০৩ এপ্রিল ২০২০

দুর্নীতিমুক্ত সমাজ কাম্য

-

দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় রাসূল সা:-এর পদক্ষেপ ও পদ্ধতি ছিল অনন্য। অন্যায়, অবিচার, কলহ-বিবাদ, দুর্নীতি, অরাজকতা দূরীভূত করে শান্তিপূর্ণ একটি কল্যাণমূলক আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। তিনি দল-মত-গোত্র নির্বিশেষে আরবের জাতি-ধর্ম-বর্ণ সবার মাঝে শান্তিচুক্তি এবং সন্ধি স্থাপনের মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করেন। তাঁর অনুপম চরিত্র-মাধুর্য ও সত্যনিষ্ঠার কথা বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। কিশোর বয়সে তিনি ‘হিলফুল ফুজুল’ নামক শান্তিসঙ্ঘ গঠন করে সামাজিক অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। আর্তমানবতার সেবা, অত্যাচারীকে প্রতিরোধ, মজলুমের সহযোগিতা, শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ছিল এ শান্তিসঙ্ঘের অঙ্গীকার বাণী। মানুষের কল্যাণে তাঁর গড়া স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানটি পৃথিবীর প্রথম সাংগঠনিক রীতিতে প্রতিষ্ঠিত আদর্শ সমাজ সংস্কারমূলক প্রতিষ্ঠান। যার মাধ্যমে তিনি সমাজজীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘœকারী সব কার্যক্রম প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিয়ে মক্কা থেকে যাবতীয় অন্যায়-অত্যাচার, শোষণ ও দুর্নীতি উচ্ছেদ করে সুশীলসমাজ গঠনে সচেষ্ট হন।
মহানবী সা: মক্কা বিজয়ের পর মক্কার বাজারে তদারকি করার জন্য হজরত সাঈদ ইবনুল আস রা:কে নিযুক্ত করেছেন। (আল-ইসতেআব ১/১৮৭)। শুধু তা-ই নয়, রাসূলুল্লাহ সা: স্বয়ং বাজারে গিয়ে খাদ্যে ধোঁকাবাজি কিংবা ভেজাল হচ্ছে কি না সে খবরদারি করতেন। একবার রাসূল সা: খাদ্যশস্যের একটি স্তূপের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তিনি স্তূপের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দিলেন, ফলে হাতের আঙ্গুুলগুলো ভিজে গেল। তখন
স্তূপের মালিককে ডেকে বললেন, এ কী ব্যাপার? লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এতে বৃষ্টির পানি লেগেছে। তিনি বললেন, ‘সেগুলো তুমি স্তূপের ওপরে রাখলে না কেন? তাহলে লোকেরা দেখে নিতে পারত। জেনে রাখো, যে ব্যক্তি ধোঁকাবাজি করে, আমার সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই’ (মুসলিম-১০২)। নিরপেক্ষভাবে অধীনস্থের অধিকার আদায়ে কাজ করা এবং জনগণের জান-মালের হেফাজত করা শাসকের মৌলিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। এ প্রসঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে রাসূল সা: বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। আর (কেয়ামত দিবসে) তোমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। সুতরাং জনগণের শাসকও একজন দায়িত্বশীল, তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আর পুরুষ তার পরিবারের একজন দায়িত্বশীল, তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। স্ত্রী তার স্বামীর ঘরসংসার ও সন্তানের দায়িত্বশীল, তাকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গোলাম তার মনিবের মালসম্পদের ওপর একজন দায়িত্বশীল, তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই একেকজন দায়িত্বশীল। আর তোমাদের প্রত্যেককেই (কেয়ামত দিবসে) তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে’ (বোখারি-২৫৫৪)।
দুর্নীতিবাজ শাসকের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি বাণী উচ্চারণ করে রাসূল সা: বলেন, ‘কোনো বান্দাহকে যদি আল্লাহ জনগণের নেতৃত্ব প্রদান করেন, আর সে যদি কল্যাণ কামনার সাথে তাদের তত্ত্বাবধান না করে, তাহলে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না’ (বোখারি-৭১৫০)।
অন্য হাদিসে রাসূল সা: ইরশাদ করেন, ‘কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি মুসলিম জনসাধারণের দায়িত্ব লাভ করল আর তার মৃত্যু হলো এ হালোতে যে, সে ছিল খেয়ানতকারী, তাহলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন’ (বোখারি-৭১৫১)।
সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতি দমন করে একটি আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর আজীবন প্রয়াস বিশ্বমানবতার জন্য মহান অনুপ্রেরণার উৎস।
লেখক : শিক্ষক


আরো সংবাদ

১০ টাকা কেজিতে মাসে ৩০ কেজি চাল পাবে ৫০ লাখ পরিবার সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় হতদরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ আখাউড়ায় ব্যতিক্রম উদ্যোগ, টাকা দিয়ে অটোচালককে সরানো হচ্ছে সড়ক থেকে রাণীনগরে সাড়ে ৫ হাজার কেজি চাল উদ্ধার অসহায়দের মাঝে খাবার বিতরণ করলেন ক্রিকেটার সালমা ছেলে-ছেলের বউয়ের নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধাকে ঘরে তুলে দিলেন ইউএনও কুষ্টিয়ায় জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রিকশাচালক আইসোলেশনে ৭ বছর ধরে নিখোঁজ নেতার সন্ধান চেয়ে ছাত্র শিবিরের বিবৃতি বিশ্বব্যাপী করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে বিদেশে আটকেপড়া বাংলাদেশীদের সমস্যা সমাধানে দৃষ্টি রাখছে মন্ত্রণালয় করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসা এক হাসপাতালের চিকিৎসকসহ ৭ জন হোম কোয়ারেন্টিনে

সকল