০৯ এপ্রিল ২০২০

কোভিড-১৯ সম্পর্কে যে পাঁচটি বিষয় জানা ও মানা জরুরী

কোভিড-১৯ সম্পর্কে যে পাঁচটি বিষয় জানা ও মানা জরুরী - ছবি : সংগৃহীত

গত বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কোভিড-১৯কে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেছে। এ পরিস্থিতি দেশ ও ব্যক্তিপর্যায়ে পাঁচটি করণীয়ের কথা জানিয়েছে ইউএন নিউজ।

১. মহামারি ও বৈশ্বিক মহামারির মধ্যে পার্থক্য কী?

কোভিড–১৯ রোগকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণার আগপর্যন্ত এটি মহামারি পর্যায়ে ছিল। যার অর্থ হলো, এটি একই সময়ে অনেক মানুষ ও অনেক কমিউনিটির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। আর এই রোগ ছড়িয়ে পড়াকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণার অর্থ, এটি কার্যত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন রোগটির সংক্রমণ ও তীব্রতার পাশাপাশি নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতিতে আক্রান্ত মানুষ ও দেশের সংখ্যা এবং মৃত্যু বাড়তে থাকবে।

২. কোভিড–১৯ নিয়ে আরও বেশি উদ্বিগ্ন হবেন?
কোভিডকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণার অর্থ এই নয় যে এটি আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে, বরং এটি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার একটি স্বীকৃতিমাত্র।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে গুরুত্বের সাথে বলেছেন, এই ভাইরাসের হুমকি বিষয়ে সংস্থাটির মূল্যায়ন ‘বৈশ্বিক মহামারি’ ঘোষণায় বদলায়নি। সংস্থাটির মূল্যায়ন হলো, ‘ডব্লিউএইচও (করোনাভাইরাস মোকাবিলায়) যা করছে, তাতে পরিবর্তন আসছে না এবং দেশগুলোর কী করা উচিত সে বিষয়েও পরিবর্তন আনার প্রয়োজন নেই।’

টেড্রোসের আহ্বান, বিশ্ব যেন ‘বৈশ্বিক মহামারি’ শব্দ নিয়েই পড়ে না থাকে; বরং অন্য পাঁচটি শব্দ বা শব্দগুচ্ছের ওপর মনোযোগ দেয়, যার শুরু ‘পি’ অক্ষর দিয়ে: প্রিভেনশন (প্রতিরোধ), প্রিপেয়ার্ডনেস (প্রস্তুতি), পাবলিক হেলথ (জনস্বাস্থ্য), পলিটিক্যাল লিডারশিপ (রাজনৈতিক নেতৃত্ব) ও পিপল (জনগণ)। তিনি বলেন, সব দেশ চাইলেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা ও তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

৩. দেশগুলো কী করবে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন দেশের প্রতি গুরুত্বের সাথে এই আহ্বান জানিয়েছে যে তারা যেন নিজেদের নাগরিকদের শনাক্ত, পরীক্ষা, চিকিৎসা, প্রয়োজনে বিচ্ছিন্নকরণ ও প্রস্তুত করে। যাতে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যায়।

এ পর্যন্ত ১১৪টি দেশের ১ লাখ ১৮ হাজার লোকের মধ্যে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এই সংক্রমণের ৯০ শতাংশের বেশি ঘটনা কেবল চারটি দেশ—চীন, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি দেশ—চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় সংক্রমণের নতুন ঘটনা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে’। ৮১টি দেশে এখনো এর সংক্রমণ শুরুর খবর জানা যায়নি। এ ছাড়া ৫৭টি দেশে মাত্র ১০ বা এর চেয়ে কম রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

যা–ই হোক, এটি এখনো এক উল্লেখযোগ্য উদ্বেগের বিষয় যে অনেক দেশ দ্রুত যথেষ্ট কিছু করছে না বা জরুরি ও আগ্রাসী তৎপরতা নিচ্ছে না; যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে প্রয়োজনীয়। এমনকি করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণার আগে থেকেই সংস্থাটি এ সংকট মোকাবিলায় দেশগুলোর সরকারের প্রতি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে আসছে। যেখানে শুধু স্বাস্থ্য খাতকে নয়, বরং সব খাতকে যুক্ত করতে হবে। এই ভাইরাসকে দমন ও নিয়ন্ত্রণ করে কয়েকটি দেশ উদাহরণও তৈরি করেছে।

৪. আপনি কী করবেন?
করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বলেছে তা হলো, যে এলাকায় কোভিড–১৯ ছড়িয়ে পড়ছে, আপনি যদি সেখানে না থাকেন বা ওই এলাকা ভ্রমণ করে না আসেন বা সংক্রমণের শিকার ব্যক্তির সংস্পর্শে না গিয়ে থাকেন, তবে আপনার এতে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি কম।

তবে নিঃসন্দেহে আমাদের সবারই নিজেদের ও অন্যদের সুরক্ষার দায়দায়িত্ব রয়েছে। প্রত্যেকের উচিত, ঘন ঘন নিজেদের হাত সাবান–পানি দিয়ে ভালোভাবে ধোয়া; হাঁচি বা কাশি দেওয়া ব্যক্তির কাছ থেকে অন্তত ১ মিটার (৩ ফুটের কিছু বেশি) দূরত্ব বজায় রাখা; শুভেচ্ছা বিনিময়কালে শারীরিক স্পর্শ এড়িয়ে চলা; আমাদের চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা এড়িয়ে চলা; হাঁচি বা কাশির সময় হাতের কনুই বাঁকা করে মুখ ঢাকা বা টিস্যু ব্যবহার করা এবং অসুস্থ বোধ করলে বাড়িতে থাকা ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীর সহায়তা চাওয়া।

এই ভাইরাস সব বয়সের মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হলেও ৬০ বছর বা এর বেশি বয়সী ও স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো নয় (হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, পুরোনো শ্বাসকষ্ট ও ক্যানসারে আক্রান্ত) এমন লোকদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। তাই এই শ্রেণির লোকদের বাড়তি পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

৫. বিশ্বাসযোগ্য তথ্য কোথা থেকে পাবেন?
বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়ার সর্বোত্তম জায়গা হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট www.who.int। এখান থেকে আপনি সমন্বিত পরামর্শ পাবেন। যার মধ্যে থাকবে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো বা কোভিড–১৯ কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে তথ্যও। এই ওয়েবসাইট বর্তমানে দৈনিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করা হচ্ছে। তাই এর ওপর নিয়মিত নজর রাখুন। এ ছাড়া আপনার স্থানীয় ও আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও পরামর্শ নিতে পারেন। সেখানে স্বাস্থ্য–সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট তথ্যের পাশাপাশি আপনার কমিউনিটির তথ্যও থাকতে পারে।

অনলাইনে অনেক কাল্পনিক তথ্য ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এ থেকে সতর্ক থাকতে হবে। সূত্র : ইউএন নিউজ


আরো সংবাদ