২৭ মে ২০২০

করোনার বিরুদ্ধে যক্ষ্মার টিকা কি কার্যকর?

করোনা প্রতিরোধে যক্ষ্মার টিকার সফলতা দেখছেন মার্কিন গবেষকরা। - ছবি : ডয়চে ভেলে

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একটি গবেষণা শেষ করেছেন। তারা জানতে পেরেছেন, যে দেশগুলোতে যক্ষ্মার টিকা দেয়া বাধ্যতামূলক, সেসব দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু কম হচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজির (এনওয়াইআইটি) গবেষকরা বলছেন, করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাওয়া ইটালিতে কখনো সার্বজনীনভাবে যক্ষার টিকা (বিসিজি) দেয়া হয়নি। সেখানে শুধুমাত্র যাদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হয় তাদের এই টিকা দেয়া হয়।

সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্তের দেশ যুক্তরাষ্ট্রেও ইটালির মতোই ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে বিসিজি টিকা দেয়া হয়।

এনওয়াইআইটির গবেষণাটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অন্য গবেষকদের পর্যালোচনার জন্য স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে সেটি রাখা হয়েছে।

যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়তে ১৯২০-এর দশকে বিসিজি টিকা আবিষ্কার করা হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্বের ১৩ কোটির বেশি শিশুকে প্রতিবছর বিসিজি টিকা দেয়া হচ্ছে।

সাধারণত একটি টিকা একটি নির্দিষ্ট প্যাথোজেনের বিরুদ্ধে কার্যকর হয়ে থাকে। অর্থাৎ কাউকে কোনো রোগের টিকা দিলে সেটি শুধু নির্দিষ্ট ঐ রোগের বিরুদ্ধে শরীরে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলে, যাকে বলে ‘অ্যাডাপ্টিভ ইমিউন সিস্টেম’।

কিন্তু অনেক বিজ্ঞানী মনে করছেন, বিসিজি টিকা হয়তো এর চেয়ে আরেকটু বেশি কার্যকর। তাদের ধারণা, এই টিকা হয়তো যক্ষ্মার জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করার পাশাপাশি ব্যাক্তির ‘ইনেট ইমিউন সিস্টেম'ও শক্তিশালী করতে পারে। এটি সেই ইমিউন সিস্টেম, যা শরীরে কোনো ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ঢোকার সাথে সাথে মেরে ফেলার চেষ্টা করে।

এ কারণে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসে করোনা মোকাবিলায় বিসিজি টিকা কতখানি কার্যকর তা জানার চেষ্টা চলছে। এই টিকা করোনা আক্রান্ত রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত লক্ষণ কমাতে পারে কিনা তা জানতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা।

অস্ট্রেলিয়ার প্রায় চার হাজার হাসপাতাল কর্মীর উপর এই টিকার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে।

বিসিজি টিকার কার্যকারিতা জানতে কয়েক মাস লেগে যাবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

সূত্র : ডয়চে ভেলে


আরো সংবাদ