২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১, ১৪ শাওয়াল ১৪৪৫
`

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে ভ্যাকসিন

-

করোনা যেন শেষ হয়েও হচ্ছে না। এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা পৃথিবীর ১০৪টি দেশে অতি সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট (ই.১.৬১৭.২) ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ঈউঈ (ঈবহঃবৎং ভড়ৎ উরংবধংব ঈড়হঃৎড়ষ ধহফ চৎবাবহঃরড়হ)-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনার যে সংক্রমণ হচ্ছে তার শতকরা ৫০ ভাগের ওপর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের জন্য। এদিকে বাংলাদেশেও করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় করোনার যতগুলো ভ্যাকসিন বাজারে আছে সেগুলো ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা দেবে কিনা তা নিয়েও অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এই শঙ্কাটি মূলত সামনে এসেছে যখন মডার্না ও ফাইজার তাদের ২টি ভ্যাকসিনের ডোজ নেয়ার পরও তৃতীয় বুস্টার ডোজ নেয়ার পক্ষে পরামর্শ দিচ্ছে। এমন ঘোষণার পর ঋউঅ এবং ঘওঐ এর বিজ্ঞানীরা মতামত দিয়েছে যে, এখন পর্যন্ত দুটি ডোজই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টসহ অন্যান্য করোনা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর।
সম্প্রতি ইংল্যান্ড ও কানাডায় করা দুটি পৃথক গবেষণায় দেখা যায়, দুটি ডোজ নেয়া ফাইজারের ভ্যাকসিন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে যথাক্রমে শতকরা ৭৯ ও ৮৮ ভাগ কার্যকর। এখানে মনে রাখা প্রয়োজন যে, ফাইজার এর ভ্যাকসিন করোনার প্রথম দিকের ভ্যারিয়েন্টগুলোর এর বিরুদ্ধে শতকরা ৯৫ ভাগ কার্যকর।
এদিকে ইসরাইলের গরহরংঃৎু ড়ভ ঐবধষঃয-একটি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে ঘোষণা করেছে যে, করোনার ভ্যাকসিন নেয়া শতকরা ৬৪ ভাগ মানুষে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সম্পূর্ণ করোনা প্রতিরোধে সক্ষম। বাকি ৩৬ ভাগ মানুষে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ইনফেকশন কিছুটা লক্ষণ প্রকাশ করলেও, শতকরা ৯৩ ভাগ ভ্যাকসিন নেয়া মানুষে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট গুরুতর কোনো প্রভাব ফেলে না।
শুধু মডার্না বা ফাইজার নয়, জনসন অ্যান্ড জনসন এবং অক্সফোর্ড/অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনগুলোও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে গুরুতর করোনা প্রতিরোধে শতকরা ৯০ ভাগের উপর কার্যকর।
সব গবেষণার সারাংশ করলে দেখা যায়, প্রচলিত করোনা ভ্যাকসিনগুলো করোনা মহামারীর প্রথম দিকের ভ্যারিয়েন্টগুলোর তুলনায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে সামান্য দুর্বল হলেও ভ্যাকসিনগুলো ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট মাধ্যমে গুরুতর করোনা প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী। অঙ্কের হিসাবে, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ভ্যাকসিন নেয়া ব্যক্তিদের থেকে ভ্যাকসিন না নেয়া ব্যক্তিদের মাঝে প্রায় ২.৫ গুণ বেশি।
তাহলে কি ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নেয়া ব্যক্তিদের আরেকটি বুস্টার ডোজ নিতে হবে?
এই মুহূর্তে এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়া মুশকিল হলেও আরেকটি বুস্টার ডোজ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা উপেক্ষা করা যাবে না। কারণ এই মুহূর্তে পৃথিবীজুড়ে করোনা সংক্রমণের যেই স্পাইকটি দেখা যাচ্ছে তা মূলত এই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট এর কারণেই। সবার মাঝে করোনা ভ্যাকসিন নিশ্চিৎ করা গেলে পরিষ্কারভাবেই এই সংক্রমণটি এড়ানো যেত।
সম্প্রতি ডঐঙ (ডড়ৎষফ ঐবধষঃয ঙৎমধহরুধঃরড়হ) লেমডা নামে করোনার আরেকটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট সম্পর্কে বিশ্বকে সতর্ক করেছে। কারণ চিলিতে করা একটি গবেষণায় দেখা যায়, রহধপঃরাধঃবফ করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন ঈড়ৎড়হধঠধপ নেয়া ব্যক্তিদের দেহে তৈরি হওয়া নিউট্রালাইজিং এন্টিবডির কার্যকারিতা লেমডা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৩ ভাগ। এই গবেষণার ফলাফল আশঙ্কাজনক।
এমতাবস্থায়, ফাইজার, মডার্না, জনসন অ্যান্ড জনসন এবং অক্সফোর্ড/অ্যাস্ট্রাজেনেকাসহ অন্যান্য করোনা ভ্যাকসিন লেমডা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর তা নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে।
করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট আবির্ভাবের অন্যতম কারণ ভ্যাকসিন না পাওয়া অথবা ভ্যাকসিন না নেয়া জনগণ। যেহেতু করোনা ভ্যাকসিনগুলো সব ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর তাই সবার জন্য ভ্যাকসিন নিশ্চিৎ করতে পারলে নতুন ভ্যারিয়েন্টের উদ্ভব বন্ধ হবে আর সবাই করোনামুক্ত পৃথিবী ফিরে পাবে।
লেখক : স্টাফ সায়েন্টিস্ট অ্যান্ড ইমিউনোলজিস্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ, যুক্তরাষ্ট্র


আরো সংবাদ



premium cement