১৭ জানুয়ারি ২০২১
`
গবেষণা প্রতিবেদন

একবার নাকে ড্রপ দিলে দু’দিন করোনা থেকে রক্ষা

একবার নাকে ড্রপ দিলে দু’দিন করোনা থেকে রক্ষা - ছবি : সংগৃহীত

করোনা রোধে বিজ্ঞানীরা নতুন এক ড্রপ বের করতে যাচ্ছেন। একবার নাকে দেয়া হলে তা পরের দু’দিন ব্যবহারকারীকে করোনা থেকে রক্ষা করতে সক্ষম। এমন একটি নাকের ড্রপ খুব শিগগিরই বাজারে আসছে। ব্রিটেনে এই ড্রপটি তৈরি করার রাসায়নিক উপাদান ইতোমধ্যে অনুমোদন করা হয়েছে। ল্যাবের গবেষণায় এটা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে, এই স্প্রে শরীরে করোনাভাইরাস সংখ্যা বৃদ্ধিতে বাধা দিতে পারে।

এ বিষয়ের প্রকাশিত একটি গবেষণা রিপোর্টের মূল লেখক ড. রিচার্ড মোকস বলেন, এই স্প্রে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকা পণ্য থেকে তৈরি করা হয়েছে এবং এটা ইতোমধ্যে নানা ধরনের ওষুধ ও খাদ্যপণ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই স্প্রেটি আমাদের নিজেদের গবেষণা অনুসারে তৈরি করা হয়েছে ওষুধ ও খাদ্যপণ্যের রাসায়নিক থেকে। ড. মোকস বলেন, উপযুক্ত অংশীদার (বাণিজ্যিক বিনিয়োগকারী) পেলে আমরা সপ্তাহের মধ্যে মানুষের ব্যবহারের জন্য স্প্রেটি তৈরি করতে সক্ষম হবো।’

স্প্রেটিতে পলিসেকারাইড গাম (এক ধরনের আঠালো পদার্থ) মিশিয়ে দেয়া হবে এবং স্প্রে করা হলে নাকের ভেতরে চারপাশে কুয়াশার মতো বিন্দু বিন্দু পানির মতো ছড়িয়ে থাকবে। স্প্রেটির রাসায়নিক উপাদান করোনাভাইরাসকে হয় খাঁচার মধ্যে বন্দী করে ফেলবে অথবা নাকের বাইরে বের করে দেবে। ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের গবেষকেরা বলেন, এটা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি অথবা ক্লাসরুমে অথবা স্বাস্থ্যকর্মী অথবা বিমানে ব্যবহার করা যাবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, যেখানে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে সেখানে করোনা প্রতিরোধে প্রচলিত ব্যবস্থা যেমন : ফেস মাস্ক ব্যবহার, হাত ধোয়া এবং একজন থেকে আরেকজনের নির্দিষ্ট দূরত্ব (সোস্যাল ডিস্ট্যান্স) বজায় রাখার পাশাপাশি ব্যবহার করা যাবে। ড. মোকস বলেন, তবে করোনা প্রতিরোধের প্রচলিত ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করা যাবে না। প্রচলিত ব্যবস্থায় এগুলোই ভাইরাস প্রতিরোধে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। স্প্রে করার পরও ওই প্রচলিত ব্যবস্থাকে বাদ দেয়া যাবে না। তিনি বলেন, এই স্প্রেটিকে দ্বিতীয় স্তরের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে ব্যবহার করতে হবে। ডেইলি মেইল তাদের রিপোর্টে বলেছে, ‘বায়োআরএক্সআইভি’ সার্ভারে এ সংক্রান্ত গবেষণার একটি প্রি প্রিন্ট পাওয়া যাবে।

এ গবেষণা ও স্প্রে সম্বন্ধে ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের সেলোলার মাইক্রোবায়োলজির সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইমন ক্লার্ক ডেইলি মেইলকে বলেন, কেউ কেউ একই ধরনের স্প্রে কমন কোল্ডের (সর্দিজ্বর) বিরুদ্ধে ব্যবহার করে থাকেন। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসটি ফুসফুসে পৌঁছার পরই কেবল লক্ষণ প্রকাশ করে থাকে। কিন্তু এই স্প্রেটি শ্বাসনালীর এত গভীরে প্রচুর পরিমাণে পৌঁছাতে পারবে না।’ তিনি বলেন, ‘এই স্প্রেটি ঘন ঘন ব্যবহার করতে হবে যদি এটা সত্যিই কার্যকর হয়ে থাকে।’

ড. সাইমন এ ব্যাপারে যোগ করেন, করোনাভাইরাস শুধু নাক দিয়ে নয় মুখ ও চোখ দিয়েও দেহে প্রবেশ করে। সে ক্ষেত্রে এই স্প্রে কোনো কাজ করবে না। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরাও একই রকম স্প্রে তৈরির প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।’

মেইল বলছে, স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা বলছেন, খাদ্যপণ্যে একই রকমের রাসায়নিক না পেলে তারা স্প্রেটি তৈরি করতে চিকেন (মুরগি) অ্যান্টিবডি ব্যবহার করছেন। তারা বলেন, মুরগিও মানুষের মতো করে সংক্রমণের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে এবং ডিমের মধ্যে সংক্রমণের উচ্চমাত্রার এ ধরনের অ্যান্টিবডি রয়েছে।



আরো সংবাদ