১৬ অক্টোবর ২০২১
`

অল্প পুঁজিতে ব্যবসা করে সফল তরুণ উদ্যোক্তা মনোয়ার হোসেন

অল্প পুঁজিতে ব্যবসা করে সফল তরুণ উদ্যোক্তা মনোয়ার হোসেন - ছবি : সংগৃহীত

আজকাল অনলাইনে টি-শার্ট ব্যবসা দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে খুব অল্প পুঁজি দিয়েই শুরু করা যাচ্ছে বলে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এ ব্যবসায় আগ্রহ দেখাচ্ছে। অনেকে সফলতা পাচ্ছে অনলাইন টি-শার্ট ব্যবসায়। এমনি এক তরুণ অনলাইন টি-শার্ট ব্যবসায়ী পাবনা জেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সন্তান মনোয়ার হোসেন।

মনোয়ারের বাবা মো: আনোয়ার হোসেনও একজন ব্যবসায়ী। মা মনোয়ারা বেগম গৃহিণী। মনোয়ার পড়ালেখা করছেন পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে। টেক্সটাইল বিভাগে সপ্তম সেমিস্টারের ছাত্র তিনি। করোনাকালীন অলস সময়ে তিনি লক্ষ্য করেন অনেকেই অনলাইনে অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করে খুব তাড়াতাড়ি সফলতা পাচ্ছেন। এরপর থেকেই অনলাইনে কিছু করতে চান তিনি।

মনোয়ার হোসেন গ্রাফিক্স ডিজাইনে অনেক দক্ষ তাই তিনি তার এই দক্ষতাকে কাজে লাগানোর কথা ভাবেন। বিভিন্ন গ্রাফিক্স ডিজাইনকে টি-শার্টের বুকে এঁকে ব্যবসা করতে চান। বাংলাদেশে টি-শার্টের চাহিদা অনেক কিন্তু কাস্টমাইজ করা টি-শার্ট সব জায়গায় পাওয়া যায় না। তাই মনোয়ার অনলাইনে একটি টি-শার্টের ই-কমার্স ওয়েবসাইট চালু করেন। যার নাম টুলপো। যেখানে ক্রেতারা চাহিদা মতো টি-শার্ট বানিয়ে নিতে পারেন বা অর্ডার করতে পারেন।

মনোয়ার হোসেন তার উৎপাদিত টি-শার্টগুলো পাবনার স্থানীয় বাজারে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে থাকেন। পরে তিনি তার উৎপাদিত টি-শার্ট অনলাইনে Toolpo ই-কমার্স ওয়েব সাইটের মাধ্যমে বিক্রি করেন। অনলাইন ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সারাদেশে তার উৎপাদিত টি-শার্টগুলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। অনলাইনেও পাইকারি-খুচরা বিক্রি করে থাকেন তিনি। তার অনলাইন ই-কমার্স ওয়েবসাইট টুলপো ডট কম (Toolpo.com) ও ফেসবুক পেজ মনোয়ার হোসেন টি-শার্ট হাউজ (monowar hosan T-shirt house) এর মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে হোম ডেলিভারি করেন।

জানা গেছে, মনোয়ার হোসেন তার বাবার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে টি-শার্টের একটি কারখানা দেন। সেই থেকে তার স্বপ্ন দেখা শুরু এবং স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করেন খুব অল্প সময়ে। মাত্র ৬ মাসেই ১০ লাখ টাকার টি-শার্ট বিক্রি করেছেন।

মনোয়ার হোসেনের বাবা মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলে ব্যবসা করার টাকা চাইলে আমি প্রথমে সম্মতি দেইনি। ভেবেছি নষ্ট করে না-কি? নানা রকমের চিন্তা হতো। তবে তার ব্যবসার ধরনের কথা শুনে মনে হলো টাকা দেই। আল্লাহর রহমতে মাত্র এক বছরে সেই টাকা দিয়ে ব্যবসা করে সফল হয়েছে। সে মাত্র ৬ মাসে ১০ লাখ টাকার টি-শার্ট বিক্রি করেছে এবং তার সফলতায় আমরা সবাই খুশি।

মনোয়ার হোসেন জানান, তার ইচ্ছে শুধু দেশে না একদিন তার কারখানার পণ্য বিদেশেও রফতানি হবে। বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা অনেক বেশি তিনি মনে করেন। তার কারখানার তৈরি টি-শার্ট একদিন বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা পূরণ করতে পারবে।



আরো সংবাদ