০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`

সন্তান নেয়ার ক্ষেত্রে এইডস আক্রান্ত নারীর ঝুঁকি বেশি

সন্তান ধারণে এইডস আক্রান্ত নারীর ঝুঁকি অনেক বেশি - প্রতীকী ছবি

তেত্রিশ বছর বয়সী আয়েশা (ছদ্মনাম) দু’ সন্তান নিয়ে সুখেই ছিলেন। স্বামী থাকেন মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে। প্রায় প্রতি বছরই ১৫ দিন থেকে এক মাসের জন্য বাড়ি আসেন। শেষ এসেছিলেন পাঁচ মাস আগে। বিশ দিন পরিবারের সাথে থেকে আবার চলে যান নিজের কর্মস্থলে। স্বামী যাওয়ার কিছুদিন পরই আয়েশা বুঝতে পারেন তৃতীয়বারের মত মা হতে যাচ্ছেন তিনি। খবরটা শুনে ভালোই ছিলেন। কিন্তু তার কয়েকদিন পর থেকে তার শরীরটা খারাপ করতে থাকে। প্রায়ই রাতে হালকা জ্বর আসে।

শুরুতে খুব বেশি পাত্তা না দিলেও শরীর বেশি খারাপ হয়ে গেলে দেখা করেন তাদের পারিবারিক গাইনোলজিস্টের সাথে। তিনি বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেন। সেসব পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ডাক্তার জানান যে, আয়েশা এইচআইভি এইডসে আক্রান্ত। ডাক্তারের কথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে তার।

ডাক্তার তাকে আশ্বাস দেন এইচআইভি পজিটিভ নারী সন্তান নিতে পারবেন না, এমন কোন কথা নেই। তবে এক্ষেত্রে বেশ ঝুঁকি রয়েছে।

গাইনোকলজিস্ট ডা: মনোয়ারা হক বলেন, একজন এইচআইভি পজিটিভ নারীও সন্তান নিতে পারবেন। তবে ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বেশ কিছু উপায়ে মা থেকে শিশু আক্রান্ত হতে পারে। যেমন গর্ভাবস্থায় শিশু আক্রান্ত পারে। এছাড়া প্রসব ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও শিশু আক্রান্ত হতে পারে। গর্ভাবস্থায় এইচআইভি প্লাসেন্টার মাধ্যমে ভ্রুণে যেতে পারে এবং ভ্রুণকে সংক্রমিত করতে পারে।

তিনি বলেন, প্রসবের সময় শিশু মায়ের রক্ত ও অন্যান্য তরলের মাধ্যমেও ভাইরাসের সংস্পর্শে আসতে পারে। এছাড়া শিশু বুকের দুধ পান করার সময়ও আক্রান্ত হতে পারে। এজন্য বর্তমানে প্রত্যেক নারীকে সন্তান ধারণের সময় অবশ্যই এইচআইভি টেষ্ট করানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারেরা।

তিনি বলেন, এইচআইভি আক্রান্ত নারীদের সন্তান ধারণের সময় এবং এরপর থেকে অবশ্যই বেশি রকমের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আগে থেকে সতর্ক থাকলে ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

ডা: হক বলেন, এ সময় শিশুর সুরক্ষার জন্য অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ চিকিৎসা নিলে শিশুর সংক্রমণের ঝুঁকি এক শতাংশের নিচে নেমে আসে। আর যেসব নারী আগে থেকে এ ভাইরাসে আক্রান্ত এবং সন্তান ধারণের পরিকল্পনা করছেন তাদের অবশ্যই আগেভাগে ডাক্তারের সাথে অলোচনা করার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে চললে এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে এইচআইভি আক্রান্ত নারীও সুস্থ থাকেন। সেক্ষেত্রে শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ কমে আসে।

এছাড়া এইচআইভিতে আক্রান্ত নারী যদি তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

সূত্র: বাসস


আরো সংবাদ


premium cement
নাগরপুরে বন্যার্তদের মাঝে জামায়াতের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ বিজিবি-র‌্যাবের সোর্সকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা মাদক কারবারিদের ইন্দোনেশিয়ায় ইশারা ভাষায় হাফেজ হচ্ছে তারা পদ্মা পাড়ি দিতে এখনো ভোগান্তি, মোটরসাইকেল পার করতে বিড়ম্বনা গরিবের আমানত কোরবানির পশুর চামড়া নষ্ট করা যাবে না : হেফাজত পদ্মা সেতুর সুফল : যানবাহনের চাপ নেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আড়াইহাজারে হাত-পা বাঁধা নারীর লাশ উদ্ধার সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডের জন্য মালিকপক্ষ দায়ী ভারত সরকারের আদেশকে ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ বলে আদালতে গেল টুইটার সিংড়ায় ট্রাক্টরের চাকায় প্রাণ গেল শিশুর শিক্ষা শিক্ষাঙ্গন শিক্ষকতা ও ছাত্ররাজনীতি

সকল