৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

দুধের উপকারিতা কি, কেন নিয়মিত দুধ খাওয়া আবশ্যক?

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস
-

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস বৈশ্বিক খাদ্য হিসেবে দুধের গুরুত্ব তুলে ধরার লক্ষ্যে জাতিসঙ্ঘের অঙ্গসংগঠন খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ঋঅঙ) ঘোষিত একটি আন্তর্জাতিক দিবস। ২০০১ সাল থেকে প্রতি বছর ১ জুন দিবসটি পালিত হয়। ২০১৬ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশে দুধ দিবস উদযাপিত হয়। বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দুধের গুরুত্ব তুলে ধরতে এই দিবস আয়োজনের শুরু হয়েছিল।
দুধ ও দুধজাতীয় পণ্য সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। করোনাভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাবকালে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো নিয়মিত প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাবারে চাহিদা পুরণে দুধের মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অবশ্য প্রয়োজন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার () পরামর্শ অনুযায়ী একজন মানুষের দৈনিক গড়ে ২৫০ মিলিলিটার (১ গ্রাম) দুধ পান করা উচিত। কিন্তু তার চেয়ে অনেক কম দুধ পান করে বাংলাদেশের মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ দেশের মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ দুধ পান করে।
ছোটবেলা থেকেই জেনে আসছি ‘দুধ একটি আদর্শ খাবার’। আমরা যতগুলো পুষ্টিকর বা স্বাস্থ্যকর খাবার দেখি সবগুলোর মধ্যে এর উপকারিতা সবচেয়ে বেশি। এতে আছে প্রচুর পুষ্টিগুণ পানি, আমিষ, ক্যালসিয়াম পটাশিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২, নিয়ামিন, রিবোফ্লাঝি অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিড এবং অ্যামাইনো এসিড ইত্যাদি।
দুধ শরীরকে ভালো ও সুস্থ রাখার পাশাপাশি, শরীরে শক্তি জোগান এবং ক্লান্তি দূর করে। মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। দাঁত ও হাত মজবুত রাখে। মাংসপেশি গঠনে ভূমিকা রাখে। চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে কম চর্বিযুক্ত দুধ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। পাকস্থলী পরিষ্কার রাখে এবং হজম শক্তি বাড়ায়। এ ছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ছোট শিশুর পাশাপাশি বাড়তি বয়সের শিশুদের জন্য দুধ অত্যাবশ্যক। নিয়মিত দুধ খাওয়ালে তাদের শরির ভালো থাকবে, মন প্রফুল্ল ও সতেজ থাকবে, ব্রেইন ভাল থাকবে এবং পড়াশোনা ঠিকভাবে করতে পারবে। সর্বোপরি এই সময় দেহের সার্বিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়ার লক্ষ্যে প্রতি দিন ২ গ্লাস করে দুধ খাওয়া প্রয়োজন।
দুধ ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি-এর সবচেয়ে বড় উৎস। এই দুটি পুষ্টি উপাদান হাড়কে শক্তিশালী করতে এবং নমনীয়তা প্রতিরোধ করতে অবশ্য প্রয়োজনীয়। বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তির হাড়ের ক্ষয় রোধ করার জন্য দুধ খাওয়া আবশ্যক। সরাসরি দুধ অনেকে হজম করতে না পারলে কম চর্বিযুক্ত দুধ, কম চর্বিযুক্ত দুধের দই নিয়মিত গ্রহণ করলে ভালো থাকবে। দুধে আছে প্রচুর পটাশিয়াম যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। অষ্টিও আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধ করতে দুধ আবশ্যক। আর্থ্রাইটিস ফেয়ার অ্যান্ড রিসার্চে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে যে নিয়মিত দুধ পান হাড়ের জয়েন্টগুলোর ক্যালসিফিকেশন প্রতিরোধ করতে পারে।
বয়স্ক মানুষের পেশি দুর্বল হয়ে যায়। সুস্থতার জন্য দুধ আবশ্যক।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন দুধে আছে প্রচুর ক্যালরি, কোলেস্টেরল ও চর্বি যা হৃদরোগ এবং উচ্চরক্তচাপের জন্যও ভালো নয়।
প্রকৃত দুধের চাহিদা ব্যক্তি চাহিদার সাথে সম্পর্কিত। যেমন যাদের (আইবিএম) ইবিটেবল বাউয়েল সিনড্রোম আছে তাদের জন্য ল্যাকটোজ বিহীন দুধ। যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ আছে তাদের জন্য খড়ি ভধঃ বা কম চর্বির দুধ। আবার অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ ক্যালসিয়ামযুক্ত দুধ অস্টিও সিরোসিস প্রতিরোধ করতে পারে যা কিনা চল্লিশ ঊর্ধ্ব বয়স্কদের জন্য ভালো।
মাড়িকে ভালো রাখার জন্য দুধের বিকল্প নেই। তবে অতিরিক্ত দুধ সেবন নানাবিধ সমস্যাও তৈরি করতে পারে। সে জন্য ব্যক্তিবিশেষের চাহিদা অনুযায়ী পুষ্টিবিদের পরামর্শে নিয়মিত দুধ পান করা ও সুস্বাস্থ্য বজায় রেখে দীর্ঘজীবন লাভ ও দীর্ঘদিন কর্মক্ষম থাকা প্রয়োজন।
লেখক : ডেপুটি চিফ নিউট্রেশন অফিসার
ইব্রাহীম জেনারেল হাসপাতাল ওডিসিইসি
যুগ্ম সম্পাদক
ডায়াবেটিস নিউট্রিশন সোসাইটি অব বাংলাদেশ


আরো সংবাদ


premium cement