২৭ জানুয়ারি ২০২১
`

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ‘মুসলিম নোবেল’ বিজয়ীরা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ‘মুসলিম নোবেল’ বিজয়ীরা - ছবি : সংগৃহীত

২০১৫ সাল থেকে প্রতি দুই বছর পরপর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবদান রাখা ইসলামি বিশ্বের গবেষক ও বিজ্ঞানীদের ‘মুস্তাফা প্রাইজ’ দিচ্ছে ইরান। সায়েন্স ম্যাগাজিন একে ‘মুসলিম নোবেল’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

দ্য মুস্তাফা প্রাইজ
বিজ্ঞান বিষয়ক অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ম্যাগাজিন ‘সায়েন্স’ এই পুরস্কারকে ‘মুসলিম নোবেল’ বলে আখ্যায়িত করেছে। বিজয়ীদের পাঁচ লাখ ডলার পুরস্কার দেয়া হয়। জাহিনের কারণে আলোচনায় মুস্তাফা প্রাইজ সম্প্রতি জার্মানির বায়োনটেক ও যুক্তরাষ্ট্রের  ফাইজার কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের টিকা তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে ৯০ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে। বায়োনটেক কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা তুর্কি বংশোদ্ভূত দম্পতি উগুর জাহিন ও উজলেম টুরেচি। ২০১৯ সালে মুস্তাফা প্রাইজ পেয়েছিলেন উগুর জাহিন। সেই সময় ক্যানসারের টিকা উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করার জন্য তাকে এই পুরস্কার দেয়া হয়েছিল।

অধ্যাপক আলি খাদেম হোসেনি

রোগের চিকিৎসায় ন্যানো ও মাইক্রো ফেব্রিকেটেড হাইড্রোজেল নিয়ে কাজ করার জন্য  ২০১৯ সালে মুস্তাফা প্রাইজ পান তিনি। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলসে কাজ করা খাদেম হোসেনি বর্তমানে ‘তেরাসাকি ইন্সটিটিউট ফর বায়োমেডিকেল ইনোভেশন’-এ প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে আছেন। তিনি ইরানের নাগরিক বলে জানিয়েছে মুস্তাফা প্রাইজ কর্তৃপক্ষ।

অধ্যাপক উমরান এস ইনান
আয়নোস্ফিয়ার ও অ্যাটমোস্ফেরিক পদার্থবিদ্যায় অবদানের জন্য তুরস্কের এই অধ্যাপক মুস্তাফা পুরস্কার পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন।

অধ্যাপক হোসেন বাহারভান্ড ও অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ
পারকিনসন্স রোগ ও চোখের চিকিৎসায় স্টেম সেলের ব্যবহার নিয়ে কাজ করার জন্য অধ্যাপক বাহারভান্ড এবং ক্যানসার নির্ণয়ের নতুন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করায় অধ্যাপক আব্দুল আহাদকে ২০১৯ সালে মুস্তাফা প্রাইজ দেয়া হয়। দু’জনই ইরানে কর্মরত আছেন।

২০১৭ সালে দু’জন
দুই কম্পিউটার বিজ্ঞানী তুর্কি-ফরাসি সামি এরোল গেলানবে ও ইরানের অধ্যাপক এম আমিন শোকরোল্লাহিকে ২০১৭ সালে মুস্তাফা প্রাইজ দেয়া হয়। মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ছাড়াও অন্য কোনো দেশে বাস করা মুসলিম গবেষক ও বিজ্ঞানীদের এই পুরস্কার দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়া মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম বিজ্ঞানীদেরও এই পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করার কথা রয়েছে।

একমাত্র নারী
২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো মুস্তাফা প্রাইজ দেয়া হয়। পুরস্কার পাওয়া দু’জনের একজন ছিলেন অধ্যাপক জ্যাকি ই-রু ইং (ছবি)। সিঙ্গাপুরের এই বিজ্ঞানী ন্যানোপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। অন্য বিজয়ী হচ্ছেন জর্ডানের অধ্যাপক ওমর ইয়াগি। তিনিও ন্যানোপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। ইয়াগি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলিতে কাজ করছেন।



আরো সংবাদ