২৩ জানুয়ারি ২০২২, ০৯ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`

ওষুধ সেবনে মুখের ও শরীরের সমস্যা

-

টাইপ-২ ডায়াবেটিস ম্যালিটাস চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ওষুধ ক্লোরপ্রোপামাইড ব্যবহারের কারণে মুখের অভ্যন্তরে লাইকেনয়েড রি-অ্যাকশন দেখা যেতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে ফিনাইটয়েন চিকিৎসার কারণে ফলেটের অভাব এবং মাঝে মাঝে ম্যাক্রোসাইটিক রক্তস্বল্পতা দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া বেশি মাত্রায় অ্যাপথাস আলসার দেখা যায়। মিথোট্রেক্সেট জাতীয় কোষ বিনাশকারী ওষুধ দ্বারা যখন কোনো রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করা হয় তখন মুখের ঘা বা আলসার হয়ে থাকে। এ ছাড়া পেনিসিলামাইন, ক্যাপট্রোপিল এবং অঈঊ ইনহিবিটরস্ দ্বারা চিকিৎসার কারণেও মুখে ঘা বা আলসার দেখা দিতে পারে। ফেনোথিয়াজিনস এর কারণে মাঝে মাঝে ফেসিয়াল পেইন বা মুখে ব্যথা হতে পারে। ফিনাইটয়েন জাতীয় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে জিনজাইভাল হাইপারপ্লাসিয়া হতে পারে। কিন্তু মাঝে মাঝে সাইক্লোসপরিন অথবা নিফিডিপিন এবং কিছু ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার জাতীয় ওষুধ উচ্চ রক্তচাপ চিকিৎসার ওষুধও জিনজাইভাল হাইপারপ্লাসিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ট্রাইসাইক্লিক বিষন্নতানাশক ওষুধ সেবন করলে শুষ্ক মুখের সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত ডাইয়্যুরেটিকস্ -এর কারণেও জেরোসটোমিয়া বা শুষ্ক মুখের সৃষ্টি হয়। শুষ্ক মুখের কারণে র্যামপ্যান্ট ডেন্টাল ক্যারিজ, পেরিওডন্টাল রোগ এবং মুখের সংক্রমণ দেখা দিয়ে থাকে। ফেনোথিয়াজিনস ওষুধ ব্যবহারের কারণে মুখের পিগমেন্টেশন হয়ে থাকে। পেনিসিলামাইন, গ্রাইসিওফুলভিন, ক্যাপট্রোপিল এবং অন্যান্য অঈঊ ইনহিবিটরস্, কার্বিমাজোল ও মেট্রোনিডাজল সেবনের কারণে স্বাদের পরিবর্তন বা মুখের স্বাদ সাময়িকভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ক্লোরোমফেনিক্যাল জাতীয় ওষুধ সেবনের কারণে মুখে ঘা বা আলসার সৃষ্টি হয়ে থাকে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধগুলোর দ্বারা মাঝে মাঝে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়। (ক) জেরোসটোমিয়া বা শুষ্ক মুখ (খ) লালাগ্রন্থির ফুলাভাব (গ) মুখের অভ্যন্তরে লাইকেনয়েড রি-অ্যাকশন (ঘ) জিনজাইভাল হাইপারপ্লাসিয়া (ঙ) মুখের অভ্যন্তরে ঘা।
সিফ্রোফ্লক্সাসিন জাতীয় এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে আপনার রক্তচাপ কমে যেতে পারে। তাই যারা লো ব্লাড প্রেসারের রোগী তাদের ক্ষেত্রে চিন্তা ভাবনা করে সিফ্রোফ্লাক্সাসিন প্রয়োগ করতে হবে। কিছু এন্টিবায়োটিক সেবনের কারণে মুখের অভ্যন্তরে লাইকেন প্ল্যানাস সাদৃশ্য লাইকেনয়েড রি-অ্যাকশন দেখা যেতে পারে। কোলস্টেরল কমানোর জন্য যারা নিয়মিত স্ট্যাটিন জাতীয় ওষুধ সেবন করছেন তাদের মাংসপেশির ব্যথা, দুর্বলতা এবং জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে। জয়েন্টে ব্যথা অথবা মাংসপেশির ব্যথা হলেই ভয় পাবেন না। এ সব স্থানে ব্যথা হলেই করোনার লক্ষণ ভেবে ভুল করবেন না। কোনো বিষয়ে সন্দেহ হলে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন। মাঝে মাঝে স্ট্যাটিন জাতীয় ওষুধ সেবনের কারণে আপনার মাথার চুল পড়ে যেতে পারে। লিভারের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে আপনার মন মতো বা ইচ্ছা মতো স্ট্যাটিন জাতীয় ওষুধ সেবন করবেন না। রক্তস্বল্পতায় আয়রন জাতীয় ওষুধ সেবন করলে কনস্টিপেশনসহ মল কালচে বর্ণের হতে পারে। হেলোপেরিডল জাতীয় ওষুধ সেবন করলে আপনার হাত কাপা বা ট্রিমর দেখা দিতে পারে। দাঁত এবং মুখের চিকিৎসায় এন্টিবায়োটিক ব্যবহার প্রয়োজন হতে পারে। গর্ভকালীন অবস্থায় সব ধরনের এন্টিবায়োটিক সেবন করা যায় না। এ কারণে ওষুধের দোকান থেকে মুখস্ত কোনো এন্টিবায়োটিক সেবন করবেন না। ঋউঅ ক্ল্যারিওথ্রো মাইসিন এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা জারি করেছে। কারণ ক্ল্যারিওথ্রো মাইসিন হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি হৃদরোগের সমস্যাজনিত ঝুঁকি এবং অকাল মৃত্যুর সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে থাকে। ক্যাপোসিস সারকোমা ইমমিউনোসাপ্রেসিভ অবস্থায়ও দেখা যেতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে সাইক্লোসপরিন সেবন করলে এমনটি হতে পারে। তাই সাইক্লোসপরিন সেবনের সময় সতর্ক থাকতে হবে। ভাইরাল হেপাটাইটিস রোগে ভোগার পর প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হলেও ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। কারণ প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের মেটাবলিজম লিভারে হয়ে থাকে। ভাইরাল হেপাটাইটিস অথবা লিভার সিরোসিসের ক্ষেত্রে লিভার অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় থাকে। তাই মনে হলেই প্যারাসিটামল খেতে পারবেন না। কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে হলে ট্রামাডল জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে পারেন। সব ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ কিডনি রোগীদের দেয়া যায় না। মুখস্থ ওষুধ সেবন করলে আপনার কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে।
যারা গ্যাস্টিকে আক্রান্ত এবং যারা নিয়মিত এলকোহল সেবন করেন তাদের ক্ষেত্রে এন.এস.এ.আই.ডি গোত্রভুক্ত ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করলে পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণ হতে পারে। অতএব, ওষুধ সেবন করতে হবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। কারণ ওষুধ সেবনের ফলে মুখ এবং শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ সব বিষয়ে সাধারণ জনগণের আরো সচেতন হতে হবে।
লেখক : ইমপ্রেস ডেন্টাল কেয়ার
ব্যাটালিয়ান বউ বাজার, মিরপুর-১৪, ঢাকা।


আরো সংবাদ


premium cement