০৯ আগস্ট ২০২০

হোম আইসোলেশনে যে কাজগুলি অবশ্যই করবেন

হোম আইসোলেশনে যে কাজগুলি অবশ্যই করবেন - সংগৃহিত
24tkt

বিশেষ কোনও উপসর্গ ছাড়াই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে বা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, এমন কারোর সংস্পর্শে এলে সেই ব্যক্তিকে বাড়িতেই আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনাভাইরাস যে হারে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে গুরুতর অসুস্থদের জন্য হাসপাতালের বেড খালি রাখতে হোম আইসোলেশনের কোনও বিকল্প নেই বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে হোম আইসোলেশনে থাকতে হলেও কয়েকটি সাবধানতা মেনে চলতেই হবে। অসুস্থ বোধ করলেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। বাড়ির আরামে থাকলেও নিজেকে বাড়ির বাকি সদস্যদের থেকে যতটা সম্ভব বিচ্ছিন্ন করে রাখতে হবে। এছাড়া বারবার হাত ধোওয়া, রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ পর্যবেক্ষণের মতো কাজ তো আছেই। আইসোলেশনে থাকতে হলে অনেকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। আইসোলেশনে থাকার মানসিক চাপ সামলাতে এই সময় যে কাজগুলি করতে পারেন, তার একটা তালিকা বানিয়ে দেওয়া হল।

পুরো দিনের রুটিন
আইসোলেশনে থাকার সময় সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত কী কী করবেন তার একটি রুটিন তৈরি করে নিন এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করুন। খাওয়া, ঘুম, শরীরচর্চা, বিনোদন কখন কতটা সময় ধরে করবেন তার আলাদা আলাদা তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, কোনও কাজ যেটি এর আগে সময়ের অভাবে করতে পারেননি তা এই সময় করে ফেলতে পারেন।

মনোবল ধরে রাখুন
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পেলে অনেকেই ঘাবড়ে যান। মনোবল হারিয়ে ফেলেন। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, মনোবল না হারালে এবং মানসিকভাবে শক্ত থাকাই এই অসুখ থেকে সেরে ওঠার প্রাথমিক শর্ত। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইসোলেশনে থাকার সময় কোভিড সংক্রান্ত খবর না দেখে বরং মন ভালো থাকে এমন সংবাদ পড়া উচিত। আইসোলেশনে থাকাকালীন মানসিক চাপ ও অসুখের ভয় কমাতে বই পড়ে, সিনেমা দেখে সময় কাটাতে পারেন।

পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন
চিকিৎসকরা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে ঘুমের বিকল্প নেই। সেক্ষেত্রে আইসোলেশনের থাকার সময় একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের আট ঘণ্টা ঘুমানো দরকার। সেই সঙ্গে দুপুরে এক ঘণ্টা ঘুমিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার কারণে অনেকেরই শরীর অনেক সময় বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে তার বেশি ঘুমোনোর দরকার হতে পারে। তবে আইসোলেশনে যেহেতু একটি ঘরের মধ্যেই বন্দি থাকতে হয় তাই বিশ্রাম নেওয়ার জন্য সারাক্ষণ যাতে বিছানাতেই থাকা না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
কোভিডে আক্রান্ত হলে সব ধরনের স্বাভাবিক খাবার বেশি বেশি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এ সময় পুষ্টিকর খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হবে যাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সবল হয়। কোভিডের উপসর্গ থাকলে বেশি করে গরম জল, চা, স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে গরম জল বা চা খেলেই কোভিড নিরাময় হয় এমন কোনও প্রমাণ নেই।

ওয়ার্কআউট
আইসোলেশনে থাকার সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে শরীর চর্চা করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে এ সময় ভারী কোনও ব্যায়াম না করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। শারীরিক অবস্থা বুঝে শরীরটাকে সচল রাখার জন্য হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে। তবে যেহেতু এই সময় গায়ে জ্বর থাকে তাই ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া ফুসফুসকে সুস্থ ও সবল রাখতে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করারও পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: এই সময়


আরো সংবাদ