২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

গড়তে হবে নৈতিক মূল্যবোধের সমাজ

-


সমাজটা আজ অস্থিরতায় ভরা। প্রতিমুহূর্তে কী ঘটে বলা মুশকিল। সাম্প্রতিক সময়ে বুয়েট ছাত্র আবরারের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে তোলপাড় সারা দেশ। কেন এই অবস্থা? প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, খুনসহ নানা অপরাধ প্রতিদিনকার খবরের শিরোনাম হচ্ছে। ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচতে পারছে না শিশুরাও। অধঃপতন ঘটেছে চরিত্রের।
অপরাধ করেও অপরাধীর কোনো অনুশোচনা নেই। হয়ে উঠছে আরো বেপরোয়া, উচ্ছৃঙ্খল।
প্রভাবশালী হলে তো কথাই নেই। থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা যাচ্ছে না। আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থান একেবারে তলানিতে ঠেকেছে।
সারা দেশে অনুসন্ধান করলে আরো ভয়ঙ্কর ও অনৈতিক অপরাধের কথা বের হয়ে আসবে বলে মনে করি। কিছু তরুণ, যুবকের পাশাপাশি অনেক নারীও ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক নিজেদের অপরাধের সাথে যুক্ত করতে বাধ্য হচ্ছে।
পরিবারে গড়ে উঠছে না নৈতিক মূল্যবোধের পরিবেশ। ধর্মীয় শিক্ষা তো কোনো একসময় বিলুপ্তই হয়ে যাবে। অথচ পরিবারে যদি নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সন্নিবেশ ঘটে, কোনো দিন সে পরিবারের সন্তান লম্পট আর খারাপ চরিত্রের অধিকারী হবে না। পরিবার এবং সমাজের পরিবেশ অনৈতিকতায় ভরে থাকবেই বা না কেন, যেখানে হাতের কাছেই পাওয়া যাচ্ছে অপরাধের সব উপকরণ।
যে সমাজে অশ্লীলতা, অনৈতিকতা, মদ, জুয়া, নেশাজাতীয়দ্রব্য প্রভৃতি বৃদ্ধি পাবে সে সমাজ তো ধ্বংস হওয়ারই কথা। বিলুপ্ত হবে শ্রদ্ধাবোধ, সম্মান প্রভৃতি। সেখানে জেঁকে বসবে অপরাধ।
অনৈতিকতা আর অশ্লীলতা যেন দিন দিন স্বাভাবিকতা পাচ্ছে। সেগুলো যেন কোনো অপরাধই নয়। অবৈধ এসব কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বাঁচানোর চেষ্টাও হয়। এসব দেখে সচেতন মানুষ ক্ষুব্ধ, হতাশ। প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে মুখবুজে সহ্য করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না তাদের।
ধনী লোক হলেই কি সন্তানকে প্রশ্রয় দিয়ে মাথায় তুলতে হবে? তাকে কি নৈতিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার কোনোই দরকার নেই? এসব নিয়ে প্রত্যেক বাবা-মাা, অভিভাবককে ভাবতে হবে। যে সন্তান নেশা আর অশ্লীলতার দিকে ঝুঁকবে সে সন্তান পরবর্তী সময়ে কাল হয়ে দাঁড়াবে। বড় হলে কোনোভাবেই আর নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
অর্থ-বিত্ত, সন্তান-সন্ততি মানুষকে অহঙ্কারী করে তোলে। আবার ভালো পথে চলার সুযোগও থাকে। দু’টি পথের মধ্যে ভালো পথটিই বেছে নিতে হবে নিজের জন্য, পরিবার ও সমাজের জন্য। ধর্মীয় অনুশাসন না থাকলে মানুষ বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
অধঃপতনের দিকে ধাবিত হওয়া এই সমাজকে রক্ষা করতে হবে। রক্ষা করতে হবে পরিবারকে। বাড়াতে হবে সচেতনতা। রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে অনৈতিকতা ও অশ্লীলতামুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে। এসব অপরাধের সাথে জড়িতদের শাস্তি দিতে কঠোর আইন করার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। উদ্যোগ নিতে হবে চরিত্র ধ্বংসকারী সব উপাদান, উপকরণ যেন মানুষের কাছে না পৌঁছে। ইন্টারনেটের সব অশ্লীল সাইট ও পেজ ডিলিট করে দিতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে প্রতিটি শ্রেণীতে নৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়কে বাধ্যতামূলক করতে হবে।
সরকারের পাশাপাশি মা-বাবা, অভিভাবক, সচেতন সব মানুষকে এসব অনৈতিকতা ও অশ্লীলতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী অবস্থান নিতে হবে। সবাই মিলে যৌথ প্রচেষ্টায় মাধ্যমে একটি নৈতিক মূল্যবোধের সমাজ আমরা বিনির্মাণ করতে পারি।
লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক


আরো সংবাদ

সীমান্তে মাইন, মুংডুতে ৩৪ ট্যাংক (৯৭২২)কেন বন্ধু প্রতিবেশীরা ভারতকে ছেড়ে যাচ্ছে? (৭৫৯৮)সৌদি রাজতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করে সৌদি আরবে বিরোধী দল গঠন (৭১১২)৫৪,০০০ রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দিতে সৌদি চাপ : কী করবে বাংলাদেশ (৪৮৪৪)কাশ্মিরিরা নিজেদের ভারতীয় বলে মনে করে না : ফারুক আবদুল্লাহ (৪২২০)শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া ১৫ দিন পর এইচএসসি পরীক্ষা (৩৭৩৭)দেশের জন্য আমি জীবন উৎসর্গ করলেও আমার বাবার আরো দুটি ছেলে থাকবে : ভিপি নূর (৩৪৭৬)বিরাট-অনুস্কাকে নিয়ে কুৎসিত মন্তব্য গাভাস্কারের, ভারত জুড়ে তোলপাড় (৩৩৭২)আ’লীগ দলীয় প্রার্থী যোগ দিলেন স্বতন্ত্র এমপির সাথে (৩৩৩১)কক্সবাজারের প্রায় ১৪০০ পুলিশ সদস্যকে একযোগে বদলি (৩২৫৫)