের প্রতি শতক জমির খাজনা ২২ টাকা থেকে কমিয়ে দুই টাকা করার কাজটিও তিনি করিয়ে ছিলেন। তার কার্যক্রমের ফলে তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার জনপ্রিয়তা তার কারাবাসকে দীর্ঘায়িত করেছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, এলাকাবাসী আমাকে পুনরায় নির্বাচিত করলে সন্ত্রাস-সহিংসতার অবসান ঘটিয়ে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে পরিবেশ সৃষ্টি, সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও অবাধে ধর্ম পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা, মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা ও কল্যাণে ভূমিকা পালন ও শিক্ষার উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালনসহ এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণের একগুচ্ছ পরিকল্পনা রয়েছে আমার।


আরো সংবাদ