২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭ আশ্বিন ১৪২৮, ১৪ সফর ১৪৪৩ হিজরি
`

অক্সিমিটারের সাহায্যে কি নির্ভুল রিডিং পাচ্ছেন কালো চামড়ার রোগীরা

অক্সিমিটারের সাহায্যে কি নির্ভুল রিডিং পাচ্ছেন কালো চামড়ার রোগীরা - ছবি - সংগৃহীত

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছে কীনা সেটা বোঝার জন্য পাল্স অক্সিমিটার নামের যে যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয় - সেটি কালো চামড়ার দেহে ততোটা ভাল কাজ করে না বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন।

ইংল্যান্ডে জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বা এনএইচএস এবং ওষুধ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বলছে, এই যন্ত্রটি কখনো কখনো অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেখাতে পারে।

চিকিৎসকরা বলছেন, এই যন্ত্রটি রক্তের ভেতর দিয়ে আলো প্রবাহিত করে এবং রোগীর ত্বক এই আলো কতোটা শুষে নেবে সেটা ত্বকের পিগমেন্টেশন বা রঙের ওপর নির্ভর করে। তার ওপরে ভিত্তি করেই যন্ত্রটি নির্ধারণ করে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কতো।

এরকম ক্ষেত্রে একবারের রিডিং-এর ওপর নির্ভর না করে বেশ কয়েকবার অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ব্রিটেনে কৃষ্ণাঙ্গ, এশীয় এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর কোভিড রোগীদের পাল্স অক্সিমিটার ব্যবহারের বিষয়ে এই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ছোট্ট এই যন্ত্রটি হাসপাতালে ও বাড়িতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই পাল্স অক্সিমিটারকে অনেক সময় বিবেচনা করা হয় জীবন-রক্ষাকারী যন্ত্র হিসেবে।

কেন নির্ভুল রিডিং পাওয়া যায় না
এনএইচএসের একজন ডাক্তার এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী তাসনিম জারা বলেন, ‘রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কতো এই যন্ত্রটি দিয়ে তা পরিমাপ করা হয়। এই পরিমাপ কতোটা নির্ভুল হবে সেটা কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে: আঙ্গুলে রক্ত চলাচল কেমন, চামড়ার পুরুত্ব কতো, চামড়ার রঙ কেমন, চামড়ার তাপমাত্রা তো ইত্যাদির ওপর।’

তিনি বলেন, গায়ের রঙের ওপর ভিত্তি করে পাল্স অক্সিমিটারের রিডিং কম বেশি আসতে পারে।

‘যাদের ডার্ক স্ক্রিন, অর্থাৎ যাদের চামড়ার রঙ গাঢ়- কালো বা বাদামি- তাদের ক্ষেত্রে পাল্স অক্সিমিটার বেশি রিডিং দেখাতে পারে। অর্থাৎ রক্তে যতটুকু অক্সিজেন আছে তার চেয়েও বেশি দেখাতে পারে- এটা অবশ্যই একটা উদ্বেগের কারণ’ বলেন তিনি।

বাংলাদেশীদের বেলায়
তাহলে কি বাংলাদেশীদের এই পাল্স অক্সিমিটারের ওপর নির্ভর করা কতটা নিরাপদ? জবাবে চিকিৎসকরা বলছেন, সব রিডিং-ই যে ভুল আসবে এরকম নয়।

তাসনিম জারা বলেন, ‘রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা যত কমে আসতে থাকে ততই ভুল রিডিং দেয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। কিন্তু একারণে যন্ত্রটির ব্যবহার বন্ধ করে দেয়া যাবে না। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কতো আছে সে বিষয়ে সম্যক ধারণা থাকার জন্য পাল্স অক্সিমিটারের ব্যবহার অব্যাহত রাখতে হবে।’

‘রোগীর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা খুব বেশি নিচে নেমে যাওয়ার পর যদি সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে এর পরিণতি খারাপ হতে পারে। অক্সিজেনের মাত্রা সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকার কারণে অনেক সময় রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে দেরি হয়। তাই অক্সিজেন মাপতে হবে কিন্তু এর সীমাবদ্ধতার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে,’ বলেন তিনি।

এজন্য চিকিৎসকরা কয়েকবার মাপার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন, কয়েকবার মেপে দেখতে হবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে এবং সেই প্রবণতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

তারা বলছেন, একবারের রিডিং-এর ওপর নির্ভর করলে চলবে না। যদি দেখা যায় যে একেক সময় একেক রকম রিডিং আসছে এবং তার পর সেটা আরো কমে যাচ্ছে - তখনই সতর্ক হতে হবে, প্রয়োজনের চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

নিরবে অক্সিজেন কমে যাওয়া
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে রোগীর রক্তে অক্সিজেনের সরবরাহ অনেক সময় খুব নিরবে বিপজ্জনক মাত্রায় কমে যেতে পারে। রোগী হয়তো সেটা বুঝতেও পারেন না। এর কোনো উপসর্গও থাকে না। একারণে এই অবস্থাকে বলা হয় সাইলেন্ট হাইপোক্সিয়া।

কী কারণে এরকম হয় বিজ্ঞানীরা এখনো সেটা জানতে পারেন নি।

তখন রোগীর অবস্থা হঠাৎ করেই খুব দ্রুত খারাপ হয়ে যেতে পারে। একারণে তার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। অন্যথায় রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি হয়ে যেতে পারে।

কীভাবে মাপতে হবে
চিকিৎসকরা বলছেন, পাল্স অক্সিমিটার ব্যবহারের বিষয়ে বেশ কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে:

১. নেল পালিশ কিম্বা 'ফলস নেল' থাকলে সেসব তুলে ফেলতে হবে।

২. হাতের তাপমাত্রা ঠাণ্ডা রাখা যাবে না। দু'হাতে ঘষে বা অন্য কোনো হাতটিকে উষ্ণ করে তুলতে হবে।

৩. মাপার আগে অন্তত পাঁচ মিনিট বিশ্রাম নিতে হবে।

৪. হাতটিকে বুকের ওপর রাখুন। সেখানে কিছুটা সময় স্থির করে ধরে রাখুন।

৫. আঙ্গুলটিকে এমনভাবে রাখতে হবে যাতে সেখানে ভালো মতো রক্ত চলাচল করতে পারে।

৬. খুব উজ্জ্বল আলোতে মাপলে নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে না।

৭. পাল্স অক্সিমিটার চালু করুন এবং তর্জনীতে ঢুকিয়ে দিন।

৮. সঠিক রিডিং পেতে কিছুক্ষণ সময় লাগে। তাই যন্ত্রটি অন্তত এক মিনিট আঙ্গুলের ডগায় লাগিয়ে রাখুন।

৯. রিডিং একটি কাগজে লিখে রাখুন।

১০. দিনে অন্তত তিনবার মেপে লক্ষ্য করুন পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে।


কতো মাত্রার অক্সিজেন স্বাভাবিক
রক্তে অক্সিজেনের স্বাভাবিক মাত্রা ৯৫% থেকে ১০০%।

চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা গেছে তার অক্সিজেনের মাত্রা ৭০ শতাংশেরও নিচে নেমে গেছে যা খুব বিপদজনক।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদফতর সবশেষ যে গাইডলাইন প্রকাশ করেছে সে অনুসারে অক্সিজেনের স্যাচুরেশন যদি ৯৪ অথবা তার বেশি থাকে - তাহলে শঙ্কার কিছু নেই।

কিন্তু এর নিচে নেমে গেলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কতটুকু থাকবে সেটা নির্ভর করে ফুসফুসে অক্সিজেনের আদান-প্রদানের ওপর।

এই ফুসফুসেই আক্রমণ করে করোনাভাইরাস। তখন ফুসফুসের ক্ষতি হয়। ঠিক মতো কাজ করতে পারে না।

তখন রক্তে অক্সিজেনের যে স্বাভাবিক মাত্রা থাকার কথা সেটা কমে যেতে থাকে।

অনেক সময় দেখা গেছে, রোগীর শ্বাসকষ্ট ছাড়াই তার দেহে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যেতে পারে। কোন উপসর্গ ছাড়াই কেন কমতে থাকে বিজ্ঞানীদের কাছে সেটা এখনো এক রহস্য।

আর একারণেই পাল্স অক্সিমিটার দিয়ে রক্তের অক্সিজেন মাপা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই যন্ত্রটি ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।

সূত্র : বিবিসি



আরো সংবাদ


খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা আরো এক বছর চায় বিজিএমইএ মুস্তাফিজদের দারুণ বোলিংয়ে রোমাঞ্চকর লড়াই জিতল রাজস্থান সাবমেরিন ইস্যু : ‘ক্রুদ্ধ’ ম্যাক্রঁ কি বেশি ঝুঁকি নিয়ে ফেললেন? গাড়িচালক মালেকের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দুদকের আফগানিস্তানে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ হার এড়ালো বার্সেলোনা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের ২৮৩৯ পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে : ওবায়দুল কাদের মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শিথিল খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে আপস করা যাবে না: বিএনপি

সকল